August 9, 2026, 10:30 am

পেকুয়ায় বেতার শিল্পীর জমি দখলে নিতে উত্তেজনা

পেকুয়ায় বেতার শিল্পীর জমি দখলে নিতে উত্তেজনা

পেকুয়া প্রতিনিধি:

পেকুয়ায় জাতীয় বেতারের কন্ঠশিল্পী ইকবাল হায়দারের মালিকানাধীন জমি দখলে নিতে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এর জের ধরে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ধারিয়াখালী গ্রামে দু’পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ওই স্থান পরিদর্শন করেছেন। পেকুয়া থানার এ, এস,আই মো: তৈয়ব হোসেন ও এ,এস,আই ইমাম হোসেনসহ সঙ্গীয় ফোর্স ৯ জুন (মঙ্গলবার) দুপুরের দিকে ধারিয়াখালীতে পৌছেন। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দখলবাজ চক্রের ভাড়াটে বহিরাগত লোকজন সটকে পড়ে। তবে পুলিশ ওই স্থান ত্যাগ করার পর আধাঘন্টার ব্যবধানে ভাড়াটে লোকজন ফের কন্ঠশিল্পীর মালিকানাধীন ভোগ দখলীয় পৈত্রিক জমিতে অনুপ্রবেশ করে। এ সময় বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের নিয়মিত কন্ঠশিল্পী ইকবাল হায়দারের বড় ভাই মোসাদ্দেক হায়দার চৌধুরী এদেরকে কাজ না করতে নিষেধ করে। বয়োবৃদ্ধ মোসাদ্দেক হায়দার চৌধুরী জানান, আমি কাজ না করতে নিষেধ করছিলাম। কিন্তু দলবদ্ধ সন্ত্রাসীরা আমাকে প্রাণনাশ চেষ্টা চালায়। আমি দ্রæত স্থান ত্যাগ না করলে নিশ্চিত আমাকে প্রাণে হত্যাসহ অপহরণ চেষ্টা চালাত। পুলিশ এসে যাওয়ার পর পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে আমি পুলিশ কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। তবে সন্ত্রাসী হামলায় আমি ও আমার পরিবার চরম আতংক গ্রস্ত। স্থানীয় সুত্র জানায়, মগনামা মৌজার ৬.১৪ একর জমি নিয়ে মগনামা ইউনিয়নের ধারিয়াখালী গ্রামে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারন করেছে। জমির মালিক ওই এলাকার প্রখ্যাত জমিদার রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী। তিনি ইন্তেকাল করেন। তার অবর্তমানে ৪ ছেলে ও ওয়ারিশরা ওই জমি যৌথভাবে ভোগ দখলে আছেন। রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীর ছেলে ইকবাল হায়দার চৌধুরী চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রখ্যাত কন্ঠশিল্পী। তিনি বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে নিয়মিত গান করে থাকেন। এ ছাড়া পেশায় একজন ব্যাংকারও। সুত্র জানায়, সম্প্রতি ধারিয়াখালী গ্রামে ইকবাল হায়দার গংদের ভোগদখলীয় জমি দখলের প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছে। পেকুয়া সদর ইউনিয়নের গোঁয়াখালী মাতবরবাড়ীর দলিলুর রহমানের ছেলে শফিউল আলম ধারিয়াখালীতে ইকবাল হায়দার গংদের জমিতে অনুপ্রবেশ চেষ্টা করছে। ইকবাল হায়দার চৌধুরী ও তার অপর ২ ভাই এলাকার বাইরে কর্মস্থলে থাকেন। জমির দেখভাল করছেন ইকবাল হায়দারের বড় ভাই মোসাদ্দেক হায়দার চৌধুরী। জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে শফিউল আলমের অনুগত ভাড়াটে লোকজন পেকুয়া সদর থেকে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন মগনামায় ধারিয়াখালীতে অনুপ্রবেশ করছে। ৭ দিন আগে ইকবাল হায়দারের বড় ভাই মোসাদ্দেক হায়দার চৌধুরী পেকুয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করে। ৬.১৪ একর জমির জবর দখল ঠেকাতে ওই ব্যক্তি আইনগত পদক্ষেপ নেন। ৯ জুন সকালে শফিউল আলম ও তার ভাইপো নুরুল কাইয়ুমের ছেলে সোহেল চৌধুরী, অপর ভাইপো নুরুল হুদার ছেলে পারভেজসহ ৭/৮ জনের লোকজন ধারিয়াখালীতে যান। এ সময় মোসাদ্দেক হায়দার চৌধুরীর মালিকানাধীন চিংড়ি ঘেরের জমিতে একটি ঝুপড়ি ঘর তৈরীর কাজ চলমান রাখে। জবর দখলের কুমানসে ভাড়াটে লোকজন মগনামার রুপাইখালের নিকট মোসাদ্দেক হায়দারের জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছিল। পেকুয়া থানার পুলিশ ওই স্থান পরিদর্শন করেছে। মোসাদ্দেক হায়দার চৌধুরী জানান, আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তারা খুবই ভয়ংকর লোক। আমাকে পথে ঘাটে হামলা ও প্রাণনাশ চেষ্টা চালাচ্ছে। গত ১ মাস আগে ধারিয়াখালী রাস্তাতে সোহেল চৌধুরী আমাকে একা পেয়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করেছে। বেতারের কন্ঠশিল্পী ও মগনামা ইউনিয়নের ধারিয়াখালীর গ্রামের মৃত রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীর ছেলে বিশিষ্ট কন্ঠশিল্পী, গীতিকার ও সুরকার ইকবাল হায়দার জানান, আমরা ভয়ে এলাকায় যেতে পারছিনা। আত্মসম্মানবোধ পর্যন্ত বিনষ্ট হচ্ছে সন্ত্রাসীদের কারনে। আমার পিতার আজীবনের দখলীয় জমি এখন তারা জবর দখলের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা ৩ ভাই গ্রামে থাকিনা। ১ ভাই আছে তাকে অত্যাচার ও নির্যাতন চালানো হচ্ছে। পেকুয়া থানার এ,এস,আই মো: তৈয়ব হোসেন জানান, আমরা গিয়েছিলাম। আসলে কাগজপত্র না দেখে কিছুই বলা যাচ্ছেনা। তবে আমরা যাওয়ার পর বিপক্ষের লোকজন সেখান থেকে সটকে পড়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com