August 9, 2026, 8:39 am
সিনিয়র সাংবাদিক মাইনউদ্দিন হাসান শাহেদে’র টাইমলাইল থেকে নেয়া
ছবি কথা বলে। ছবি লজ্জা দেয়। ছবি আনন্দ ও উৎসাহ জোগায়। ভালো মন্দ প্রশ্ন জাগায়। সত্যের সন্ধান দেয়। যেকোন কিছুর স্বরূপ উম্মোচনে সহযোগিতা করে। গতকাল এমনই বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুবাদে মানুষ দেখতে পেয়েছে। আর এ ছবিগুলোতে ধান কাটার নামে নেতানেত্রীদের কান্ডজ্ঞান দেখে মানুষ অবাক হয়েছে। তাদের ফটোসেশন নাটকের দৃশ্য দেখে ব্যতিত ও বিস্মৃিত না হয়ে পারলাম না। পারে তো বটে আমাদের নেতারা। হায়রে রাজনীতি। বাহ্ এরাই তো আবার দেশের নীতি নিধার্রক। আমজনতার সঙ্গে এমন প্রতারণা ও তামাশা না করলে কি আপনাদের ঘুম হয়না। এখন আপনারা আপনাদের ছবি ও ভিডিও গুলো দেখেন। নিশ্চয় সুস্থ ও জ্ঞান বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ হলে আপনারাও লজ্জা পাবেন।
আমরা এসব দেখতে দেখতে অভ্যস্থ। একটা ঘটনা শেষ হতে না হতেই আরেকটার উদ্ভব। কয়দিন ধরে ত্রান নিয়ে মানুষের মধ্যে হইচই। মধ্যে আরও কত ঘটনা। এরপর গনস্বাস্থ্যের কিট গ্রহন করা নিয়ে বিতর্ক , তারপর লকডাউনের মধ্যে গার্মেন্টস খুলে দেয়া- প্রতিনিয়ত এসব দেখে মানুষ বন্দীজীবন পার করছে। সবর্শেষ গত দুই দিন ধান কাটা নিয়ে বেশ আলোচিত হলেন কয়েক জন নেতানেত্রী। কথা হলো যেকোন দূর্যোগ সামলাতে রাজনৈতিক দল ও সেচ্ছাসেবী সংগঠন দূর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াবেন- এটা স্বাভাবিক। এটি মানবিকতা ও মানবতার বিষয়। যুগে যুগে তাই মানুষ দেখে আসছে ও শিখছে। এ ক্ষেত্রে যারা রাষ্ট্র চালায় এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন তাদের ভূমিকা অগ্রগামী থাকা আবশ্যক।
আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের পাশে দাঁড়ার জন্য দলের নেতাকর্মীদের আহবান জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর সারাদেশে ছাত্রলীগ ধান কাটায় বেশ সাড়া পেলে। গনমাধ্যমেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের এসব খবর ছাপায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ে। বাহবা পায় ছাত্রলীগ। এতে আশার সঞ্চার হয়, সাম্প্রতিক সময়ে নানা দূর্নামের কারণে সংবাদের শিরোনাম হওয়া ছাত্রলীগ ভালো কাজের জন্যও শিরোনাম হয়েছে। এতে অন্যান্য ছাত্র ও যুবসংগঠনও কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছে। কৃষকেরাও বেশ উৎফুল্ল। ধান ঘরে তুলতে তাদের সমস্যা পোহাতে হবে না।
যাই হোক প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ও নির্দেশনা মানতে নেতানেত্রীরাও কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছেন ভালো কথা। কিন্তু আপনারা করলেনটা কি? একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, টাঙ্গাইলের একজন সরকার দলের সাংসদ কৃষকের কাঁচা ধানই কেটে ফেললেন। আর তার সাঙ্গপাঙ্গরা ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিলেন। মাননীয় সাংসদ ফটোসেশন করতে গিয়ে আপনি কি কান্ড ঘটালেন তা এখন নিজেও একটু ফেসবুকে গিয়ে দেখেন। হয়তো কৃষকদের প্রতি অতি দয়ামায়ার কারণে আপনি একদিন কৃষিমন্ত্রীও হতে পারেন! আর নেত্রীদের ধানকাটার ছবি তোলার জন্য তো রীতিমত একটা হুলস্থূল কান্ড। আমাদের নেত্রীরা ভালোই নাটক করেছেন। কয়দিন ধরে করোনার কারনে নাকি ভারতের স্টার জলসার নাটকের সিরিজ বন্ধ রয়েছে। আর এ দৃশ্যগুলো ভিডিও করে ওই টিভি কর্তৃপক্ষকে পাঠানো যেতে পারে।
কিন্তু কেন? রাজনীতি তো নাটকের অংশ হতে পারে না। রাজনীতিবিদরা তো নাটক করতে পারেন না। তারা সাধারণ জনগনের সাথে প্রতারণা ও তামাশা করতে পারেন না।এসব করার তো অনেক মানুষ আছে। আসলে বিষয় হচ্ছে, রাজনীতি
অযোগ্য,তৈলবর্ধনকারী,ধান্ধাবাজ ও নাটকবাজ মানুষের হাতে চলে গেছে। তাই তো গ্রামের সহজ সরল কৃষকের সঙ্গেও তারা নাটক করতে দ্বিধা করছেন না। আমি মনেকরি, এই গুটিকয়েক নেতানেত্রীর অতি উৎসাহী কর্মকান্ডের কারণে এই দূর্যোগ মূর্হুতে ধানকাটার মতো একটা ভালো উদ্যোগকে তারা প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছেন। এ ক্ষেত্রে তারা বিবেক বুদ্ধিহীন ও নির্লজ্জ কর্মকান্ডের পরিচয় দিয়েছেন। এ জন্যে ব্যক্তি বিশেষ দায়ী। রাজনীতি নয়। আমরা যে যেভাবে দেখি না কেন, বিশ্লেষন করি না কেন,যেভাবে মূল্যায়ন করিনা কেন- রাজনীতিই একটা রাষ্ট্রের ভিত্তি ও ভরসাস্থল। সবকিছুর পরও দেশ চালাবে রাজনীতিবিদরা। তাই রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে আরও গ্রহনযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য আচরন প্রত্যাশা করে মানুষ।
