August 9, 2026, 9:55 am

চকরিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে নুরুল আবচারের ফার্ণিচারের দোকান ভাংচুর; থানায় এজাহার

চকরিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে নুরুল আবচারের ফার্ণিচারের দোকান ভাংচুর; থানায় এজাহার

নিজস্ব প্রতিনিধি, চকরিয়াঃ

পূর্ব শত্রুতার জেরে চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হাজিয়াং এলাকার মরহুম মৌলানা ইদ্রিস আহমদ খাঁর পুত্র নুরুল আবচারের ফার্ণিচারের দোকান ভাংচুর করেছে বশির আহমদের নেতৃত্বে কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী। এসময় সন্ত্রাসীরা দোকানে অর্ডার নেয়া বেশকিছু নতুন ফার্ণিচার ভেঙ্গে ফেলে এবং নিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে ২৩ এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক ১১:৩০ ঘটিকায়। এবিষয়ে দোকানের মালিক নুরুল আবচার বাদী হয়ে ২৪ এপ্রিল চকরিয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হাজিয়াং সীমান্তে উত্তর লোটনীস্থ সেলিমের মুদি দোকানের সামনে অবস্থিত বিশিষ্ট গাছ ব্যবসায়ী নুরুল আবচারের ফার্ণিচারের দোকান। দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে নুরুল আবচার ঐ ফার্ণিচারের দোকানে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। গত ২২ এপ্রিল নুরুল আবচারের পিতা মৌলানা ইদ্রিস আহমদ মৃত্যুবরণ করেন। সেই সুযোগে ঠিক এর পরের দিন ফার্ণিচারের দোকান সংলগ্ন কিছু স্থানীয় পরধনলোভী ও ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী বর্তমানে করোনার মহামারিতে সরকারের আইনকে অবজ্ঞা করে ২৩ এপ্রিল দিবাগত রাতে মালিকের অনুপস্থিতিতে বশির আহমদের নেতৃত্বে ১০/১২ জন ভাড়াটিয়া লোক নিয়ে হঠাৎ ব্যবসা প্রতিষ্টানে হামলা চালিয়ে সেমিপাকা বিল্ডিং ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয় যার বর্তমান মূল্য ৪,০০,০০০ (চার লক্ষ) টাকা এবং অর্ডারকৃত বেশ কছু নতুন ফার্ণিচার নিয়ে যায়, যার মূল্য ৮,০০,০০০ (আট লক্ষ) টাকা।

এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, নুরুল আবচারের দোকানে দিন দিন ব্যবসার উন্নতি দেখে স্থানীয় ভূমিদস্যু বশির আহমদ (৪৫), পিতা- মৃত ইয়াকুব মেস্ত্রী এবং বশির আহমদের ছেলে মো. পারভেজ(২৩) ও মো. সাইয়েদ(২০) গণ পূর্ব শত্রুতার জেরে টাকা দিয়ে সন্ত্রাসী ভাড়া করে ঐ প্রতিষ্ঠানে হামলা করে প্রায় ১২ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করে।

এবিষয়ে দোকানের মালিক নুরুল আবচার প্রতিবেদককে বলেন- হাজিয়াং সীমান্তে উত্তর লোটনীস্থ সেলিমের মুদি দোকানের সামনে আমার মরহুম শ্রদ্ধেয় পিতা মৌলানা ইদ্রিস আহমদের ১ শতক জায়গার ভেতর ব্যবসার উদ্দেশ্যে একটি ফার্ণিচারের দোকান নির্মাণ করি। সেখানে অদ্যবধি আমার ব্যবসা চলমান রয়েছে। আমার ব্যবসায় দিন দিন উন্নতি দেখে স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী বেশকিছুদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে আমার ব্যবসা প্রতিষ্টান ধ্বংস করার জন্য পরিকল্পনা করে আসছিল। আমার বাবার মৃত্যুর পরের দিন রাতে আমার ব্যবসা প্রতিষ্টান ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয় এবং আমার বেশকিছু ফার্ণিচার নিয়ে যায়। স্থানীয় লোকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। গিয়ে দেখি আমার ব্যবসা প্রতিষ্টান ভেঙ্গে পড়ে আছে। আমরা ঘটনা জানতে চাওয়া মাত্র উপরে উল্লেখিত সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালাতে আসে। আমরা সংখ্যায় কম হওয়ায় সাথে সাথে চকরিয়া থানায় বিষয়টি অবহিত করি। অল্প সময়ের মধ্যে চকরিয়া থাকা থেকে একদল পুলিশ ঘটনাস্থন পরিদর্শন করতে আসে। কিন্তু পুলিশ আসার আগেই সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসীদের আচার আচরণের বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে বেশ কয়েকবার অবহিত করেছিলাম। কিন্তু তাঁরা আমাকে কোনো ধরণের সামাধান দিতে পারেন নি। পরে বাধ্য হয়ে আমি নিজে থানায় গিয়ে একটি এজাহার দায়ের করি।

ঘটনার বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি এবং বাদীর পক্ষ থেকে একটি এজাহার পেয়েছি। দ্রুত তদন্ত পূর্বক অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বেশকিছু লোক প্রতিবেদককে জানায়, যারা নুরুল আবচারের ব্যবসা প্রতিষ্টানে হামলা চালিয়েছে, তাদের পুরো পরিবার বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে এমন কোনো অপরাধ নাই যা তারা করে না। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান স্থানীয়রা।

এজাহারে যাদেরকে আসামী করা হয়েছেঃ ১) বশির আহমদ (৪৫), পিতা- মৃত ইয়াকুব মেস্ত্রী ২) মো. পারভেজ(২৩), পিতা- বশির আহমদ ও মো. সাইয়েদ(২০), পিতা- বশির আহমদ, সর্বসাং কোচপাড়া, ৮ নং ওয়ার্ড, চকরিয়া পৌরসভা, চকরিয়া, কক্সবাজার সহ অজ্ঞাত নামা আরো ১০/১২ জন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com