August 9, 2026, 9:33 am
ডিএন২৪ ডেস্কঃ
সারা দেশের ৩৭টি জেলার প্রায় ২ হাজার ৫০০ গণপাঠাগারের প্রতিনিধিত্বমূলক ‘বাংলাদেশ বেসরকারি গণপাঠাগার পরিষদ’-এর আয়োজনে গণপাঠাগার উন্নয়নে ২০ দফা দাবি বাস্তবায়নে মানববন্ধন করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে নয়টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে পাঠাগার উদ্যোক্তারা সরকারের কাছে ২০ দফা দাবি তুলে ধরেন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পাঠাগার উদ্যোক্তারা মানববন্ধনে বক্তব্য দেন।
সংগঠনের মুখপাত্র ‘পাঠাগার আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও কুমিল্লার বিদ্যাসাগর উন্মুক্ত পাঠাগারের সভাপতি মো. ইমাম হোসাইন ২০ দফা দাবি তুলে ধরে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হলে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে তিনি যুবসমাজের পাশাপাশি সমাজের প্রত্যেক শ্রেণির মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে আহ্বান জানান।
সংগঠনের অন্যতম নেতা নরসিংদী নেহাব গণপাঠাগারের সভাপতি ও ঢাকা বারের আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মনির বলেন, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র ও গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত প্রায় ১ হাজার ৩০০ গণপাঠাগারের অস্তিত্ব রক্ষায় ও সার্বিক উন্নয়নে জরুরি ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রয়োজন। এই পাঠাগারগুলো নীরবে-নিভৃতে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছে, যা ছাত্র ও যুবসমাজকে মাদক ও অপসংস্কৃতির চর্চা থেকে রক্ষাসহ সমাজে শিক্ষার সম্পূরক চাহিদা মেটাতে বিশেষভাবে অবদান রাখছে। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে গণগ্রন্থাগারগুলোর দিকে নজর দিতে হবে।
সংগঠনটির নারীনেত্রী পাঠাগার আন্দোলনের নির্বাহী সভাপতি শাকিলা সরকার বলেন, জ্ঞানের আলো বিতরণের চেয়ে উত্তম আর কোনো কাজ হতে পারে না, যা দ্বারা সমগ্র মানবজাতিকে সুনাগরিক হিসেবে সুপথে পরিচালিত করা সম্ভব।
বেসরকারি গণগ্রন্থাগারগুলোর সার্বিক উন্নয়ন বিবেচনা করে মানববন্ধনে তুলে ধরা দাবিগুলোর মধ্য অন্যতম হলো—
১. গণগ্রন্থাগারগুলো সার্বক্ষণিক পাঠক সেবা ও অন্যান্য সেবা প্রদান করার জন্য একজন লাইব্রেরিয়ানের সম্মানী সরকারিভাবে প্রদান।
২. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’–এর স্বপ্নপূরণে এবং প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিটি গ্রন্থাগারে সরকারিভাবে ‘ইন্টারনেট কর্নার’ নির্মাণ।
৩. স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিটি বেসরকারি গণগ্রন্থাগারে বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে সরকারিভাবে ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার’ স্থাপন।
৪. যেসব পাঠাগারের নিজস্ব জায়গা রয়েছে, তাদের সরকারিভাবে একটি ‘লাইব্রেরি ভবন’ করে দেওয়া।
৫. প্রতিবছর সরকারিভাবে জেলা, বিভাগ, জাতীয় পর্যায়ে বেসরকারি গণপাঠাগারগুলোর একজন করে প্রতিনিধি নিয়ে সম্মেলন আয়োজন করা।
৬. সরকারিভাবে অনুদানের বই নির্বাচন কমিটিতে ‘বাংলাদেশ বেসরকারি গণপাঠাগার পরিষদ’–এর একজন প্রতিনিধি রাখার জন্য জোরালোভাবে দাবি জানাচ্ছি। এতে গণপাঠাগারগুলো অঞ্চলভিত্তিক পাঠকদের পছন্দ ও রুচিসম্মত বই প্রাপ্তিতে সুবিধা হবে।
৭. খেলাধুলা বিকাশে পৃষ্ঠপোষকতা দরকার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানবসমাজে এসেছে বৈচিত্র্য। তাই গণগ্রন্থাগার হতে পারে সেই বিকাশের অন্যতম হাতিয়ার। মফস্বলের অধিকাংশ পাঠাগারের পাঠক ও সাধারণ সদস্যদের মধ্যে সাপ্তাহিক বা মাসিক কার্যক্রমের মধ্যে ক্রীড়া বিষয়টি ইদানীং বেশ লক্ষণীয়। যার মাধ্যমে যুবসমাজকে সহজে মাদকসহ বিভিন্ন অপসংস্কৃতি হাত থেকে রক্ষা যায়। তাই পাঠাগারে এক সেট করে ক্রীড়াসামগ্রী সরকারিভাবে প্রদানের জন্য দাবি জানানো হয় মানববন্ধনে।
৮. বর্তমানে মফস্বলের পাঠাগারগুলো শিল্প-সংস্কৃতির চর্চায় অন্যতম ভূমিকা রাখছে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যায়ে। তাই প্রতি সপ্তাহে এক দিন পাঠাগারের সদস্যদের সংগীতচর্চার জন্য বাদ্যযন্ত্র প্রদান করা।
৯. দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন বা উপজেলাভিত্তিক ১টি বেসরকারি গণপাঠাগারকে ‘মডেল লাইব্রেরি’ করার জন্য জোরালো প্রস্তাব করছি, যেখান বিভিন্ন শ্রেণির বইয়ের একটি সমৃদ্ধ সংগ্রহ থাকবে। ইন্টারনেট কর্নার, বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ কর্নারসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে।
১০. জাতীয় গ্রন্থ ও গ্রন্থাগার নীতি প্রণয়নের আগে বেশ কয়েকভাবে বা ৮টি বিভাগীয় পর্যায় বেসরকারি গণপাঠাগারের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে ‘লেটস টক’ আয়োজন করে তাদের মতামত গ্রহণ করা। যেন প্রকৃত প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটে সংশ্লিষ্ট নীতিমালায়।
১১. প্রতিবছর বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোর উন্নয়নে যে সামান্য পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ হয়, তা নিতান্তই যত সামান্য। তা দিয়ে দৃষ্টিনন্দিত বা সন্তোষজনক উন্নয়ন তো দূরের কথা, একটি ভালো মানের চেয়ার-টেবিল ক্রয় করাও দুরূহ ব্যাপার। তাই প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের মহাসড়কের শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলার সোনার মানুষ তৈরির কারখানা ও আলোর বাতিঘর হিসেবে খ্যাত পাঠাগারগুলোর টেকসই উন্নয়নে আরও বহুলাংশে বাজেট বৃদ্ধি সময়ের দাবি।
১২. জেলা পর্যায় ‘জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস’ উদ্যাপনে জেলা প্রশাসন ও জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের সব আয়োজনে সংশ্লিষ্ট জেলার বেসরকারি পাঠাগারগুলোকে সম্পৃক্ত রাখা। এতে পাঠাগারগুলো আরও বেশি উজ্জীবিত হবে।
১৩. প্রতিবছর যে পরিমাণ বই দেওয়া হয়, তার পরিবর্তে বিশেষ উদ্যোগের আওতায় এক বছর বা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের প্রতিটি অস্তিত্বমান পাঠাগারে ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য দলিল’ এবং ‘বাংলাপিডিয়া সমগ্র’ প্রদান করা, এতে পাঠাগারগুলো সমৃদ্ধ হবে।
১৪. দেশের বেসরকারি পাঠাগারগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নে স্থানীয় প্রশাসন থেকে, বিশেষ করে জেলা পরিষদের ফান্ড, উপজেলা পরিষদের ফান্ড, ইউনিয়ন পরিষদের ১% ফান্ড ও জেলা প্রশাসক জি আর ফান্ড থেকে যেকোনো পাঠাগার যদি তার অবকাঠামোগত উন্নয়নে আবেদন করার মাধ্যমে সহযোগিতা চায়, তা সঠিক যাচাইপূর্বক যেন অস্তিত্বমান ও প্রদানযোগ্য পাঠাগারগুলোকে সহযোগিতা করা হয়। সে জন্য সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে দেশের সব জেলা পর্যায়ে ওই সব দপ্তরে বার্তা প্রেরণ।