August 9, 2026, 10:29 am

মিয়া মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীনে‘র জানাজা ও দাফন সম্পন্ন

মিয়া মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীনে‘র জানাজা ও দাফন সম্পন্ন

এম, রিদুয়ানুল হক:

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীন (বীর বিক্রম)’র দাফন সম্পন্ন হয়েছে। 

১৯ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) আছরের নামাজের পর গ্রামের বাড়ী লোহাগাড়া উপজেলার চুনতির সীরত ময়দানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার ও সালাম প্রদান করা হয়।

এরপর লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে কবরস্থানে নিয়ে আসা হয়। বিকেল ৫টায় পশ্চিম চুনতি সিকদার পাড়াস্থ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে দুপুরে মরদেহ ঢাকা থেকে হেলিকপ্টার যোগে চুনতিতে আনা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন চুনতি হাকিমিয়া কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস আলহাজ্ব মাওলানা শাহ আলম।

 জানাজায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংসদ অধ্যাপক ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা প্রসাশক মুহাম্ম ইলিয়াস হোসেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী,চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান এমএ সালাম, লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুল,সাতকানিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ মোতাবেল সিআইপি, লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌসিফ আহমেদ,সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোবারক হোসেন,লোহাগাড়া থানার ওসি জাকের হোসাইন মাহমুদ সহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা।উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বিকাল ৫টা ১৩ মিনিটে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন বীর বিক্রম। বুধবার বিকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে আনা হয়। এসময় অস্থায়ী তৈরি হেলিপ্যাড মাঠের আশেপাশে তার লাশ দেখতে হাজারো মানুষ ভিড় জমায়।

তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী

মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে যখন জীবনমৃত্যুর শঙ্কায়— ঠিক ওই সময়েও শোনা যাচ্ছিল প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব হিসেবে চতুর্থ দফায় পুনঃনিয়োগের কথা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমনই আস্থাভাজন ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন। সবসময় তিনি থাকতেন প্রধানমন্ত্রীর ছায়াসঙ্গী হিসেবে।
 

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। প্রচারবিমুখ ও সদালাপী এই মানুষটি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খুবই আস্থাভাজন। এ কারণে ২০১১ সালের ২১ নভেম্বর থেকে টানা তিনবার তিনি প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিবের দায়িত্ব পান। ১৯৬০ সালের ১ জানুয়ারি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি গ্রামে জন্ম তাঁর। পিতা ইছহাক মিয়া ও মা মেহেরুন্নিছা।

জয়নুল আবেদীনের পড়ালেখার হাতেখড়ি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চুনতি হাকিমিয়া কামিল মাদ্রাসায়। সপ্তম শ্রেণিতে তিনি ভর্তি হন ফৌজদারহাট ক্যাডেট স্কুল এন্ড কলেজে। ১৯৭৫ সালে এসএসসি এবং ১৯৭৭ সালে এইচএসসি পাশ করেন তিনি। ১৯৭৮ সালে যোগ দেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে। দুই বছর বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন।

 বিশৃঙ্খল,বিপদ সংকুল ও গোলযোগপূর্ণ পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৯৯৫-৯৬ সালে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর সাহসী নেতৃত্ব, বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতার কারণে অনেক জটিল ও কঠিন সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব হয়েছিল। দেশের প্রতি নির্ভয় আত্মত্যাগ, পাহাড়সম মানসিক দৃঢ়তা ও দেশসেবার মহান ব্রত সবকিছু বিবেচনায় তাকে মর্যাদাপূর্ণ ‘বীর বিক্রম’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এরপর তাঁকে সহকারি সামরিক সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়।
 

মেধাবী সেনা কর্মকর্তা হিসেবে তিনি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে অংশগ্রহণ করেন। শান্তিরক্ষী মিশন থেকে ফিরে আসার পর জয়নুল আবেদীনকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই বছরের এপ্রিল মাসে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি পান তিনি। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের মধ্যেও তিনি সময় পেলেই ছুটে যেতেন তাঁর জন্মস্থান লোহাগাড়ার চুনতি গ্রামে।

লোহাগাড়া উপজেলার যেসব দুর্গম রাস্তায় মানুষের চলাচলে অসুবিধা হত সেখানে তিনি সেতু ও পাকা রাস্তা নির্মাণ করেন। মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতিতে মায়ের নামে প্রতিষ্ঠা করেন মেহেরুন্নিছা প্রাথমিক বিদ্যালয়। চুনতি মহিলা ডিগ্রি কলেজের জাতীয়করণেও মূল ভূমিকা রেখেছেন তিনি। চুনতির পানত্রিশায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন বীর বিক্রম জয়নাল আবেদীন উচ্চ বিদ্যালয়। ঢাকা-কক্সবাজার মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত চুনতির অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বাবার নামে ইছহাক মিয়া সড়ক নির্মাণ করেছেন। যা চুনতির সঙ্গে পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর যোগাযোগে অনন্য ভূমিকা রাখছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com