August 9, 2026, 6:38 am
এম, রিদুয়ানুল হক:
যারা চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের পেছনে লেগেছেন, তাদেরকে বলছি- চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের সুনাম ছিল, আছে এবং থাকবে। লেখার শুরুতে পাঠকদের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি এই জন্যে যে, মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। আমি কয়েকটা বাক্য লেখতে গিয়ে হয়ত অজান্তে ভুল করতে পারি। ভুল হলে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিবেন। বিপরীতে ধন্যবাদ দিতে না পারলেও চোগলকুরি করবেন না, প্লিজ।
বেশ কিছুদিন যাবৎ লক্ষ্য করছি, কিছু নাচোড় বান্দা এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে ইতিহাস রচনা করেই যাচ্ছেন। জানি না, কার কথা কতটুকু বাস্তব সম্মত। তবে হ্যাঁ, সত্যকে মিথ্যার সাথে চালিয়ে দিবেন না। এটা মারাত্মক অপরাধ। মনে রাখবেন, সত্য সমাগত আর মিথ্যা বিতাড়িত। অনেকে বলতে শুনেছি- কোরক বিদ্যাপীঠের প্রতি কিছু লোকের কুনজর পড়েছে। আমিও তাদের সাথে একমত। বর্তমানে কিছু লোক এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি এমনভাবে মনগড়া নেগেটিভ প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন, মনে হবে এই প্রতিষ্ঠানটি অভিভাবকহীন। একটি কথা না বললে নই, প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত যতসব প্রতিষ্ঠান সুনামের সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চেষ্ঠা করে, তখনই শুরু হয় অপপ্রচার এবং কুদৃষ্টি।
চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠ শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠান নয়, একটি শিক্ষার কারখানা। যে কারখানা থেকে ইতিমধ্যে উৎপাদন হয়েছে অসংখ্য ডাক্তার, শিক্ষক, ব্যারিষ্টার, জজ, ইউএনও, এসিল্যান্ড, উকিল, অধ্যাপক, ডিসি, এসপি এমনকি সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পর্যন্ত। এছাড়াও বিদেশের মাটিতে উচ্চ পর্যায়ে কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছে অসংখ্যা সাবেক শিক্ষার্থী। শুধু তাই নয়, প্রতিবছর সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পরীক্ষায় সর্বোচ্চ সম্মান নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি। যার কারণে কিছু লোক প্রতিনিয়ত এই কারখানার প্রতি কুদৃষ্টি দিয়েই যাচ্ছেন। কিন্তু কেন?
একটিবারও কি আপনি/আপনারা খেয়াল করে দেখেছেন কুদৃষ্টির পরিণাম??? তাহলে শুনুন, কুদৃষ্টি মানুষকে কল্পনাবিলাসী করে তোলে। দৃষ্টি হেফাজত না করে যদি কোনো সুন্দর কিছুর প্রতি নজর যায়, তবে তা নিয়ে মানুষের মনে তৈরি হয় কল্পনা। কল্পনার রাজ্যে মানুষ এমন কোনো হীন অপরাধ বা চিন্তা নাই, যা সে করে না। ফলে কাল্পনিকভাবেই মানুষের মাঝে তৈরি হয় চরম ও জঘন্য গোনাহের কাজ। কুদৃষ্টিকে বাহন বানিয়ে শয়তান মানুষের মন-মস্তিষ্কে হানা দেয়। একটা সময় মানুষ কল্পনাপ্রসূত চিন্তাা-চেতনা বাস্তবায়নে আগ্রাসী হয়ে ওঠে। এ কুদৃষ্টি মানুষকে বিধ্বংসী খারাপ চরিত্র থেকে শুরু করে শিরকের দিকে ধাবিত করে।
ইতিমধ্যে অনেকটা প্রমাণিত যে, ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন করার ষড়যন্ত্র করছে চিহ্নিত একটি কুচক্রীমহল। এলাকার কিছু গালবাজকে ব্যবহার করে, কিছু মানুষকে ভুক্তভোগী সাজিয়ে জনসম্মুখে এই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ধ্বংস করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে এই চক্রটি। এসব অশুভ শক্তিকে কঠোর হাতে প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানের সুযোগ্য ম্যানেজিং কমিটি, সুদক্ষ শিক্ষক মন্ডলী, মেধাবী শিক্ষার্থী এবং সচেতন অভিভাবক মন্ডলী। পাশাপাশি রয়েছেন অসংখ্যা শিক্ষানুরাগী ও সুধীজন।
সম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠানের অন্তরালে বেশকিছু অভিযোগ প্রচারিত হচ্ছে। যদি অভিযোগগুলো সত্যি হয়, তাহলে আশা করছি অতিসত্বর এবিষয়ে জরুরি সিদ্ধান্ত নিবেন সুযোগ্য ম্যানেজিং কমিটি। সর্বোপরি সিদ্ধান্ত নিবেন অত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ জাফর আলম বিএ (অনার্স) এমএ। যারা এই প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে নেগেটিভ প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তাদেরকে সবিনয়ে অনুরোধ করবো, আপনারা অপপ্রচার বন্ধ করুন। কারণ এই প্রতিষ্ঠানটি কোনো ব্যক্তির নয়, আপনাদের আমাদের। এই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করছে আপনাদের/আমাদের সন্তানেরা। এ বিষয়ে একটু চিন্তা করবেন কি? চিন্তা করার প্রয়োজন মনে করছি।
পরিশেষে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত আবেদন, সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে, সত্য-মিথ্যা পর্যালোচনা করে, যারা এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদের বিষয়ে জরুরী সিদ্ধান্ত নিবেন। আর এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি ঐ চক্রের সাথে বা দূর্নীতির সাথে সরাসরি জড়িত প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দেরি না করে তাদের বিষয়ে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কারণে এই প্রতিষ্ঠনের সুনাম ক্ষুন্ন হতে পারে না।
সর্বোপরি আবারো বলছি, চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের সুনাম ছিল, আছে এবং থাকবে। এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার অধিকার কারো নেই।
লেখক: এম, রিদুয়ানুল হক
শিক্ষক, সংবাদকর্মী ও মানবাধিকারকর্মী