August 9, 2026, 10:29 am

সোনাগাজীর আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলার রায় আজ

সোনাগাজীর আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলার রায় আজ

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান (রাফি) হত্যা মামলার রায় ঘোষণা আজ বৃহস্পতিবার। আজ ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদের আদালতে এ রায় ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে। রায়কে ঘিরে সোনাগাজী ও ফেনী সদর উপজেলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

নুসরাতের পরিবারের প্রত্যাশা, এ মামলায় তাঁরা ন্যায়বিচার পাবেন। আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে।

ফেনী জজকোর্টের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. হাফেজ আহাম্মদ বলেন, ‘নুসরাত হত্যার রায়ের দিকে সারা দেশের মানুষ তাকিয়ে আছে। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে সমর্থ হয়েছে। প্রত্যেক আসামির সর্বোচ্চ সাজা হবে বলে আমরা আশাবাদী।’

বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, নুসরাতদের বাড়ি পাহারা দিচ্ছেন বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত লোকজন রেজিস্টার খাতায় সই করে ওই বাড়িতে ঢোকার অনুমতি পাচ্ছেন। গত এপ্রিল থেকে তিনজন পুলিশ সদস্য ওই বাড়ি পাহারা দিয়ে আসছিলেন। বুধবার সকাল থেকে আরও নয়জন সদস্য বাড়ানো হয়।

রায় ঘোষণাকে ঘিরে ফেনী সদর ও সোনাগাজীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশের নিরাপত্তাচৌকি বসানো হয়েছে। এ ছাড়া র‍্যাব সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। রায় ঘোষণাকে ঘিরে যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে এ রকম নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় তাঁর মা শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় মামলা করলে অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় বোরকা পরা পাঁচ দুর্বৃত্ত। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ নুসরাতের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। গত ২৮ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শেষে মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে ৮৬৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে। মাত্র ৬১ কার্যদিবসে মামলার কার্যক্রম শেষ হয়। আর মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ করতে পিবিআইয়ের লাগে ৩৩ কার্যদিবস।
ফেনীর পুলিশ সুপার খোন্দকার মো. নুরুন্নবী বলেন, ‘রায় ঘোষণার দিন আদালত চত্বরে সরকারি গাড়ি ছাড়া কোনো যানবাহন ঢুকতে পারবে না। আমরা সেখানে তিন স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

এ মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত ১৬ আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com