August 31, 2026, 9:55 am

‍শ্রীপুরে লাল-সবুজে রঙিন পাঠশালা

‍শ্রীপুরে লাল-সবুজে রঙিন পাঠশালা

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার স্কুলগুলো জাতীয় পতাকার লাল-সবুজ রঙে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। সবুজ বনের ভেতরে মাঝে মাঝে উঁকি দিচ্ছে লাল-সবুজ স্কুলগুলো। এমন পাঠশালা পেয়ে শিশু শিক্ষার্থীরা আনন্দিত। একখণ্ড লাল ও সবুজের মিশ্রণ স্কুলগুলো পথচারীদেরও বিমোহিত করছে।
গত এক মাসে শ্রীপুরের বরমী ইউনিয়নের গাড়ারন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেলিহাটী ইউনিয়নের বেকাসাহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনসহ প্রায় সব বিদ্যালয় ভবন পতাকার রঙে রাঙিয়ে তোলা হয়েছে। অনেক স্কুলে এখনও চলছে রঙের কাজ।
বেকাসাহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিথিলা জানায়, কখন স্কুলে যাওয়ার সময় হবে সেই অপেক্ষায় থাকি।
পতাকার রঙে রাঙানো স্কুলতার সহপাঠী হোসনে আরা হিমু বলে, ‘আগেও স্কুলে ভালো লাগতো। তবে এখন বেশি ভালো লাগে। আগে স্কুলে বিশেষ কোনও রঙ ছিল না। এখন স্কুলে গিয়ে যেদিকে তাকাই সেদিকেই যেন জাতীয় পতাকা দেখতে পাই।’
একই স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আকিবুল হাসান বলে, ‘জাতীয় পতাকার রঙে এখন আমাদের পাঠশালা রঙিন।’
লাল-সবুজ রঙ করা স্কুলে শিক্ষার্থীরা
পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলে, ‘আমাদের স্কুল আমাদের রাষ্ট্রীয় ঠিকানা।’
ফজলুল হক নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘জাতীয় পতাকার রঙে বিদ্যালয়ের রঙ হওয়ায় শিশুদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনাকে সমৃদ্ধ করছে।’
পতাকার রঙে রাঙানো স্কুলবেকাসাহরা বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা পরিষদের সভাপতি মোস্তফা কামাল বলেন, ‘শিশুদের পাশাপাশি অভিভাবক ও এলাকাবাসীরাও ভীষণ খুশি।’
গাড়ারন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আব্দুল লতিফ মণ্ডল বলেন, জাতীয় পতাকার রঙ কোমলমতি শিশুদের বেশি আকৃষ্ট করে। শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করে তুলতে এটি একটি অনন্য উদ্যোগ।
গাড়ারন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সাজেদা পারভীন বলেন, ‘জাতীয় পাতাকার রঙে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রাঙানোর ফলে শিশুরা নতুন রূপ পেয়েছে স্কুল। আর শিক্ষার্থীরা নতুন পরিবেশ পেয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত।’
রঙ করার কাজ চলছেবেকাসাহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ‘বিদ্যালয়ের রঙের পাশাপাশি এর পরিবেশটাও রঙিন হয়ে উঠেছে। পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এ বিদ্যালয়টিও লাল সবুজের রঙে নতুন ও উন্নত পরিবেশ পেয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার মুগ্ধ।’
শিক্ষক কবির হোসেন বলেন, এলাকাবাসী দেখছে তাদের সন্তানরা এখন লাল সবুজ ভবনে পড়ালেখা করছে। স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও পতাকার চেতনা কোমলমতি শিশুদের আকৃষ্ট করেছে।
লাল-সবুজ রঙ করা স্কুলশ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, শ্রীপুর উপজেলায় মোট ১৬৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। আগে বিদ্যালয়গুলো একেকটি একেক রঙে রাঙানো ছিল। লাল সবুজের পতাকার রঙে বিদ্যালয় ভবন রাঙানের উদ্দেশ্য হলো স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক জাতীয় পতাকার মাধ্যমে শিশুদের মনে দেশপ্রেম জাগানোয় উৎসাহিত করা। এপ্রিল থেকে ভবনে রঙ করা শুরু হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব স্কুলে রঙের কাজ শেষ হবে। প্রতিবছর বিদ্যালয় উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য কিছু বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ বছর ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ বরাদ্দের বাইরেও এলাকার সুধীজনের আর্থিক সহায়তায় বিদ্যালয়গুলো জাতীয় পতাকার রঙে রাঙানো হচ্ছে।
গাজীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, মনে দেশপ্রেম থাকলেও তার একটি বহিঃপ্রকাশ প্রয়োজন। আর সে প্রয়োজন থেকেই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গঠনে লাল-সবুজের রঙে সরকারি শিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রাঙানো হচ্ছে। এতে শিশুরা বিদ্যালয়ে যাতায়াতে উদ্বুদ্ধ এবং উপস্থিতির হার বাড়ছে। তাছাড়া শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে দেশপ্রেম লালনের একটি বিষয় স্থায়ী হয়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com