August 9, 2026, 8:38 am
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ে বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল-ভুটানের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনাময় পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায় অবস্থিত বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর। আর ভারতের সীমান্ত ঘেঁষে এঁকে বেঁকে চলেছে পিচ ঢালা মসৃণ সড়ক। সড়কটি এশিয়ান হাইওয়ের আওতায়। এরপরই তেতুলিয়া-বাংলাবান্ধা সড়কের প্রায় ৩ কিলোমিটার পথজুড়ে পাথরের রাজ্য। ভারত ও ভুটান থেকে আমদানি করা বড় বড় পাথর ট্রাকের মাধ্যমে এখানে আনা হচ্ছে। এরপর সেই পাথরের ট্রাকটি রাস্তার দু পাশের মালিকদের জমিতে শ্রমিকদের মাধ্যমে নামানো হয়। সেই পাথর ভেঙে ব্যবহারের উপযোগী করছেন হাজারো শ্রমিক। তাদের দেখে চেনার উপায় নেই। ধুলো-বালিতে একাকার। আমদানিকৃত বড় আকারের পাথর যন্ত্র দিয়ে কয়েকটি সাইজ অনুযায়ী কাটতে হয়। ছোট ছোট টুকরো করার পর দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীগণ এসে পাথর কিনে ট্রাকে করে নিয়ে যান। তবে পাথরের কাজে মহিলা শ্রমিকের তুলনায় পুরুষ কম। পঞ্চগড়ের বোদা, দেবীগঞ্জ, আটোয়ারি থেকে নারী-পুরুষ এসে পাথরের কাজ করছেন। এই কাজের মাধ্যমে শ্রমিকরা জীবন যাত্রার মান বেড়েছে। যদিও এ কাজে প্রচুর ধুলোবালির কারণে অনেকের শ্বাসকষ্ট, সিলিকোসিসের মতো ভয়াবহ রোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। পাথর ভাঙার কারণে প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা দেখলে মনে হবে ধুলো ঝড়ের কবলে পড়া একটি অপার সম্ভাবনাময় জনপদ এই পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া। প্রতিদিনের নিয়ম অনুযায়ী দিন হাজিরার কাজ করেন শতশত নারী শ্রমিক। তারা ভোর হলেই গৃহের কাজকর্ম সেরে স্বামী সন্তানদের খাইয়ে বের হয়ে যান কাজে। সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাথর নেটিং, ভাঙা, লোড-আনলোড এর কাজ করেন। পুরুষ শ্রমিকদের সমান কাজ করলেও মজুরির ক্ষেত্রে রয়েছে বৈষম্য। দিন শেষে গাধার খাটুনি খেটেও এসব নারী শ্রমিকের আঁচলে আসে দিনে মাত্র ২৫০-৩০০ টাকা। কষ্টের মধ্যে জীবন অতিবাহিত রোগ বালাই তো রয়েছে এসবের মধ্যে চলে তাদের সংসার।