August 9, 2026, 8:41 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় যৌতুক না পেয়ে ৪ মাসের অন্ত:স্বত্তা স্ত্রীকে নিষ্টুর পেটালেন পাষন্ড স্বামী। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই নারীকে দফায় দফায় মারধর করা হয়েছে। জখমী মহিলার নাম সায়মুন জন্নাত তৈয়বা (১৯)। তিনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর মেহেরনামা চৈরভাঙ্গা গ্রামের মনির আহমদের স্ত্রী। এ বিষয়ে পেকুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযোগ সুত্রে জানায়, গত ১৫ মাস আগে শিলখালী ইউনিয়নের জারুলবুনিয়া উত্তরজুমের মো: ইউনুছের মেয়ে সায়মুন জন্নাত তৈয়বা ও সদর ইউনিয়নের উত্তর মেহেরনামা চৈরভাঙ্গা গ্রামের মৃত গোলাম ছোবাহানের পুত্র মনির আহমদের মধ্যে বিবাহ হয়েছে। মুসলিম রীতি মতে ৩ লক্ষ টাকা দেনমোহর সাব্যস্থে নিকাহ রেজিস্টার্ডমূলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এ দিকে বিবাহের কিছুদিনের মধ্যে স্বামী স্ত্রীর দাম্পত্য জীবনে বনিবনা ও কলহ দেখা দেয়। স্থানীয় সুত্র জানায়, যৌতুকের জন্য প্রায় সময় স্ত্রীকে নির্যাতন ও শারীরিক হেনস্থা করতেন স্বামী মনির আহমদ। এ নিয়ে একাধিকবার স্ত্রীকে মারাত্মক আঘাত করে। সম্প্রতি যৌতুক নিয়ে স্বামী স্ত্রীর কলহ আরও অধিক তীব্রতর হয়। এর সুত্র ধরে চলতি মাসের ২৬ সেপ্টেম্বর সায়মুন জন্নাত তৈয়বাকে সকালের দিকে মারধর করা হয়েছে। এমনকি ওই দিন তাকে বাড়ির একটি কক্ষে সারাদিন আটকিয়ে রাখে। সন্ধ্যার দিকে স্বামী কক্ষে গিয়ে তাকে দ্বিতীয় দফায় লাঠি দিয়ে পেটায়। এক পর্যায়ে মুখমন্ডলের স্পর্শকাতর স্থানে কামড় দিয়ে জখম করে। যৌতুকের জন্য একটি অলিখিত নন জুড়িসিয়াল স্ট্যাম্প নিয়ে আসে স্বামী। এ সময় দস্তখত দিতে বলেন স্ত্রীকে। স্ত্রী অপারগতা দেখালে ওই দিন তৃতীয় দফায় ফের মারধর করে। স্বর্ণালংকার ও কাপড় চোপড় কেড়ে নিয়ে স্ত্রীকে সংসার থেকে বের করে দেয়। সায়মুন জন্নাত তৈয়বা জানান, আমি শিলখালী স্কুলের ছাত্রী ছিলাম। ৭ম শ্রেনী থেকে আমাকে বিবাহ দেয়া হয়েছে। স্বামী যৌতুক লোভী। নেশাগ্র্স্ত থাকে। জুয়াও খেলে। রাতে এসে আমাকে যৌতুকের জন্য বার বার মারধর করে থাকে। আমি ৪ মাসের অন্ত:স্বত্তা। মেয়ের পিতা মো: ইউনুছ জানান, ছেলেটি নরপিশাচ। একটি মেয়ের প্রতি এটি চরম অন্যায় ও অবিচার। আমার মেয়েকে মারাত্মকভাবে জখম করে। আমি গরীব মানুষ। যৌতুক কিভাবে দেব। বিয়ের সময় ছেলেকে দেড় লক্ষ টাকা দিয়েছি। ধার কর্জ এখনো পরিশোধ করতে পারেনি। পেকুয়া থানার ওসি সাইফুর রহমান মজুমদার জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।