August 9, 2026, 7:38 am

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও নেত্রীর ছবিতে নাশকতা, স্কুলের তদন্ত কমিটি গঠন

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও নেত্রীর ছবিতে নাশকতা, স্কুলের তদন্ত কমিটি গঠন

পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত জাতীয় শোক দিবসের পোষ্টার ছিঁড়ল দুবৃর্ত্তরা। এমনকি মুজিব শতবর্ষ উদযাপনের জন্য সাটাই পেস্টুন ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতেও নাশকতা চালানো হয়েছে। এ দিকে সৃষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও নেত্রী শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে গালি দিলেন সেই বিতর্কিত শিলখালী ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক বেলাল উদ্দিন আহমদ। কে বা কারা গভীর রাতে টাঙ্গানো পোষ্টার ও ব্যানার ছিড়ে ফেলেছে।

এ দিকে জাতির শ্রেষ্ট সন্তান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশ আ’লীগ সভানেত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছবি সম্বলিত পোষ্টার, পেস্টুন কেটে ফেলানোর এ ঘটনায় উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নে চরম হট্টগোল দেখা দিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও ক্ষমতাসীন দল আ’লীগ ক্ষোভে ফেটে পড়ে।

রাজনৈতিক দল আ’লীগ এ ঘটনাকে কান্ডজ্ঞানহীন আখ্যায়িত করে জাতির জনকের ছবির অবমাননা কে করেছে কারা নাশকতায় জড়িত এদের বের করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবী জানান। অন্যথায় এ চরম গর্হিত কর্মকান্ডের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত কঠোর রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুশিয়ারি উচ্চারন করা হয়েছে রাজনৈতিক দল আ’লীগ থেকে। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এগিয়ে এসেছে। তারা বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ঘটে যাওয়া এ ন্যাক্কারজনক ঘটনায় চরম বিব্রতবোধ করছে। এমনকি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি এক জরুরী বৈঠকে মিলিত হয়েছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি থেকে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়।

৫ সদস্য বিশিষ্ট ওই তদন্ত কমিটি আগামী দুই সপ্তাহ ৩০ আগষ্টের মধ্যে ঘটনার সুষ্টু তদন্তসহ এর প্রতিবেদন স্কুল পরিচালনা কমিটির নিকট প্রেরন করবে। শিলখালী ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান ওয়ারেচীকে ওই কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

১৫ আগষ্ট দিবাগত গভীর রাতে শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ দিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি সম্বলিত পোষ্টার ও পেস্টুন ছিড়ে ফেলানোর ঘটনায় শিলখালীর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হচ্ছে। এ ঘটনার জের ধরে ১৬ আগষ্ট কয়েক দফা হট্টগোল হয়েছে। সুত্র জানায়, ইউনিয়ন আ’লীগ সাধারন সম্পাদক বেলাল উদ্দিন আহমদ গঠিত কমিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলে। এর সুত্র ধরে ইউনিয়ন আ’লীগের এ নেতা হঠাৎ ষ্টেশনে উত্তেজিত হন। স্কুল থেকে তদন্ত কমিটি হওয়ায় ওই নেতা চরম ক্ষেপে যান। এক পর্যায়ে কমিটির সদস্যসহ উপস্থিত সকলকে অকথ্য ভাষায় গালি দেন। এমনকি পোষ্টার, পেস্টুন নিয়ে তার বক্তব্য ছিল আত্মঘাতী। জাতির জনক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়েও অশালীন উক্তি করেছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করেছেন।

এ উদ্ভট পরিস্থিতিতে শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি পেকুয়া থানায় ১৭ আগষ্ট সাধারন ডায়েরী রেকর্ড করে। যার নং ৫১৬/২০। শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান চৌধুরী বাদী হন। এ দিকে সৃষ্ট ঘটনার রেশ ধরে শিলখালীতে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিলখালী ইউনিয়ন আ’লীগের ৩ নং ওয়ার্ড সভাপতি বাহাদুল করিম জানান, জাতির জনকের ছবিতে শত্রুতামি করা হয়েছে। অথচ ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদকের বক্তব্য ছিল দল বিরোধী। শিলখালীতে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্তান ঘটেছে। এরাই স্বাধীনতার মহান স্থপতির এ ছবিতে এ কান্ড করেছে। বেলাল উদ্দিন আহমদ ইউপির চেয়ারম্যান নুরুল হোছাইনের অনুগত।

যে সব গর্হিত কাজ হচ্ছে সব কিছুতে বিএনপি থেকে নির্বাচিত চেয়ারম্যানের ইন্ধনে হয়। বেলাল ওই দিন আমরা দেখেছি চেয়ারম্যানদের পক্ষ গিয়ে সাফাই গাচ্ছেন। মানবাধিকার কর্মী শহিদুল ইসলাম জানান, আমি স্তম্ভিবত হয়ে গেছি বেলালের এ আচরনে। নাশকতাকারীরা বেলাল ও চেয়ারম্যানের বলয়ে আছে। ৯ নং ওয়ার্ড সভাপতি মহিউদ্দিন জানান, জাতির জনকের ছবিতে সাম্প্রদায়িক শক্তি তান্ডবলীলা চালায়। আসলে আমরা শিলখালীতে অসহায় অবস্থায় আছি। গুটিকয়েক মীরজাফর অপশক্তির সাথে আতাঁত করে দলের পদ পদবী নিয়ে ধান্ধাবাজি করছে। এ সবের অবসান হওয়া প্রয়োজন। না হয় এখানে আ’লীগরা জিম্মী দশায় থাকবে।

গত ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি পেকুয়ার সদস্য কাজীউল ইনসান জানান, এখানে নুরুল হোছাইন চেয়ারম্যান মূল কুশিলাব। তিনি আ’লীগকে মাঠে দুর্বল রাখতে কৌশলে আছে। গত নির্বাচনে বেলাল ইউনিয়ন আ’লীগের সম্পাদক থাকলেও তার অবস্থান ছিল ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে। বিএনপি আ’লীগ নেতার গোপন ঐক্যতে শিলখালীতে আমরা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছি। শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইব্রাহীম সাম্প্রদায়িক শক্তির মূল অনুচর। স্কুলে বিএনপি জামায়াত প্রীতি করছেন সব কিছুতেই তিনি। গত ইউপি নির্বাচনে তার ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। আমি তার বিরুদ্ধে জিডিও করেছিলাম। স্কুলে শিবির ও ছাত্রদলের কমিটি আছে। আ’লীগ ক্ষমতায় ১৩ বছর। অথচ ছাত্রলীগের কমিটি নেই।

শিলখালী ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান ওয়ারেচী জানান, সব কিছু নুরুল হোছাইন চেয়ারম্যানের ইন্ধনে হচ্ছে। বেলাল চেয়ারম্যানের স্বার্থের জন্য আ’লীগকে এখানে গ্রুপিং এর মধ্যে ফেলে দিয়েছে। আমি শুনেছি শিলখালী ষ্টেশনে তার আচরন হৃদয় বিদারক ছিল। আ’লীগের নেতা হয়ে খোদ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি নিয়ে এমন উক্তি ক্ষমার অযোগ্য। শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ৯০ দশকের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী আসাদ্জ্জুামান চৌধুরী মুঠোফোনে জানান, মুজিব শতবর্ষ ও জাতীয় শোক দিবসের পোস্টার, পেস্টুন আমরা সাটাই করেছি। ১৫ আগষ্ট রাতে কে বা কারা জাতির জনকের প্রতিকৃতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি সম্বলিত এ সবে নাশকতা চালায়। সকালে আমরা ছিড়ে ফেলানো এ সব জব্দ করে স্কুলে সংরক্ষন করেছি। জরুরী বৈঠক ডেকেছি। ওয়াহিদুর রহমান ওয়ারেছীকে নিয়ে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছি।

নিরপেক্ষ এ কমিটি দুই সপ্তাহের মধ্যে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দিবেন। তবে আমি নিজে বাদী হয়ে থানায় জিডি রেকর্ড করেছি। উপজেলা আ’লীগ সাধারন সম্পাদক আবুল কাশেম জানান, বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছে। আসলে বেলাল বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে উক্তি করেননি। আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষন করছি। পেকুয়া উপজেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

এ ব্যাপারে শিলখালী ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক বেলাল উদ্দিন আহমদ জানান, আমাকে তদন্ত কমিটিতে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে কমিটি থেকে আমার নাম কেটে ফেলে। এটি আমার আত্মমর্যাদায় আঘাত হয়েছে। আমি দলের সেক্রেটারী। আমি কেন বঙ্গবন্ধু ও নেত্রীকে গালি দেব। আসলে উত্তেজিত হয়েছিলাম। রাগের মাথায় একটু গঠিত কমিটিকে গালি দিয়েছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com