August 9, 2026, 9:33 am

পেকুয়ায় মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার দাবীতে মানববন্ধন

পেকুয়ায় মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার দাবীতে মানববন্ধন

পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আ’লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমকে অপহরণ চেষ্টা ও মরিচের গুড়া ছুড়ে ক্ষমতাসীনদল আ’লীগের ৩ জন কর্মীকে কুপিয়ে জখমের প্রতিবাদে মানববন্ধন করা হয়েছে। ওই মানববন্ধন থেকে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও বিএনপি জামায়াতের চিহ্নিত স্বশস্ত্র ক্যাডারদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার দাবীও জানানো হয়েছে। মরিচের গুড়া ছুড়ে বারবাকিয়া বাজারে হামলার প্রতিবাদে অনুষ্টিত ওই মানববন্ধনে বিপুল পরিমাণ নারী-পুরুষ অংশ নিয়েছে। মানববন্ধন থেকে সড়কে অবস্থানকারীরা এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু ও দ্রæত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার দাবী জানানো হয়েছে। ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলমসহ ক্ষমতাসীন দলের ৬ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রহসন ও মামলাটিও ফাঁসানো আখ্যায়িত করে তারা ওই ঘটনার জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ দাবী করেন। ৩০ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বারবাকিয়া ইউনিয়নের ছনখোলারজুম ষ্টেশনে মানববন্ধন অনুষ্টিত হয়েছে। ওই দিন সকাল ৮ টার দিকে অনুষ্টিত ওই মানববন্ধনে প্রায় দেড় হাজারেরও বেশী নারী-পুরুষ অংশ নিয়েছে। ইউপি সদস্য ও বারবাকিয়া ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমকে অপহরণ চেষ্টা চালানো হয়েছে। চকরিয়া থেকে গাড়ী নিয়ে ৮/১০ জনের অস্ত্রধারী ভাড়াটে অপহরণকারী চক্র গত ৩ দিন আগে বাজারে উৎপেতে থাকে। এ সময় তারা ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলমকে টানা হ্যাঁচড়া করে গাড়ীতে তোলার চেষ্টা চালায়। মুহুর্তের মধ্যে ইউপি সদস্যকে উদ্ধার করতে শত শত লোকজন জড়ো হয়। এর সুত্র ধরে প্রতিপক্ষরা ক্ষমতাসীন দল আ’লীগের ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমসহ ৪ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে। নাশকতার কু-পরিকল্পনায় হামলাকারীরা মরিচের গুড়া ছুড়ে হামলা শুরু করে। এ সময় করিম, হেলালসহ ৪ জনকে কুপিয়ে জখম করে। তারা বর্তমানে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ দিকে হামলার পরদিন পেকুয়া থানায় ২৮ জুলাই পেকুয়া থানায় একটি মামলা রেকর্ড হয়েছে। যার নং ৭৬/২০। মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলমকে। এ ছাড়া আরও ৫ জনকে আসামী করে। আসামীদের মধ্যে জখমী হেলাল, করিমসহ ৬ জনই ক্ষমতাসীন দল আ’লীগের নেতা-কর্মী। মামলাটির বাদী জাফর আলম উপজেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা। তার ছেলে এরশাদ গং চকরিয়া থেকে ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনেছিল। এরপর দ্বিতীয় দফায় তারা স্বশস্ত্র অবস্থায় বারবাকিয়া বাজারে এসে হামলা ও মারধর করেছে। জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করতে গিয়ে মূলত আ’লীগের নেতা-কর্মীরা জখম হয়েছে। ওই দিন সকালে বিপুল পরিমাণ স্থানীয়রা জড়ো হয়ে সড়কে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে। জাহাঙ্গীর আলম একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি। ১ বছর আগে ইউনিয়ন আ’লীগের ওয়ার্ড কমিটি গঠিত হয়েছে। ২ নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম কাউন্সিলে প্রত্যক্ষভোটে সভাপতি নির্বাচিত হন। অপরদিকে মামলার বাদী জাফর আলম বারবাকিয়ায় ক্ষমতাশালী ও প্রতাপশালী ব্যক্তি। তিনি বারবাকিয়ার একই ওয়ার্ড থেকে মেম্বার ছিলেন। সুত্র জানায়, ছাদেকুর রহমান ওয়ারেচীকে ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা করেছেন। জোট সরকারের সময় ওই বিএনপি নেতাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষনা করেছিলেন। উপজেলা আ’লীগের সভাপতি হওয়ায় ওয়ারেচী ছাদেক মিয়াকে ৪ বছর চেয়ারম্যানী করতে দেননি। তারা হামলাও করেছে। আবার মামলা দিয়ে আ’লীগের নেতা-কর্মীদের আসামীও করে। এর প্রতিবাদে মূলত মানববন্ধন হয়েছে। মানববন্ধনে পুরুষের পাশাপাশি কয়েকশতাধিক নারীও রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com