August 9, 2026, 8:41 am
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে এক মায়ের মৃত্যুও অভিযোগ উঠেছে। রোববার দুপুরে উপজেলার রশিদপুর এলাকায় তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।নিহত হলেন, কালিয়াকৈর উপজেলার রশিদপুর এলাকার জাকির হোসেনের স্ত্রী লাইজু আক্তার (৪০)। তিনি তিন সন্তানের জননী।
এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, লাইজু আক্তারের প্রসব ব্যথা শুরু হলে পরিবারের লোকজন গত শনিবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে নিয়ে যায়। পরে দুপুর ১টার দিকে ওই হাসপাতালেই তার সিজার করা হয়। ওই হাসপাতালের গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. কুহু মুৎসদ্দী, অজ্ঞান করার ডা. অঞ্জনাসহ কয়েকজনে তার অপারেশন করেন। এ সময় তার এক ছেলে সন্তান হয়। সব ঠিকঠাক থাকায় রোগিকে ওই হাসপাতালের বেডে পাঠান চিকিৎসকরা। এর পর পরই ওই চিকিৎসকরা হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। কিন্তু তার রক্তক্ষরণ হয়ে বিকেলে ওই মায়ের অবস্থার অবনতি হয়। এ অবস্থায় চলতে থাকে কয়েক ঘন্টা। নানা গড়িমসি শেষে জরুরি চিকিৎসক রাত সাড়ে ৮টার দিকে রেফার্ড করে। হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স না দেওয়াকে অনেক কষ্টে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে রাত ১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহতের দেবর কাওসার আহম্মদ জানান, উপজেলা স্বাস্ব্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকের অবহেলার কারণে আমার ভাবি মারা গেছেন। সময়মত গাইনি চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিলে ভাবির মৃত্যু হতো না।
অভিযুক্ত গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কুহু মুৎসদ্দী জানান, তার অবস্থা খুব খারাপ ছিল। অন্য কোথায় নেওয়ার মতো অবস্থা ছিল না। তাই ইমার্জেন্সি অপারেশন করেছি। ছেলে সন্তান জন্ম হয়। মা-সন্তান দুজনই ভালো ছিল। এরপর ডিউটি শেষে আমি চলে যাই। পরে তার অবস্থা খারাপ হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রেফার্ড করা হয়।
কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. প্রবীর কুমার সরকার জানান, ওই রোগীর আগেও নরমালে আরো দুটি সন্তান হয়েছে। এটি ছিল তিন নাম্বার। কিন্তু তিনি কোনো ডাক্তার দেখাননি। খুব খারাপ অবস্থায় এখানে এলে গাইনি বিশেষজ্ঞ অপারেশন করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রেফার্ড করা হয়। আর চালক করোনায় পজেটিভ থাকায় এ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করা যায়নি।