August 9, 2026, 7:46 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় প্রতিবন্ধী নারীর রোপিত আউশ ধানের চারা উপড়ে দিল অস্ত্রধারী দুবৃর্ত্তরা। পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করতে আপন সহোদরের নেতৃত্বে ভাড়াটে লোকজন ভোর রাতে জমিতে অনুপ্রবেশ করে। এ সময় ৮০ শতক জমির রোপিত ফসলে তান্ডব চালায়। এক পর্যায়ে সদ্য রোপিত আউশ ধানের চারা বিনষ্ট করে ফেলে।
২ জুলাই (বৃহস্পতিবার) ভোর রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের আলেকদিয়াকাটা গ্রামের আইল্লাঘোনা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে স্থানীয় দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারন করেছে। পৈত্রিক সম্পত্তির আধিপত্যকে ঘিরে ভাড়াটে লোকজন গ্রামে জড়ো করা হয়েছে। স্থানীয় সুত্র জানায়, পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে সদর ইউনিয়নের আলেকদিয়াকাটা গ্রামে মৃত নুরুল ইসলামের মেয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী জাহানআরা বেগম (৫০) গং ও বড় ভাই আক্তার আহমদ গংদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সুত্র জানায়, নুরুল ইসলাম নামক ব্যক্তির সন্তান সন্ততির সংখ্যা ৮ জন। ৭ বোন ১ ভাই ওই ব্যক্তির মূল ওয়ারিশ। নুরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মৃত্যুবরণ করেছেন। রেখে যাওয়া সম্পত্তির বিভাজন নিয়ে ভাই বোনের মধ্যে বিরোধের সুত্রপাত হয়। এর সুত্র ধরে পেকুয়া থানায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৈঠকও হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, নুরুল ইসলামের একমাত্র ছেলে আক্তার আহমদ পৈত্রিক অংশ নিজে কুক্ষিগত করার চক্রান্ত করছিলেন। বিভাজন মতে প্রত্যেক বোন ৩৬ শতকেরও বেশী অংশ প্রাপ্ত হন। সামাজিক বৈঠকে ৭ বোনের অংশ পরিমাপসহ দখল স্থিতি নিশ্চিত করে। আইল্যাঘোনা নামক বিলে নুরুল ইসলামের মেয়ে জাহানারা বেগম, রাশেদা বেগম, সিনহা আক্তারসহ অপর মেয়েরা পিতার প্রাপ্ত অংশ ভোগ দখল থেকে সন সন ফসল উৎপাদন করছিলেন। বর্ষার সময় জমিতে ধান উৎপাদন ও শুষ্ক মৌসুমে শীতকালীন শাক সবজি আবাদ হচ্ছিল ওই জমিতে।
এ দিকে চলতি বর্ষার সময় নুরুল ইসলামের মেয়ে জাহানারা বেগম ও অপর ৬ বোন জমিতে আগাম ফসল ফলায়। ঘটনার একদিন আগে বুধবারে জাহানারা বেগম গং ৮০ শতক জমিতে আউশ ধানের চারা রোপন করে। তবে ওই দিন রাতে আক্তার আহমদসহ তার অনুগত ভাড়াটে লোকজন জমিতে অনুপ্রবেশ করে ফসল বিনষ্ট করে ফেলে। স্থানীয় নুরুল আবছার জানান, এ জমি জাহানারা বেগম ও তার অপর বোনরা আবাদ করেছে।
ছব্বির আহমদ নামক কৃষক জানান, জমি আমি ২ বছর চাষ করেছি। জাহানারা বেগমের বোনরা আমাকে লাগিয়ত করতেন। এটি চরম অন্যায় হয়েছে। মনোয়ারা বেগম, খালেদা বেগম, নুর বানু সহ আরো অনেকে জানায়, আমরা শুনেছি জমির ধান নষ্ট করা হয়েছে। নুরুল ইসলামের মেয়ে জাহানারা বেগম জানান, আমার ভাই আক্তার আহমদ সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে আমাদের উপর জুলুম অত্যাচার করছে। আমি প্রতিবন্ধী। বিয়ের পর থেকে বাপের বাড়িতে ঘরজামাই থাকতাম। এখন আমাকে প্রতিনিয়ত মারধর করা হচ্ছে। ঘরের দরজা আটকিয়ে দেয়া হয়েছে। আসবাবপত্র মালামাল ভাংচুর করে। আমি একজন অসহায় মহিলা। ভাইয়ের ধরনের অত্যাচার আর সহ্য হচ্ছেনা।
নুরুল ইসলামের নাতি ফোরকান জানান, আমার মাসহ ৭ বোনের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে মামা নিষ্টুরতা শুরু করেছে। ৮০ শতক জমির ফসল গুড়িয়ে দিয়েছে। মামা আক্তার ও তার মেয়ের জামাই জারুলবুনিয়ার আরিফসহ অস্ত্রধারী দুবৃর্ত্তরা।