August 9, 2026, 9:34 am

আনোয়ার হত্যাকান্ড পেকুয়ায় বাড়ি ভাংচুর, মালামাল লুট, মহিলাকে আটকিয়ে নিল স্ট্যাম্প

আনোয়ার হত্যাকান্ড পেকুয়ায় বাড়ি ভাংচুর, মালামাল লুট, মহিলাকে আটকিয়ে নিল স্ট্যাম্প

পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় মহিলাকে আটকিয়ে খালি ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাঞ্চল্যকর ওমান প্রবাসী আনোয়ার হোসেন হত্যাকান্ডের ঘটনায় আসামীদের বাড়িতে ব্যাপক তান্ডব লুটপাট ও ভাংচুর চালানো হয়েছে। এ সময় আসামী পক্ষের বাড়ি থেকে গৃহপালিত ৪ টি গরু, ১ টি সিএনজি ও মূল্যবান দ্রব্যাদি নিয়ে যায়। আসামীদের অনুপস্থিতিতে বসতবাড়িতে প্রবেশ করে বিপুল মালামালসহ বাড়ি লুট করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাদীপক্ষ এ তান্ডব ও লুটপাটে সম্পৃক্ত হয়েছে। এর জের ধরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মগকাটা গ্রামে দফায় দফায় লুটপাট ও বাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। হত্যা মামলা রুজু হওয়ায় আসামীরা বাড়ি ছাড়া হয়েছে। ওই সুবাধে বাদী ও বাদীর অনুগত লোকজন মগকাটায় আসামীদের বাড়িতে লুটপাটসহ ব্যাপক তান্ডব চালায়। উপজেলার সদর ইউনিয়নের মগকাটা গ্রামে ভাংচুর, লুটপাট ও তান্ডবের এ ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্প্রতি পেকুয়ায় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আনোয়ার হোসেন (১৮) নামক একজন যুবক নিহত হয়েছে। চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় হাসপাতালে জখমী যুবকের মৃত্যু হয়েছে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় পেকুয়া থানায় ২৪ মে একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়। নিহত আনোয়ারের মামা বটতলিয়াপাড়ার হাজী এলাহাদাদের পুত্র ফয়েজ আহমদ বাদী হয়ে ৬ জন নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৪/৫ জন সহ আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড হয়েছে। এ দিকে হত্যা মামলা রুজু হওয়ায় আসামীরা বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপন হন। সুত্র জানায়, মামলা রুজু হওয়ার পর থেকে বাদীপক্ষ অধিক ক্ষিপ্ত হন। হত্যাকান্ডের ঘটনাকে পুঁজি করে মামলার বাদী ফয়েজ আহমদসহ তার নিকটাত্মীয় ও অনুগত লোকজন আসামী আবুল শামা ও কামাল হোসেনের বাড়িসহ পৃথক ৪/৫ টি বাড়িতে হানা দেয়। এ সময় বাড়িতে লোকজনের অনুপস্থিতির এ সুযোগে তারা বাড়ির মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। মগকাটায় আসামী আবুল শামার বাড়ি থেকে ১ টি বাঁচুর গাভীসহ ৪ টি গরু লুট করে। গৃহপালিত ৫ টি ছাগলও তারা নিয়ে যায়। গৃহস্থীর হাঁস, মুরগী, গোলা থেকে প্রায় ৩শ আড়ি ধান, পানির মেশিন ১টি, ৫ টি খাট, মৎস্য ঘেরের মাছ, আলমিরা ও সু-কেইস, সৌর বিদ্যুতের প্যানেল এমনকি হান্ডি ডেকসি ও সমস্ত মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। মামলার আসামী কামাল হোসেনের বাড়িতেও বাদীপক্ষ হানা দেয়। ওই বাড়ি থেকে একটি সিএনজি, আসবাবপত্র ও মূল্যবান মালামাল লুট করে বাড়ির মেঝে কুদাল দিয়ে মাটি কুঁড়ে গর্ত করে ফেলে। মাটির দেয়াল, দরজা জানালাও ভাংচুর করে। ঘটনার জের ধরে বাদীপক্ষ আসামী পক্ষের নিরীহ লোকজনদের চলাফেরা স্তব্দ করে দিয়েছে। রাস্তায় বের হলে দা, ছুরি নিয়ে প্রাণনাশ চেষ্টা চালাচ্ছে। ভয় ভীতি ও আতংক ছড়িয়ে আসামীদের আত্মীয় স্বজনদের পথরোধ করে এলাকাছাড়া করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। ৬ জুন দুপুর ২ টার দিকে ফের হামলা সংঘটিত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই দিন দুপুরের দিকে বাদী ফয়েজ আহমদ তার ছেলে জালালসহ ৬/৭ জন উত্তেজিত লোকজন মইয়াদিয়া গ্রামে স্বামী পরিত্যক্ত হামিদা বেগমের বাড়িতে পৌছে। এ সময় হামিদা বেগমকে মারধর করে। ধারালো দা, কিরিচ নিয়ে ওই মহিলাকে জিম্মী করে। এক পর্যায়ে ভীতি সৃষ্টি করে মহিলার কাছ থেকে একটি নন জুড়িসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায় করে। হামিদা বেগম জানায়, মামলার পর থেকে তারা থেমে থেমে নির্যাতন ও লুটপাটে লিপ্ত রয়েছে। আমার বাড়িতে এসে আমাকে ধারালো দা, কিরিচ নিয়ে প্রাণনাশ চেষ্টা চালায়। আবুল শামার মেয়ে ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী শাবানা আক্তার জানান, বাড়ি ঘর ভাংচুর করে সব মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। আমরা বাড়িতে থাকতে পারছিনা। মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। ধান, চাল, মাছ, পশু, সিএনজি, ডেকসি, হান্ডি পাতিল পর্যন্ত নিয়ে গেছে। আবুল শামার মেয়ে খালেদা বেগম জানান, আমার পিতার সংসারের সব কিছু তারা লুট করে নিয়ে গেছে। মামলা হয়েছে সেটি আইনগত বিষয়। কিন্তু এ ভাবে লুটপাট এটা নিকৃষ্ট জুলুম। প্রতিবেশী মোক্তার আহমদ (৮০) বলেন, এটি মগের মুল্লুকের মত হয়ে গেছে। মালামাল সব লুট করে নিয়ে গেছে। মামলা হয়েছে আইনগত বিষয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এ লুটপাট মানুষ কিভাবে মেনে নিবে। কলেজ ছাত্রী পারভীন আক্তার জানান, আবুল শামার বাড়ি থেকে সব কিছু লুট করে নিয়ে গেছে। তারা বাড়িতেও আসতে পারতেছেনা। এটি বড় ধরনের নিষ্টুরতা ও জুলুম। মামলার তদন্তকারী অফিসার পেকুয়া থানার এস,আই শিমুল নাথ জানান, এ ধরনের খবর আমরা পাচ্ছি। চকরিয়া থেকে একটি গরু আমরা জব্দ করেছি। স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় গরুটি হস্তান্তরও করা হয়েছে। মামলার বাদী ফয়েজ আহমদ জানান, লুটপাটের বিষয়ে অস্বীকার করেন। তিনি জানান, আমি মামলা নিয়ে ব্যস্ত। এ সব মিথ্যা। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা বাদীর বক্তব্য নাকচ করে বলেছেন, তারাই লুটপাটে লিপ্ত। দায় এড়াতে বাদী মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। ঘটনা সঠিক। পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম জানান, আইন কেন হাতে নিবে। আসামীদের বাড়ি থেকে গরু নিয়ে যাচ্ছিল। একটি গরু আমরা উদ্ধার করেছি। লুটপাটের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com