August 9, 2026, 8:41 am
এম, রিদুয়ানুল হক, চকরিয়াঃ
বর্তমান করোনার মহামারিতে দেশ আজ মহা বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে। দিন দিন করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে এবং মারা যাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি প্রতিটি জেলা-উপজেলার কর্তৃপক্ষ এবিষয়ে সর্বোচ্চ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এর ধারাবাহিকতায় করোনা বিস্তার রোধে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চকরিয়ায় এপর্যন্ত ১৫৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তন্মধ্যে ১১২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং ২ জন মারা গেছেন। যারা সুস্থ হয়েছেন তাদের মধ্যে ৩৮ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছেন, ৭৪ জন রোগী কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় বাসায় চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছেন এবং অন্যান্য উপজেলার (পেকুয়া-কুতুবদিয়া) ৩১ জন রোগী চকরিয়া হাসপাতালের চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছেন।
এবিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন- আমাদের উপজেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যার চেয়ে সুস্থতার হার বেশি। সরকারের পাশাপাশি আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং এবিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে স্থানীয় সাংসদ, চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, সেনাবাহিনী, পুলিশ প্রশাসন, পৌর প্রশাসন, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে জোরালো ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। চকরিয়া হাসপাতালে পর্যাপ্ত উপকরণ থাকলে সুস্থতার হার আরো বাড়তো। তিনি এবিষয়ে চকরিয়াবাসির সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এবিষয়ে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. মো, শাহবাজ তাঁর নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। স্ট্যাটাসটি হুবহু নিচে তুলে ধরা হলো—
গত ২৩/০৫/২০ হতে অদ্যবধি আমরা ৩৬৬টা নতুন সম্ভাব্য করোনা রোগীর স্যাম্পল সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে পাঠিয়েছি যার রিপোর্ট এখনও পাইনি। এদের মধ্যে আমাদের হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অত্র উপজেলার অনেক গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তির নমুনাও রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে জানা যায় যে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে অত্র জেলার ৮ উপজেলার নমুনাসহ বান্দরবান ও চট্টগ্রাম এর বেশ কয়েকটি উপজেলা ও এফডিএমএন (রোহিঙ্গা) এর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ কারনে ল্যাবে অনেক নমুনা পরীক্ষার অপেক্ষায় জমে আছে।
নমুনা সংগ্রাহক কর্তৃপক্ষ হিসেবে আমরা আমাদের সাধ্যের সর্বোচ্চ করছি। পরীক্ষা সঠিক সময়ে সম্পন্ন না হওয়া আমাদের নিয়ন্ত্রনে নাই, যদিও এ বিষয়ে আমরা প্রতিনিয়ত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রাখছি।
এত জটিলতার মাঝেও চিকিৎসক হিসেবে আনন্দের বিষয় হল অদ্যবধি চকরিয়া উপজেলার ৩৮ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছেন, ৭৪ জন রোগী বাসায় চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছেন এবং অন্য উপজেলার (পেকুয়া-কুতুবদিয়া) ৩১ জন রোগী আমাদের হাসপাতালের চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছেন। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।