August 9, 2026, 7:38 am

“সেই ছেলেটির কেনো এই হাল”

“সেই ছেলেটির কেনো এই হাল”

সাইফুল ইসলাম বাবুল :

এক ছেলে গ্রামীণ পরিবেশে বড় হলো। মেট্রিক পাশ করার পর শহরে গেলো। সাধারণত বাংলার প্রত্যেক ছেলের বেলায় যা প্রযোজ্য। তেমনি ছাত্রজীবনে রাজনীতির হাতেখড়ি। তারপর আন্দোলন-সংগ্রাম, এক পর্যায়ে চট্টগ্রাম আইন কলেজের ভিপি। এরপর দুই দুই বার জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, বর্তমান বঙ্গবন্ধু গবেষণা কেন্দ্র কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এবং জঙ্গি ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটির পেকুয়া উপজেলা আহবায়ক।

ক্লিন ইমেজ কাকে বলে তেমন জানিনা। তবে উদাহরণ দিতে পারি সেই ছেলেটি। যে কখনো অসাধু কোন কিছুর সাথে জড়িত নয়। কোনো অবৈধ উপার্জনের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা নেই। অন্যায্য কোনো কিছুতে তার কখনো সায় ছিলো না। এমনকি কখনো ঝগড়া বিবাধ কটু কথার ধারে কাছেও নেই। নিজেকে মস্ত জাহির করার কোনো অভিপ্রায়ও ছিলো না। তবে বিপদে মানুষের কাছে থাকতেন।

জনতা যখনই বলতে শুরু করলো এরকম একজন মানুষ চাই। তখন স্বার্থান্বেষীরা তার পিছনে লাগলো। অনেক প্রচারণা, সে নাকি পয়সা খরচ করে না, পারত পক্ষে ঝামেলায় যায় না। প্রশ্ন হলো কেনো অযথা পয়সা খরচ করবে?
আজকের ঝামেলা গুলো গুন্ডামিতে পরিপূর্ণ। তাই একজন ভালো মানুষ কেনো গুন্ডামীতে যাবে? রাজনীতির খাতিরে হয়তো বিভিন্ন দল-উপদলের সাথে মিশেছেন। কিন্তু কখনো অন্যায়ের পক্ষে বিলীন হন নাই। নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য ধরে রেখেছেন। এইসব গুণাবলী তার জন্য কাল হয়েছে। তবে যোগ্য লোককে কখনো কোনো পদে অধিষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না। এই হচ্ছে দুষ্ট চক্রের খেলা। এখন খেলার গুটি হয়ে এস এম গিয়াস উদ্দিন কারাগারে নিক্ষিপ্ত। কোনো স্বার্থ নেই, বিষয় নেই সে কেনো হত্যা করবে পূর্ব শত্রুতাও ছিল না, তবে কেনো হেলাল হত্যা মামলায় তিনি আসামি হলেন?

হত্যা সংগঠিত হবার সময় তিনি এলাকায় ছিলেন না। এরপর যথারীতি থানায় এজহার দেওয়া হলো সেখানেও তার নাম নেই। পুলিশের প্রেরিত অভিযোগ পত্রেও এই মামলায় এস এম গিয়াস উদ্দিনকে অভিযোগ করেননি। পরক্ষনে ওই মামলা পি-বি আইয়ের হাতে চলে যায়। পি-বি আয়ের প্রথম অভিযোগ পত্রেও এস এম গিয়াস উদ্দিনের নাম নেই। ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাচন হলো দলীয়ভাবে তার নাম গেলো কেন্দ্রে সেখানে এক মহা তেলেসমাতি, রাতারাতি নাম পাল্টানো হলো। কেনো ভোট করলি তাই পি-বি আইকে রাজনৈতিক চাপে ফেলে তাকে ৫০ নম্বর আসামি করা হলো। উদ্দেশ্য একটাই ,হয় পক্ষ অবলম্বন করবি না হলে নাজেহাল হবি। চার্জশীট গৃহীত হলো। ওয়ারেন্ট বের হলো। হত্যা মামলার আসামিদের জামিন দেওয়ার এখতিয়ার নিম্ন আদালতের নেই বিধায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিলেন এবং নিম্ন আদালতে হাজির হলে জামিন নামঞ্জুর হয়। এখন দেখছি দুষ্ট চক্র খুবই খুশি। যারা আসামি করতে সহযোগিতা করেছিলো। পেকুয়াতে এখন ত্রাসের রাজত্ব, দখল বেদখল কি থেমে আছে? অসত্য মামলা কি থেমে আছে? চাঁদাবাজি কি থেমে আছে? মাদক ব্যবসা কি থেমে আছে?

ইউরোপের রাজকুমার ফাউনান্ডের মৃত্যুর জন্য দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ হয়েছিলো, পেকুয়ার সেই বিখ্যাত গণেশকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এইরকম অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ হতে পারে। এস এম গিয়াস উদ্দিনের হাজতবাস তার একটি প্রক্রিয়া। গণেশের ভিতরে কি সাংগঠনিক ক্ষমতা আছে? কয়জন লোক তাকে ভালোবাসে? একটা কি ভালো কাজ করেছেন? খারাপ কাজের তালিকা দিলে যোজন পরিমাণ দীর্ঘ হবে। তাই বলে হাতেগোনা দুর্বৃত্তদের কখনো এস এম গিয়াস উদ্দিন সমর্থন করবে না তাদেরপ্রশংসাও করবেনা। যত বছর জেল হোক।

প্রিয় পেকুয়াবাসি এবং নেতৃবৃন্দ আপনারা জানেন, যে দেশে গুণীজনের কদর নেই সে দেশে গুণী জন্মায় না। তাই বলতে চাই ভালো লোকদের প্রস্থান কি আপনারা কামনা করেন? আর আপনাদের প্রতিষ্টিত গনেশ যেকোনো সময় উল্টে যেতে পারে। গণেশ সুষ্ঠু নির্বাচনে ইউপি মেম্বার হয় কিনা সন্দেহ তাই তাকে নিয়ে অশুভ আস্ফালন কখনো শুভ ফল বয়ে আনবে না।

আমরা সজ্জন গিয়াস উদ্দিনকে আমাদের মাঝে ফিরে পেতে চাই। আমি হলফ করে বলতে পারি তার অপরাগতা থাকতে পারে তবে খারাপির কোনো নজির নেই। প্রিয় পেকুয়াবাসি এবং নেতৃবৃন্দ গনেশের পায়ের নিচে কতো লোক কোরবানি হলে খুশি হবেন।

ভালো পেকুয়া গড়ার জন্য এস এম গিয়াস উদ্দিনের মত বিকল্প খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাই আবারো আমরা তাকে আমাদের মাঝে চাই, আল্লাহ সহায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com