August 9, 2026, 12:50 pm
সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ইছামতি আলীনগর এলাকায় মারা যাওয়া ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি মারা যাওয়ার পর চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার মারা যাওয়া ব্যক্তির শরীরে করোনা সংক্রমনের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পুরো উপজেলা জুড়ে আতংক বিরাজ করছে। ওই ব্যক্তির মৃত্যুর পর শনিবার রাতে উপজেলার পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ৩৪৩ পরিবারকে লকডাউন করেছে প্রশাসন।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর-এ-আলম, থানার অফিসার ইনচার্জ সফিউল কবীর ও স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ ওসমানী ওই এলাকায় উপস্থিত হয়ে এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে পুরো ৩ নং ওয়ার্ডটি লকডাউন করে লাল পতাকা উড়িয়ে দেন। লকডাউন করা ওয়ার্ডে মোট ৩৪৩ পরিবার বসবাস করে বলে জানা গেছে।
সাতকানিয়ার পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডেও ইউনিপ সদস্য ফরমান আলী জানান, ইছামতি আলীনগরের সোনাজানি-বর বাড়ির মৃত এজাহার মিয়ার পুত্র সিরাজুল ইসলাম গত ৪ এপ্রিল (শনিবার) থেকে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাস কষ্টে ভুগছিলেন। গত বুধবার রাতে চিকিৎসার জন্য তাকে কেরানীহাট আশশেফা হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরী বিভাগে ভর্তি করানো হলে করোনার উপসর্গ থাকায় চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসাপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। ওইদিন রাতে তাকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং পরের দিন সকালে তার নমুনা সংগ্রহের কথা জানান। পরে রোগীকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে রোগীর অবস্থা খারাপ হতে থাকলে পরিবারের লোকজন তাকে পুনরায় কেরানীহাট আশশেফা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে রোগীর বিষয়ে সব শুনার পর তাকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সেখান থেকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চমেক হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহের পর তার লাশ শুক্রবার ভোরে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে শুক্রবার নিজ এলাকায় জানাজা শেষে তার লাশ দাফন করা হয়।
উপজেলার কেরানীহাট আশশেফা হাসপাতালের ডা. হোসাইন জাহেদ জানান, বুধবার রাতে সিরাজুল ইসলাম নামে এক বয়স্ক রোগীকে হাসপাতালে আনা হলে আমি যথাযথ সুরক্ষার মাধ্যমে ওই রোগীকে দেখি। রোগীর মধ্যে করোনার উপসর্গ থাকায় তাহাকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলি।
সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুল মজিদ ওসমানী জানান, উপজেলার পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর এলাকায় গিয়ে লোকজনের সাথে কথা বলেছি। পরে পুরো ওয়ার্ডটি লকডাউন করা হয়েছে। তাছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করা ব্যক্তির চিকিৎসা সেবা দেয়া কেরানীহাট আশশেফা হাসপাতালের চিকিৎসক, স্টাফ ও অ্যাম্বুলেন্সের চালকসহ রোগীর সংস্পর্শে আসা সবাইকে কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করা হবে।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর-এ-আলম জানান, করোনায় আক্রান্ত হয়ে পুরো চট্টগ্রামের মধ্যে সাতকানিয়ার এটি প্রথম মৃত্যু। পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়নে এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর আমরা এলাকায় গিয়ে পুরো একটি ওয়ার্ড লকডাউন করেছি। ওই ওয়ার্ডে মোট ৩৪৩টি পরিবার বসবাস করে বলে জেনেছি। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পুরো ওয়ার্ডের লোকজনকে বাইরে না যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বাইরের লোকজন যাতে ওই ওয়ার্ডে না যায় সেই বিষয়ে বলা হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির পরিবার এবং আশপাশের লোকজনের সাথে সংস্পর্শে আসা সবাইকে চিহ্নিত করে তাদের পরিবারগুলোকে লকডাউন করা হচ্ছে।