August 9, 2026, 10:31 am

সেই দুদকের করা সাড়ে আঠারো কোটি টাকার মামলার জাহলমের দিন এখন কেমন কাটে

সেই দুদকের করা সাড়ে আঠারো কোটি টাকার মামলার জাহলমের দিন এখন কেমন কাটে


দুদকের করা সোনালী ব্যাংকের সারে আঠারো কোটি টাকার মিথ্যা মামলায় বিনা অপরাধে তিন বছর জেল খাটে। নিরঅপরাধ জাহালমের দিন কাটে এখন দারুন কষ্টে।খেয়ে না খেয়ে কোন রকম জীবন যাপন করছে জীবিকার দাগিদে এখন দিন মজুর ও রিক্সা চালিয়ে কোন রকম ভাবে বেঁচে আছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখাযায় জাহলমের রান্নাঘরে শুধু নিরামিশ রান্না হচ্ছে।হয়তো সকালে খেলে রাতে খাবার থাকেনা।আর এই জাহালম কে দেয়া হয়েছে সারে আঠারো কোটি টাকার মামলা।

পাটকল শ্রমিক জাহালমের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি সোনালী ব্যাংক থেকে সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন। কিন্তু বাস্তবতা ছিল তার ছবি ব্যবহার করে এ জালিয়াতি করেছিলেন আবু সালেক নামে আরেক প্রতারক। আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার পর সব ধরনের মামলা থেকে অব্যাহতি পান তিনি। সরে যায় ৩৩টি মামলার খড়গ।

কারামুক্তির পর জাহালম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তার জেল জীবনের কথা, পূর্বে মামলাগুলোর শুনানির বিষয়।

জাহালম বলেন, কারাগারে অনেক কষ্টে আমার দিন কেটেছে, মানুষের কাপড় ধুয়ে, কাজ করে দিয়ে ভালো খাবার খাইছি। আমার জীবন থেকে তিনটি বছর চলে গেছে। আমি রাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষতিপূরণ চাই।

জাহালম বলেন, জজ সাহেবকে বলেছিলাম আমি এ মামলার আসামি না। আমি আবু সালেক না। আমি জাহালম। কিন্তু তিনি আমার কথা বিশ্বাস করেননি। সাক্ষীরা আমাকে আবু সালেক বলে সাক্ষ্য দিয়েছে। কিন্তু আমি তো এ মামলার কিছুই জানি না। মাসে পাঁচ থেকে ছয়বার করে আদালতে যাইতাম। অনেক কষ্ট লাগতো। কাঁদতামও। কাশিমপুর থেকে প্রতিনিয়ত যাওয়া খুব কষ্ট লাগতো।

দুদুকের ভুলে জাহালম বিনা কারণে তিন বছর জেল খেটেছেন। তাই দুদকের কঠিন বিচার দাবি করে জাহালম বলেন, সঠিক তদন্ত করে যেন আসামি ধরা হয়।

জাহালম আরো বলেন, আমি জীবনে চিন্তাও করতে পারিনি যে বের হতে পারব।

এর আগে গত বছরে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পায়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় ভুল আসামি জাহালমকে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয় হাইকোর্টের বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। এ সময় আদালত তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গাজীপুর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্ধি থাকা জাহলম কে মুক্তির নির্দেশও দেন।

জাহালমের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার ধুবড়িয়া। হতদরিদ্র পিতা ইউসুফ আলীর ছেলে। তি‌নি জীবিকার তাগিদে পাটকলে চাকরী করতেন।
এ বিষয়ে জাহালমের বড় ভাই শাহলম জানান আমার ভাই কে বিনা অপরাধে তিন বছর জেল খাটতে হয়েছে আমরা গরীব মানুষ দিন আনি দিন খাই। আর এ মামলা চালাতে আমাদের অনেক দারদেনা করতে হইছে বিভিন্ন সমিতি থেকে সুূদে টাকা নিয়ে ভাইয়ের জন্য মামলা চালাতে খরচ করতে হইছে।এখন আমরা নিশ্য।ক্ষতি পুরণ হিসেবে যে আর্থিক সহায়তা দেয়ার কথা ছিলো সেটা পেলে হয়তো কিছুটা ঋন মুক্ত হতে পারবো।
এলাকাবাসীরা জানান জাহলম সহজ সরল মানুষ।আমরা কখনো তার খারাপ কিছু দেখিনি।অথচ তাকে বিনা অপরাধে তিন বছর জেল খাটতে হলো।

সোনালী ব্যাংকের সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির ৩৩টি মামলার মূল আসামি আবু সালেক। কিন্তু তার বদলে এ মামলার আসামি হয়ে বিনা অপরা‌ধে প্রায় ৩ বছর কারাগারে ব‌ন্দি ছিলেন জাহালম।

২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়া‌রি জাহালমকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তি‌নি কারাগারে ব‌ন্দি ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com