August 9, 2026, 7:47 am
গাজীপুরে ডাক্তারের অনুপস্থিতিতে প্রসূতির সন্তান প্রসবের সময় যৌনাঙ্গ কেটে ফেলায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম নাজমা আক্তার (২১)।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর খাইলকুর এলাকার মো. শফিকুল ইসলাম শরীফের স্ত্রী। এ ঘটনায় নিহত স্বামী বাদী হয়ে মেট্রোপলিটন গাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার বরাত দিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) মো. হাফিজুর রহমান জানান, গত ১৯ অক্টোবর (শনিবার) সকালে নগরীরর উত্তর খাইলকুল এলাকার শফিকুল ইসলাম শরীফের স্ত্রী নাজমা আক্তারের প্রসব ব্যথা উঠলে বোর্ডবাজার এলাকার সুলতান জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু এ সময় ওই হাসপাতালে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ছিল না। তবুও তাকে ইমার্জেন্সি বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরে হাসপাতালে কর্তব্যরত নার্স মোসা. রাবেয়া বেগম (২৫) তাকে প্রসব ব্যথা বৃদ্ধির ইনজেকশন দেয়। কিছুক্ষণ পরে প্রসব ব্যথা বৃদ্ধি পেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিজার করার পরামর্শ দেন। এক পর্যায়ে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ছাড়া নার্স রাবেয়া সঙ্গী অন্যান্য নার্সদের নিয়ে প্রসূতি নাজমার যৌনাঙ্গের ভুল স্থানে কেটে কন্যা সন্তানের প্রসব করান। এ সময় প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হয়।
রক্তক্ষরণের এক পর্যায়ে মুর্মূষু অবস্থা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর অভিভাকদের কোনোকিছু না জানিয়ে হাসপাতালের বাইরে বের করে দেয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে উঠানোর সময় নাজমার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে নিহতের পরিবার হাসপাতাল মালিক আব্দুস সালামকে বিষয়টি জানালে কোনো প্রকার কর্ণপাত না করে নিহতের স্বামীকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। পরে গত ২৪ অক্টোবর নিহত স্বামী থানায় মামলা দায়ের করেন।
মেট্রোপলিটন গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইসমাইল হোসেন ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে জানান, মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়না তদন্ত করা হবে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে