August 9, 2026, 9:44 am

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন কক্সবাজার-১; পেকুয়ায় গণসংযোগে মাঠে আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী রাশেদুল ইসলাম

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন কক্সবাজার-১; পেকুয়ায় গণসংযোগে মাঠে আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী রাশেদুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক,পেকুয়া:
পেকুয়ায় কর্মব্যস্ততা বেড়েছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও সম্ভাব্য জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী জেলা আ’লীগ নেতা রাশেদুল ইসলামের। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নৌকা প্রতীকের সম্ভাব্য প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম পেকুয়ায় গণসংযোগ করতে মাঠে নেমেছেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করতে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) সংসদীয় আসনে বেড়েছে রাশেদের কর্মব্যস্ততা। ১ সপ্তাহ আগে থেকে তিনি পেকুয়ায় গণসংযোগ শুরু করেছেন। তিনি পেকুয়ায় এসে পৌছেন গত দুই সপ্তাহ আগে থেকে। নিজকে প্রার্থী হিসেবে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে কাজ করছেন নিরলসভাবে। পেকুয়ার প্রান্ত থেকে বিভিন্ন প্রান্তরে তিনি ছুটছিলেন। ক্ষমতাসীন দল আ’লীগের মনোনয়ন পেতে তিনি ইতিমধ্যে কেন্দ্রে লবিং করছেন। আ’লীগের নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে, সংসদ সদস্য প্রার্থীর জন্য ক্ষমতাসীন দলের দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে রাশেদুল ইসলামের লবিং অত্যন্ত শক্তিশালী। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাশেদুল ইসলাম পেকুয়া-চকরিয়ায় গণসংযোগ, কর্মব্যস্ততা বাড়িয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম। তার পৈত্রিক বাড়ি কক্সবাজার জেলার পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়নে। মগনামা হচ্ছে চকরিয়া-পেকুয়া সংসদীয় আসনের আওতাভূক্ত ইউনিয়ন। পেকুয়া থেকে তিনি আগাম নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছেন। কর্ম চঞ্চল রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সম্ভাব্য এ প্রার্থী। মনোনয়ন পেলে তিনি এ আসনে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রার্থী এ লক্ষ্যে আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছেন। গত এক সপ্তাহ আগে মগনামা ইউনিয়নের মুহুরীপাড়ায় পৈত্রিক বাড়িতে উঠান বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে ক্ষমতাসীন দল আ’লীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। গত কয়েকদিন ধরে তিনি পেকুয়া উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন। বিশেষ করে আ’লীগের দু:সময়ের মানুষগুলোকে তিনি চিহ্নিত করতে কাজ করছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় যে সব ব্যক্তিবর্গ অকুতোভয় ছিলেন এমনকি বঙ্গবন্ধু ডাকে মুক্তি সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়ছিলেন। ওই সব মানুষগুলোর খোঁজ খবর নিচ্ছেন। আ’লীগের প্রয়াত নেতাদের বাড়ি ঘরে গিয়ে তাদের খোঁজ খবর নিচ্ছেন। গত বুধবার (১২ জুলাই) পেকুয়ার সদর ইউনিয়ন, মগনামা ইউনিয়ন ও রাজাখালী ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম। ওই তিনি পেকুয়া সদরের গোঁয়াখালীতে প্রবীণ আ’লীগ নেতা নুরুল আজিম চৌধুরীকে দেখতে তার বাড়িতে যান। এরপর পেকুয়ার সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট কামাল হোসেনের বাড়িতে যান। কলেজ গেইট চৌমুহনীতে প্রবীণ আ’লীগ নেতা শিক্ষক আশেক ইলাহীকে দেখতে তার বাড়িতে যান। ওই দিন সিকদারপাড়ায় জাকের হোসেন চৌধুরীকে দেখতে যান। একই দিন রাজাখালী ইউনিয়নের নতুনঘোনা, পালাকাটা, সবুজবাজারে গণসংযোগ করেন। এ সময় কয়েকজন গুণীজন ব্যক্তিবর্গের সাথে স্বাক্ষাত করেন। বর্ষিয়ান নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বিএসসিকে দেখতে গিয়েছিলেন। মাষ্টার নুর মোহাম্মদের বাড়িতে যান। ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সিকদার বাবুল ও আ’লীগ নেতা-কর্মীদের সাথে কৌশল বিনিময় করেন। ওই দিন আ’লীগের প্রয়াত নেতা আজমগীর চৌধুরীর বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রী জেয়াসমিন আক্তার ও সন্তানদের সাথে দেখা করেন। ১৩ জুলাই টইটংয়ের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে তিনি গণসংযোগ করেন। প্রবীণ আ’লীগের নেতা ছৈয়দ নুর মাস্টারের বাড়িতে বৈঠক করেন। এ সময় আ’লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল নেতা-কর্মী রাশেদের সাথে বৈঠকে মিলিত হন। এ ছাড়া ওই দিন তিনি ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ছরওয়ার কামালের বাড়িতে যান। ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলামের সাথে স্বাক্ষাতে মিলিত হন। ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি-সাধারন সম্পাদক, উপজেলা আ’লীগ নেতাসহ বিপুল মানুষ তার সাথে ছিলেন। দুপুরের দিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম চৌধুরী প্রকাশ নাবালক মিয়ার বাড়িতে গিয়ে স্ত্রী শফিকা বেগমকে কদমবুচি করেন। ওই দিন দুপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আ’লীগ সভাপতি সাহাব উদ্দিন ফরায়েজীর বাড়িতে গিয়ে স্ত্রী জেবুন্নেছা খানমের সাথে স্বাক্ষাত করেন। ওই দিন টইটং বাজার, হাজী বাজার, ধনিয়াকাটা, পশ্চিম সোনাইছড়িসহ অনেক স্থানে রাশেদের গণসংযোগ হয়েছে। রাশেদুল ইসলাম আ’লীগের কক্সবাজার জেলার একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন সংগঠক। এর আগে ২০০৬ সালে রাশেদুল ইসলাম আ’লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। কক্সবাজার সদর রামু আসন থেকে তাকে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন দেন। ইয়াজ উদ্দিনের অধীনে আ’লীগ নির্বাচন থেকে সরে দাড়ান। সারা দেশে আ’লীগের প্রার্থীরা নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন। রাশেদও তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। রাশেদুল ইসলাম রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তার পিতা এডভোকেট জহিরুল ইসলাম ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর। জহির সাহেব ছিলেন একজন কৃত্বিমান রাজনীতিবিদ। চকরিয়া থেকে এডভোকেট জহিরুল ইসলাম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রাদেশিক পরিষদ থেকেও তার পিতা সদস্য হয়েছেন। এরপর ৭৫ এর দিকে জহিরুল ইসলাম কক্সবাজারের গভর্ণর হিসেবে নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর আ’লীগের কঠিন সময়ে এডভোকেট জহিরুল ইসলাম এ অঞ্চলে আ’লীগের দু:সময়ে নেতৃত্ব দেন। সামরিক শাসন ও মার্শাল’র সময় আ’লীগের রাজনীতি থেকে পিছু হটেননি। নিপীড়ন ও দু:সময় কঠিন পরিস্থিতিতে এ দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন। ছিলেন জেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক ও আ’লীগের জাতীয় কমিটির নেতাও । পিতার যোগ্য সন্তান হিসেবে এবার মনোনয়নের জন্য নেত্রীর কাছে গিয়েছেন। সব ঠিকঠাক থাকলে আ’লীগের মনোনয়ন পেতে রাশেদকে বেগ পেতে হবেনা। তিনি আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে চকরিয়া-পেকুয়ার সংসদীয় আসন থেকে ভোট করার দৃঢ় চিত্তে মাঠে নেমেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com