August 9, 2026, 7:48 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় ১০ পিস ইয়াবা ও দুই পুটলি গাঁজা জব্দ করেছে পুলিশ। মসজিদের পুকুর পাড়ের নির্জন স্থান থেকে এ সব মাদকদ্রব্য ইউপি’র গ্রাম পুলিশ উদ্ধার করে। এ সময় উদ্ধার হওয়া এ সব মাদকদ্রব্য পেকুয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ দিকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার নিয়ে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ ও নারী ইউপি সদস্যের মধ্যে তুমুল বিতর্ক দেখা দেয়। এ ঘটনার জের ধরে ইউপির নারী সদস্যের অনুগত লোকজন গ্রাম পুলিশকে হেনস্থাসহ মারধর করে। এক পর্যায়ে হামলার কবল থেকে রক্ষা পেতে গ্রাম পুলিশ ইউপির সাধারণ ওয়ার্ডের সদস্যের বাড়িতে আত্মগোপনে থাকেন। খবর পেয়ে মহিলা মেম্বারের লেলিয়ে দেওয়া দুবৃর্ত্তরা পুরুষ মেম্বারের বাড়িতে হানা দেয়। এ সময় উত্তেজিত লোকজন গ্রাম পুলিশকে প্রাণনাশ চেষ্টাও চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২ জুলাই (রবিবার) বিকেল ৫ টার দিকে উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের নোয়াখালী পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৩০ জুন দিবাগত গভীর রাতে নোয়াখালীপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন পুকুর পাড়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা মাদক সেবন ও বিকিকিনি করছিলেন। এ সময় খবর পেয়ে বারবাকিয়া ইউপির ৭ নং ওয়ার্ডের কর্মরত গ্রাম পুলিশ মাহামুদুল করিমসহ স্থানীয়রা সেখানে পৌছেন। লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদকসেবীরা সটকে পড়ে। এ সময় ১০ পিস ইয়াবা ও দুই পুটলি গাঁজাসহ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে এ সব মাদকদ্রব্য পেকুয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ দিকে পরের দিন ১ জুলাই গ্রাম পুলিশ মাহামুদুল করিম ও স্থানীয় ইউপির সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য জাহান আরা বেগমের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। মাদক পুলিশকে হস্তান্তর করা নিয়ে মহিলা মেম্বার গ্রাম পুলিশকে হাকাবকা করে। এমনকি ২ জুলাই (রবিবার) বিকেল ৫ টার দিকে ৩০/৪০ জনের উত্তেজিত লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে গ্রাম পুলিশ মাহামুদুল করিমকে ধরতে তার বাড়িতে হানা দেয়। এ সময় গ্রাম পুলিশ মাহামুদুল করিম পালিয়ে ইউপি সদস্য মাহাবুল আলমের বাড়িতে আশ্রয় নেন। এমনকি নারী ইউপি সদস্য জাহান আরার লোকজন পুরুষ মেম্বারের বাড়িতেও হানা দেয়। সেখানে গ্রাম পুলিশ মাহামুদুল করিমকে কিল, ঘুসিসহ মারধর করে। টানা হ্যাচড়া করে পরনের শার্ট ছিড়ে ফেলে। ইউপি সদস্য মাহাবুল আলম জানান, এটি অসম্ভব নিষ্টুরতা। পরিত্যক্ত মাদকগুলি পুলিশকে বুঝিয়ে দেওয়া এটাতো দোষ নয়। প্রত্যক্ষদর্শী নুরুন্নিসা, আয়েশা বেগম, রশিদা বেগম, নুরতাজ, আয়মনসহ গৃহবধূরা জানান, আমরা গিয়ে চৌকিদার মাহামুদুল করিমকে উদ্ধার করেছি। গ্রাম পুলিশ মাহামুদুল করিম জানান, আমি উদ্ধারকৃত মাদক পুলিশকে দিয়ে দিয়েছি। এটি ছিল আমার অপরাধ।
প্যানেল চেয়ারম্যান আনিসুল করিম জানান, মাহামুদুল করিমকে ধরতে গিয়েছে সেটি আমাকে অবগত করা হয়েছে।
পেকুয়া থানার এস,আই মফিজুল ইসলাম জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় মাদকগুলি পাওয়া গিয়েছে। জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।