August 9, 2026, 7:45 am

চকরিয়ায় আদালতের নির্দেশ উপেক্ষিত: সরকারি ভাবে জব্দকৃত বালু অবৈধভাবে পাচার

চকরিয়ায় আদালতের নির্দেশ উপেক্ষিত: সরকারি ভাবে জব্দকৃত বালু অবৈধভাবে পাচার

মনসুর মহসিন, চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজারের চকরিয়ায় উপজেলা প্রশাসন কতৃক জব্দকৃত বালু আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পুনঃ স্থাপন না করে, পাচারের অভিযোগ উঠছে।

বালু পাচারকারী সিন্ডিকেটের সদস্য রংমহল এলাকার সোনামিয়া শুক্রবার রাতে ডুলাহাজারা বন বিটের বন কর্মী নুর মোহাম্মদকে মারধরের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোনামিয়ার বক্তব্য রমজান মাসে বালু পাচারে বাধা না দেয়ার জন্য বন বিভাগের সাথে কনটাক্টের আশি হাজারের মধ্যে পঞ্চাশ হার টাকা দেওয়া হয়েছে, বাকি ত্রিশ হাজার টাকা না পেয়ে ফরেস্ট গার্ড নুর মোহাম্মদ খারাপ কথা বলায় সে মারধর করেছে। অন্যদিকে বনবিভাগ বলছে বালু পাচারে বাধা দেওয়ায় বন কর্মীকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের আওতাধীন ফাঁসিয়াখালী ও ফুলছড়ি রেঞ্জের ডুলাহাজারা, মেধা কচ্ছপিয়া ও খুটাখালী বন বিটের ৯টি পয়েন্টে জব্দকৃত বালু সমুহ পুনঃ স্থাপনের অনুমতি চেয়ে বিজ্ঞ আদালতে বন মামলা ৭৪/২০২২ দায়ের করেন বন বিভাগ। উক্ত মামলার শুনানি শেষে গত বছরের ১০ অক্টোবর বিজ্ঞ আদালত পরবর্তী একমাসের মধ্যে জব্দ কৃতবালু সমুহ যে স্থান থেকে উত্তোলন করা হয়েছে, সে স্থানে পুনঃ স্থাপন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বনবিভাগকে নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশ প্রদান করার ৬ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো বালু গুলো যথাস্থানে প্রতিস্থাপন করেননি বন বিভাগ। পক্ষান্তরে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে জব্দকৃত বালু ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তার যোগসাজশে পাচারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় জনসাধারণ।
ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসানুল ইসলাম আদর যুগান্তরকে বলেন, বনভূমি থেকে বালুখেকোরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে পাচার করার ফলে ইউনিয়নের লম্ব্রোবিল, দাঙ্গারবিল, বগাচতর ও পাগলির বিল এলাকা বিরানভূমিতে পরিনত হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন এসব এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে উত্তোলনকৃত বিপুল পরিমাণ বালু জব্দ করেন। বিজ্ঞ আদালত জব্দকৃত বালু একমাসের মধ্যে পুন স্থাপনের জন্য ফুলছড়ি রেঞ্জ ও ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিলেও বিগত ছয় মাসেও তা প্রতিস্থাপন করা হয়নি। পক্ষান্তরে সরকারি ভাবে জব্দকৃত বালু গুলো ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেরাজ উদ্দিনের যোগসাজশে বালুখেকোরা অবৈধভাবে প্রতিদিন গড়ে ৩০/৪০ গাড়ি বালু অন্যত্র পাচার করেছে বলে জানান তিনি।

এবিষয়ে ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেরাজ উদ্দিন বলেন, আমার রেঞ্জের আওতাধীন অধিকাংশ বালু ডাম্পিং করা হয়েছে। লোক স্বল্পতার কারনে আদালতের নির্দেশ যথাযথ ভাবে পালন করা যাচ্ছেনা। বন বিভাগের যোগসাজশে বালু পাচারের বিষয়টি সঠিক নয় উল্লেখ করে ফরেস্ট গার্ড নুর মোহাম্মদ এর উপর হামলাকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেপি দেওয়ান যুগান্তরকে বলেন, আমি এক সপ্তাহ আগেও এসিএফ ও রেঞ্জ কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে বলেছি আদালতের আদেশ প্রতিপালন করার জন্য। এজন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাপোর্ট লাগলে দেয়া হবে।##

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com