August 9, 2026, 9:35 am
পেকুয়া প্রতিনিধি
কক্সবাজারের পেকুয়ায় জায়গার বিরোধের জেরে বড় বোনকে পিটিয়ে আহত করেছে আপন ছোট ভাই। এ সময় বসতভিটার ঘেরা ভাংচুরও করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বটতলীয়া পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত খতিজা বেগমকে (৫৫) পেকুয়া সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। খতিজা বেগম ওই গ্রামের আমিরুজ্জামানের স্ত্রী।
খতিজা বেগম বলেন,আমার তিন ছেলে ওমান প্রবাসি। গত চার বছর আগে বড় ও মেজ ছেলের নামে জেঠা বদিউল আলমের কাছ থেকে ১০ শতক জমি খরিদ করে ভোগ দখলে রয়েছি। একই ভাবে গত তিন বছর আগে আমার ছোট ভাই মফিজুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে তিন ছেলের নামে ১০ শতক জমি ক্রয়ের মৌখিক চুক্তিনামা হয়। ছোট ভাই মফিজও ওমান প্রবাসি। ওমানে ছেলেদের বাসায় জমি বিক্রির ৫লক্ষ টাকা মফিজকে বুঝিয়ে দেয়। আড়াই লক্ষ টাকা অপর ছোট ভাই রফিকুল ইসলামকে দেশে বুঝিয়ে দিই। তারা জায়গাও ওই সময় দখল বুঝিয়ে দেয়। বিদেশ থাকায় জায়গা কবলা নিতে পারিনি। জায়গা আমার দখলে রয়েছে।
তিনি আরো জানায়,বড় ছেলে আবদুর রশিদের ওই জায়গার ওপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। সে তার দু’ভাইকে বঞ্চিত করে একাই দখলে নেওয়ার পাঁয়তারা শুরু করে।ভাইয়েরাও তার পক্ষে নিয়েছে। তারা আবদুর রশিদকে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে জমি জবর দখলে নেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। জমি ক্রয়ের জন্য তিন ভাই টাকা দিলেও মুলত আবদুর রশিদের নামে জায়গা ক্রয়ের ফন্দী করছে।
বড় ছেলের ইন্ধনে রফিকের নেতৃত্বে আরাফাত,মিয়াসহ আরো কয়েকজন দুর্বৃত্ত বসতভিটায় হানা দেয়। এ সময় ঘেরাবেড়া দিয়ে জায়গা দখলের চেষ্টা করে। এ সময় বাধা দেয়ায় তারা আমাকে পিটিয়ে জখম করে। এক মাস আগেও রফিকের নেতৃত্বে কয়েকজন লোক ১টি গরু ও মাড়াই করা ধান লুট করে নিয়ে যায়।
খতিজা বেগমের ছেলে প্রবাসি আব্দুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, তিন ভাই মিলে তাদের মামা মফিজ ও রফিককে জমি কেনার টাকা দিয়েছে। বড় ভাই আবদুর রশিদ কিছু দিন আগে সংসার থেকে আলাদা হয়ে যায়। আমাদের বঞ্চিত করতে দু’মামার সাথে হাত মেলায় আবদুর রশিদ। টাকা ফেরাত নেওয়ার কথা বলে গোপনে ওই জমি নিজের নামে ক্রয় করার স্বপ্ন দেখছে। তার ইন্ধনে দেশে মাকে বার বার নির্যাতন চালাচ্ছে তার মামা রফিক।
খতিজা বেগমের ছোট বোন রেনুয়ারা বেগম বলেন, বড় বোনকে মেরে আহত করেছে। একদিকে বড় ছেলের নির্যাতন,অপরদিকে আমার ভাইদের নির্যাতন বোনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।