August 9, 2026, 11:44 am

পেকুয়ায় বৃদ্ধা শাশুড়ীকে পেটালেন পুত্রবধূ

পেকুয়ায় বৃদ্ধা শাশুড়ীকে পেটালেন পুত্রবধূ

পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা নারীকে পেটালেন পুত্রবধূ। মধ্যযুগীয় কায়দায় নিষ্ঠুর পিটিয়ে বৃদ্ধা ওই নারীকে জখম করা হয়েছে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ঘটনার জের ধরে স্থানীয় দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা প্রকট আকার ধারণ করেছে। শুক্রবার (১৮ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের মাঝিরপাড়ায় হামলার এ ঘটনা ঘটে। জখমী বৃদ্ধা নারীর নাম গোলবাহার বেগম (৭০)। তিনি ওই এলাকার মৃত মোস্তাক আহমদের স্ত্রী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওইদিন দুপুরের দিকে মৃত মোস্তাক আহমদের স্ত্রী গোলবাহার বেগম ও পুত্রবধূ সৌদি প্রবাসী নুরুল কাদেরের স্ত্রী জিসান মনির মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এর সুত্র ধরে পুত্রবধূ জিসান মণি শাশুড়ী গোলবাহার বেগমকে কিল,ঘুসি,লাথি মারে। এক পর্যায়ে চুলের মুঠি ধরে টানা হ্যাঁচড়া করে মাটিতে ফেলে কন্ঠনালী ছেপে ধরে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় প্রত্যক্ষদর্শীরা গিয়ে বৃদ্ধা গোলবাহার বেগমকে উদ্ধার করে। এমনকি শাশুড়ীকে নিষ্ঠুর নির্যাতন করায় প্রত্যক্ষদর্শীরা পুত্রবধূ জিসান মণিকে বকাঝকা করে। মুঠোফোনে পুত্রবধূ জিসান মণি তার পিত্রালয়ে বিষয়টি জানান। এ সময় খবর পেয়ে ২০/৩০ জনের উত্তেজিত লোকজন একই ইউনিয়নের টেকঘোনা থেকে মাঝিরপাড়ায় পৌছে। তারা জিসান মণির পক্ষ হয়ে মাঝিরপাড়ার লোকজনকে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে করে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতিসহ দ্বিতীয় দফায় মারপিট হয়েছে। ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ায় মাঝিরপাড়ায় ভীতি ও আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ওইদিন শবে বরাতের দিন ছিল। দু’পক্ষের মারামারি থামাতে মসজিদ থেকে জুমার নামাজ পড়তে যাওয়া বিপুল মুসল্লী দ্রæত ঘটনাস্থলে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উত্তেজিত লোকজন মুসল্লীদের উপরও মারধর ও হামলা চালায়। গোলবাহার বেগমের মেয়ে লতিফা জানান, আমার মাকে উপর্যপুরি মারধর করা হয়েছে। ভাগিনা জিল্লুর রহমান জানান, জিসান মণি যে ভাবে মেরেছে মনে হচ্ছে মনুষ্যত্ববোধ তার নেই। নাতি ইব্রাহীম জানান, আমার নানী কয়েক ঘন্টা অজ্ঞান ছিল। হাসপাতালে আনার পর তার জ্ঞান ফিরেছে। মেয়ের নুরজাহান জানান, আমরা মাকে দেখতে হাসপাতালে এসেছি। আমরা ৪ বোন ১ ভাই। একমাত্র ভাইয়ের বউ জিসান মণি। তার অত্যাচার আপনারা দেখুন। ভাগিনা কেজি স্কুলের শিক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান, আমিও মারধরের শিকার হয়েছি। আমরা গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করছিলাম। কিন্তু জিসান মণির বাপের বাড়ির লোকজন গিয়ে মাঝির পাড়ায় অত্যাচার করে। মেয়ের জামাই আবুল হাসেম জানান, আসলে কিভাবে বলবো। একজন শাশুড়ীকে এমন কেউ মারতে পারে। পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) কানন সরকার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com