August 9, 2026, 8:44 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়া প্রবাসীর স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। একদল দুবৃর্ত্তরা প্রবাসীর বসতবাড়িতে হানা দেয়। এ সময় প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ১৪ ফেব্রæয়ারী (সোমবার) সকাল ৮ টার দিকে উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের সুতাচোরা ঠান্ডারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। জখমী নারীর নাম সেলিনা আক্তার হাছিনা (৩৬)। তিনি ওই এলাকার ওমান প্রবাসী গাজী মোহাম্মদ সেকান্দরের স্ত্রী। প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওই দিন সকালে ঠান্ডারপাড়ার মৃত আবুল হোসেনের পুত্র মোহাম্মদ হোসেনসহ একদল দুবৃর্ত্তরা ওমান প্রবাসী গাজী মো: সেকান্দরের বাড়িতে হানা দেয়। এ সময় ব্যাপক লুটপাটসহ তান্ডব চালান। সেকান্দরের স্ত্রী সেলিনা আক্তার হাছিনা দুবৃর্ত্তদের ওই তান্ডবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছিলেন। এ সময় মোহাম্মদ হোসেনসহ ৩/৪ জন দুবৃর্ত্ত ওই নারীকে কিল, ঘুসি মারে। ইট নিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়েছে। উত্তেজিত লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে চুলের মুঠি ধরে টানা হ্যাঁচড়া করে মাটিতে ফেলে স্বজোরে লাথি ও কিল, ঘুসি মারে। তারা ওই নারীকে গলা ছেপে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যারও চেষ্টা চালায়।
সেলিনা আক্তার হাছিনার শাশুড়ী হাজেরা বেগম (৬০) জানান, আমরা দ্রæত এসে পুত্রবধূকে উদ্ধার করি। মাটিতে রক্তের দাগ এখনো রয়েছে। জখমী নারীর স্বামী মো: সেকান্দর জানান, সুতাচোরায় ৮ টি পরিবার যাতায়াতের রাস্তাঘাট ছিলনা। ৩০/৪০ বছর ধরে এ সব পরিবারের অর্ধশতাধিক সদস্য রাস্তা নিয়ে প্রকট সমস্যায় ছিল। আমি জায়গা কিনে রাস্তার জন্য দিয়ে দিয়েছি। ২দিন আগে পরিমাপসহ রাস্তার জায়গা নির্ধারণ করেছি। রাস্তা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে মোহাম্মদ হোসেন গং আমার স্ত্রীকে বর্বরোচিত হামলা করেছে। স্বর্ণের চেইন ও একটি বিদেশী মুঠোফোন সেট নিয়ে যায়। উজানটিয়া ইউনিয়ন মহিলা আ’লীগের সভাপতি ফাতেমা বেগম জানান, আমার বড় ভাবীর কোন অপরাধ ছিল না। মানুষের যাতায়াতের জন্য কেন রাস্তা দিচ্ছে এটি হচ্ছে অপরাধ। সুতাচোরায় বিচ্ছিন্ন জায়গায় ৮ টি পরিবার নিয়ে একটি ভিটাতে বসবাস করছিল। ৫০ বছর ধরে তারা অবরুদ্ধ। গত বর্ষার সময় ওই ভিটা থেকে নুরুন্নাহার নামক একজন নারীর ইন্তেকাল হয়েছিল। বাঁশের ভেলায় করে মরদেহ কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বর্ষার সময়ে এমন দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্রে তোলপাড় হয়েছিল। এ সব পরিবারের জন্য আমার ভাই জায়গা কিনে রাস্তার জন্য দিয়েছেন। মোহাম্মদ হোসেন গং রাস্তার বিরোধিতা করছে। ভাই কেন জায়গা দিচ্ছে এ অপরাধে আমার ভাবীকে পেটানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী মনোয়ারা বেগম জানান, গাজী সেকান্দর আমাদের জন্য রাস্তা দিচ্ছেন। এর জের ধরে তার স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। কাউছারা বেগম জানান, আমরা দ্রæত না গেলে সেকান্দরের বউকে মেরে ফেলতো। নিলুফা বেগম বলেন, খুবই অন্যায় হয়েছে। আমরা পানিতে কষ্ট পাই। রাস্তা দিলে অপরাধ হয়ে যায়। মো: ইসলাম জানান, ৪০ বছর ধরে আমরা কষ্ট পাচ্ছি। চেয়ারম্যান এসে দেখে গিয়েছেন। আর সেকান্দর রাস্তার জন্য জায়গা কিনে দিয়েছে। হুমায়রা জন্নাত সুমি নামক ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী জানান, আমরা ৬০/৭০ জনের লোকজন নিয়ে একটি ঘরভিটায় থাকি। ৮ টি পরিবার বর্ষার সময় পানিতে অবরুদ্ধ থাকি। ২ চেইন মতো অংশে রাস্তা নেই বলে এমন দুর্ভোগ। কেজি স্কুলের ছাত্রী হাফছা জানান, অল্প জায়গায় রাস্তা নেই। আমরা বসবাস করছি বিলের মাঝে। সেখানে সেকান্দর সাহেব রাস্তা দিচ্ছে। রাগ করে তার স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম করে। যারা রাস্তা দিচ্ছে না তারাই হামলা করছে। শাফিয়া জন্নাত কাফী জানান, আমি কেজি স্কুলে পড়ি। বর্ষার সময় স্কুলে যেতে পারি না। অনেকবার বই খাতা পানিতে ভিজে গেছে। এখন রাস্তা দেওয়ার কথা হয়েছে। তাই সেকান্দরের স্ত্রীকে পেটানো হয়েছে। ইউপি সদস্য ওসমান গণি জানান, আমি আর চেয়ারম্যান সাহেব গিয়ে সেখানে একটি রাস্তার জায়গা দেখে এসেছি। ফাতেমার ভাই গাজী সেকান্দর মানুষের জন্য জায়গা দিয়েছে। মারপিটের বিষয়টি আমি জ্ঞাত নই। বিষয়টি দেখবো। পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) কানন সরকার জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।