August 9, 2026, 7:47 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় এরশাদ আলী ওয়াকফ এস্টেটের ৭০ শতক জমি উদ্ধার করলেন পেকুয়ার ইউএনও পূর্বিতা চাকমা। তথ্য গোপন করে ওই জমি জবর দখল করা হয়েছিল। গত কয়েক বছর ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র ওই জমি ভোগ দখলে রাখে। মুনাফা ও সন সন খাজনা থেকে বঞ্চিত হয় ওয়াকফ প্রশাসন। এ সংক্রান্ত তথ্য পেয়ে পেকুয়ার ইউএনও ও এরশাদ আলী ওয়াকফের অফিসিয়াল মোতাওয়াল্লী পূর্বিতা চাকমা জমির স্থিতি নিরুপন করতে সরেজমিনে যান। এ সময় জবর দখলের তথ্য নিশ্চিত হন তিনি। শত শত মানুষের উপস্থিতিতে ওই জমির জবর দখল ছেড়ে দিতে নির্দেশ প্রদান করেন। রাজাখালী ইউপির ৬ নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত মেম্বার ছমিউল্লাহ ওই জমি জবর দখলে রাখে। এ দিকে চলতি ১৪২৮ বাংলা সনে প্রায় ২ একর জমির খাজনা ও লাগিয়তের জন্য চাষা নিয়োগ করা হয়েছে। বকশিয়াঘোনার বাসিন্দা ছৈয়দ নুর সওদাগর চলতি বুরো মৌসুমের জন্য প্রায় ২ একর জমির লাগিয়ত প্রাপ্ত হয়েছেন। ওয়াকফর অফিসিয়াল মোতোওয়াল্লী হিসেবে পেকুয়ার ইউএনও পূর্বিতা চাকমা ওয়াকফ সম্পত্তির লাগিয়তের রশিদ সরবরাহ দিয়েছেন। ছৈয়দ নুর সওদাগর ওই জমি ফসল রোপনের জন্য সেচ কাজ বাস্তবায়ন করেন। জমিতে বুরো ধানের ফসল রোপন করতে পানি ও সেচ দিয়েছেন। পাওয়ার টিলার দিয়ে ওই জমি মাড়াই করেন। কয়েক দিনের মধ্যে জমিতে ফসল ফলাবেন। ঠিক আগ মুহুর্তে রাজাখালী ইউপির ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ছমিউল্লাহ ওয়াকফ জমি ফের জবর দখলে নিতে লোলুপ দৃষ্টি দেয়। ইউএনও এর চাষা ছৈয়দ নুরকে জমিতে ফসল রোপণ না করতে বারণ করে। এমনকি ওই জমি থেকে বিতাড়িত করতে ছৈয়দ নুরকে একাধিকবার হাকাবকাসহ হুমকি ধমকি দেয় ইউপির এ সদস্য। ভীতি ও আতংক ছড়িয়ে ওয়াকফর চাষাকে জমি থেকে বিতাড়িত করতে ছমিউল্লাহ তার অনুগত কিছু দাগী প্রকৃতির লোককে ছৈয়দ নুরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়। এতে করে রাজাখালী ইউনিয়নের বকশিয়াঘোনায় আধিপত্যবাদ বিরাজ করছে। একদিকে ওয়াকফর বৈধ চাষা অপরদিকে পেশীশক্তিচক্র। এখন কে জমিটি ভোগ করবে এ নিয়ে চলছে দোদুল্যমানতা। স্থানীয়রা জানান, ছমিউল্লাহ মেম্বার অত্যন্ত লোভী প্রকৃতির। মানুষকে জিম্মী করে সম্পদশালী হওয়া তার দীর্ঘদিনের দৃষ্টিভঙ্গি। নিজের আসল কুকৃতি লোকায়িত করে সম্প্রতি নির্বাচিত হয়েছেন মেম্বার। বকশিয়াঘোনাসহ ৬ নং ওয়ার্ডটি সমুদ্র ও সাগর বেষ্টিত লোকালয়ে। সম্পদসমৃদ্ধ এ ওয়ার্ডটিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করে ছমিউল্লাহ মেম্বার নির্বাচিত হয়েছেন। গত ইউপি নির্বাচনে ওয়াকফ নিযুক্ত বর্তমান হাল সনের চাষা ছৈয়দ নুরও মেম্বার প্রার্থী ছিলেন। লাঠিম প্রতীক নিয়ে তিনিও তুমুল প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। তবে ছমি উল্লাহ মেম্বার নির্বাচিত হয়েছেন। এরপর থেকে প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী ও পূর্বের কিছু অন্ত:দ্বন্ধের মানুষকে পিষ্ট করতে তার নতুন দৃষ্টিভঙ্গির অবতারণা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ছৈয়দ নুর ওয়াকফর বৈধ চাষা হলেও তাকে ওই সম্পত্তি থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা চলছে। পেকুয়ার ইউএনও পূবির্তা ১৯ জানুয়ারী (বুধবার) বিকেলে বকশিয়াঘোনায় ওয়াকফ এস্টেটের জমি পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন। এ সময় শত শত লোকজন ইউএনওকে ওয়াকফর জমি ছমিউল্লাহর অবৈধ দখলে থাকার বিষয়টি অবগত করেন। ইউএনও বেদখলে থাকা জমির স্থিতি নিরুপন করেন। এ সময় ওই জমির জবর দখল ছেড়ে দিতে ছমিউল্লাহ মেম্বারকে নির্দেশনা দেন। ইউএনও এর এমন ঘোষণা লোকজন প্রত্যক্ষ করেন। এ সময় শত শত উপস্থিত মানুষ ইউএনও এর এ ভূমিকার জন্য ভূয়সী প্রশংসা করেন। লোকজন বলেন, আসলে এ ধরনের নির্বিক ও সাহসিক অফিসারের প্রয়োজন। সরকারী সম্পত্তির প্রতি তিনি কোন ধরনের ছাড় দেন না। যেমনি ছমিউল্লাহ মেম্বারের ক্ষেত্রে হয়েছে। আমরা সাধুবাদ জানাই যেন আরো জবর দখলে থাকা ওয়াকফর জমিগুলি দ্রæত উদ্ধার করা হউক।