August 9, 2026, 7:35 am

পেকুয়া সদরে মোটর সাইকেল প্রতীক পেলেন প্রার্থী গফ্ফার চৌং

পেকুয়া সদরে মোটর সাইকেল প্রতীক পেলেন প্রার্থী গফ্ফার চৌং

পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় সদরে মোটর সাইকেল প্রতীক পেলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল গফ্ফার চৌধুরী। পেকুয়ার প্রখ্যাত জমিদার বাড়ি ফতেহ আলী মাতবর বাড়ির কৃতি সন্তান নুরুল গফ্ফার চৌধুরী। খ্যাতিমান সম্ভ্রান্ত বুনিয়াদি পরিবারের ওই সন্তান এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে হয়েছেন পদপ্রার্থী। তার প্রার্থী হওয়া নিয়ে ভোটারদের মধ্যে বেড়েছে উচ্ছাস ও উদ্দীপনা। নুরুল গফ্ফার চৌধুরী একজন জনদরদী ও সমাজসেবক। প্রচন্ড প্রতিবাদী এবং ন্যায় পরায়ন ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় সুনাম রয়েছে। রাজনীতিতে ও সমাজনীতিতে ফতেহ আলী মাতবরবাড়িটি ছিল এ অঞ্চলে প্রসিদ্ধ। অবিভক্ত পেকুয়ায় প্রথম জনপ্রতিনিধি ছিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল গফ্ফার চৌধুরীর গর্বিত পিতা সিরাজুল হক চৌধুরী। বৃটিশ শাসনামলে ইউনিয়ন পরিষদের নাম ছিল পঞ্চায়েত। পঞ্চায়েত থেকে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী পেকুয়ার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সেই সময় পঞ্চায়েত প্রধানের পদবী ছিল প্রেসিডেন্ট। যা বর্তমানে চেয়ারম্যান হিসেবে স্বীকৃত। পাকিস্থান শাসনামলেও নুরুল গফ্ফার চৌধুরীর পিতা এ পেকুয়াকে শাসন করেছেন। ইউনিয়ন কাউন্সিলে সিরাজুল হক চৌধুরী জনপ্রতিনিধি ছিলেন। তবে পরোক্ষ গণতন্ত্র প্রথা ছিল। সেই সময় থেকে এ পরিবারটি রাজনীতিতে মূখ্য ভূমিকা রাখে। অবিভক্ত পেকুয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট (চেয়ারম্যান) মরহুম সিরাজুল হক চৌধুরীর সর্বকনিষ্ঠ সন্তান নুরুল গফ্ফার চৌধুরী। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পেকুয়া সদর ইউপি থেকে চেয়ারম্যান পদে ভোট করছেন। ইতিমধ্যে তিনি প্রচার প্রচারনায় ব্যস্ত হয়েছেন। তার নির্বাচনী প্রতীক মোটর সাইকেলকে জেতাতে ছুটছেন ভোটারদের কাছে। প্রচার প্রচারণায় নির্বাচনী মাঠ সরগরম। তিনি যে দিকে যাচ্ছেন সে দিকেই ভোটাররা তাকে নিয়ে দেখাচ্ছেন সমর্থন ও আগ্রহ। সমাজের উদীয়মান সমাজ সেবক হিসেবে তাকে মানুষ আগে থেকে জানতেন ও চিনতেন। উদার প্রকৃতির মনোভাব সম্পন্ন ব্যক্তি নুরুল গফ্ফার চৌধুরী যে কোন কঠিন ও দু:সময়ে মানুষের পাশে ছিলেন। তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়নের জন্য অনেক আগে থেকে নিজকে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। ফতেহ আলী মাতবর ওয়াকফ ষ্টেটের কার্যকারক (মোতাওয়াল্লী) ও ছিলেন। সে সুবাধে পেকুয়া অঞ্চলে বিশাল ভূমি মানুষের বসবাস উপযোগী হয়েছে। প্রজাদের কাছেও তিনি নিরাপদ ও সর্ব ত্যাগী হিসেবে বেশ প্রশংসিত। নুরুল গফ্ফার চৌধুরী ব্যক্তিগত জীবনে যেমন মানুষের কাছে পরিচিত তেমনি তার পরিবারে রয়েছে বেশ কিছু কৃত্বিমান সন্তান। তার বড় ভাই শ,ম শামশুল হুদা চৌধুরী কক্সবাজারসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রখ্যাত ব্যক্তি। শ, ম শামশুল হুদা চৌধুরী কক্সবাজার সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি কক্সবাজার “ল” কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষও ছিলেন। তার দুই ভাতিজা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ন দায়িত্বে রয়েছেন। আপন ভাতিজা ড. শাহেদ ইকবাল সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব। অপর ভাতিজা শাব্বির ইকবাল (উপসচিব পদমর্যাদা) চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নিবাহী কর্মকর্তা। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ডা: আনিসুল মাওলা নুরুল গফ্ফার চৌধুরীর বড় ভাই গোলাম মাওলা চৌধুরীর পুত্র। দেশের বিখ্যাত স্থাপত্যবিদ আহসান মাওলা চৌধুরীও নুরুল গফ্ফার চৌধুরীর ভাতিজা। কক্সবাজার জেলা তাঁতীলীগের সভাপতি আরিফুল মাওলা চৌধুরীও নুরুল গফ্ফার চৌধুরীর ভাতিজা। পেকুয়া সদর ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ভোট করছেন নুরুল গফ্ফার চৌধুরী। তার গর্বের ধন সন্তান আবদুল্লাহ আল জিওয়ান একজন মেধাবী ছাত্র। রাজধানী ঢাকার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়ালেখা করছেন। কেন তিনি চেয়ারম্যান পদে ভোট করছেন তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি হবে এমন প্রশ্নের জবাবে মোটর সাইকেল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল গফ্ফার চৌধুরী বলেন, আমি পেকুয়াকে পরিবর্তন করার জন্য ভোট করছি। এখনো মানুষ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত। ইউনিয়ন পরিষদে বিচারহীনতার সংষ্কৃতি বিদ্যমান। সরকার তৃণমূলের এ সেবাখাতকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ছড়িয়ে দিতে ইউনিয়ন পরিষদকে অনেক শক্তিশালী করে। গ্রাম আদালত তফশীলভূক্ত বিচারিক প্রতিষ্ঠান। এখানে সাধারন মানুষ বিচার পাননা। আমি চেয়ারম্যান হলে সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবো। ইউনিয়ন পরিষদকে নাগরিক সেবার উত্তম প্রতিষ্ঠান হিসেবে রুপান্তর করবো। সনদ, জন্মনিবন্ধনসহ যে কোন প্রয়োজনীয় সেবার ভোগান্তি নিরসন হবে। অহেতুক টাকা পয়সা নিয়ে কাউকে হয়রানি হতে দেবনা। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখবো। পেকুয়া সদর উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত ভাবে এখনো পিছিয়ে রয়েছে। অনেক গ্রামে রাস্তাঘাট নেই, যানবাহন চলাচল করেনা। তবে মানুষ পায়েও হেঁেট যেতে কষ্ট পাচ্ছে। আমার প্রথম কাজ হবে আগে সেই সমস্যা উদঘাটন করা। এরপর এ সব রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করা। কৃষি ও মৎস্যখাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র বিমোচন প্রচেষ্টা থাকবে। দুর্ণীতিমুক্ত করা হবে ইউনিয়ন পরিষদকে। এ ক্ষেত্রে কোন ধরনের অনিয়ম ও দুর্ণীতিকে প্রশ্রয় দেয়া হবেনা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com