August 9, 2026, 7:33 am

পূজামন্ডপের ঘটনায় পুলিশ বাদী মামলায় পেকুয়ায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীর বিরুদ্ধেও মামলা

পূজামন্ডপের ঘটনায় পুলিশ বাদী মামলায় পেকুয়ায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীর বিরুদ্ধেও মামলা


পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় পূজামন্ডপে নাশকতা ও সহিংসতার ঘটনায় পেকুয়া থানায় মামলা হয়েছে। পেকুয়া থানার এস,আই খায়ের উদ্দিন ভূইয়া বাদী হয়ে ১৫ অক্টোবর (শুক্রবার) মামলাটি রুজু হয়েছে। যার নং ০৪/২১। মামলায় ১৭ জনকে এজাহার নামীয় অজ্ঞাত আরো ৫শতাধিককে আসামী করা হয়েছে। মামলায় হাসপাতালে ভর্তি ১ জন অসুস্থ ব্যক্তিকেও এজাহারনামীয় ৯ নং আসামী করা হয়েছে। তার নাম হেনাউল ইসলাম চৌং বাবুল। তিনি সদর ইউনিয়নের শেখেরকিল্লাঘোনা গ্রামের মৃত ফরিদুল হক চৌং এর ছেলে। সুত্র জানান, ঘটনার দিন হেনাউল ইসলাম চৌং বাবুল নামক ওই ব্যক্তি পেকুয়ার বাইরে অবস্থান করছিলেন। তিনি ১৫/১৬ দিন আগে থেকেই রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করছেন। দীর্ঘদিন ধরে মামলার এজাহারভূক্ত ৯ নং আসামী হেনাউল ইসলাম চৌং বাবুল জটিল রোগে ভোগছিলেন। হৃদরোগে তার শরীর অবনতির দিকে। এতে করে শারীরিক চিকিৎসার জন্য ঘটনার কয়েক দিন আগে থেকে তিনি রাজধানী ঢাকার ইভার কেয়ার প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা করছিলেন। তিনি ওই হাসপাতালে ডে কেয়ারে নিয়মিত চিকিৎসা করছিলেন। হেনাউল ইসলাম চৌং বাবুল পেকুয়ায় না থেকেও পুলিশ বাদী মামলাটিতে আসামী হয়েছেন ওই খবর জানাজানি হলে পেকুয়ায় সচেতন নাগরিকসহ সকল শ্রেনীর মানুষের মাঝে বিরুপ মন্তব্য পাওয়া গেছে। শেখেরকিল্লাঘোনার স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এ মামলায় বাবুল চৌংকে প্রতিহিংসামূলক আসামী করা হয়েছে। তিনি একজন ভদ্র, ন¤্র ও মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন সমাজের উদারপ্রেমী মানুষ। তিনি কখনো সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী কোন কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন না। আমরা তার মধ্যে মানবিক উদারতা দেখেছি। তিনি কোন রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও সম্পৃক্ত নন। এক সময় সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদের বিশ্বস্থ মানুষ ছিলেন। তবে সেটি ছিল রাজনৈতিক গুণে নয়। ব্যক্তিত্ব ও প্রতিবেশীর অধিকার হিসেবে একজন সৎ ও আদর্শিক মানুষকে সালাহ উদ্দিন বিশ্বাস করতেন বলে তাকে সঙ্গ দিতেন। হেনাউল ইসলাম চৌং বাবুল পেকুয়ার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। বুনিয়াদী পরিবারের ওই সন্তান এখানকার সমাজের উন্নয়নমূলক কাজে নিজকে জড়িয়ে রাখেন। গরীব ও অসহায়দের সাহায্য সহায়তার হাত বাড়াতে তিনি কখনো কার্পণ্য করেননি। অসুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসা, অন্নহীন মানুষের সাহায্যের জন্য তিনি সব সময় এগিয়ে গিয়েছেন। করোনা মহামারীতে শত শত কর্মক্ষম ব্যক্তিকে দিয়েছেন অর্থ সহায়তা। বিশেষ করে খাদ্য সহায়তাও মানুষের কাছে পৌছিয়ে দেন। প্রতি বছর ঈদুল ফিতরের সময় দরিদ্র মানুষের কাছে নতুন জামা কাপড় ও ঈদ সামগ্রীর জন্য দিয়েছেন অর্থের যোগান। রমজানের সময় দরিদ্রদের কাছে পাঠিয়েছেন রমজান সামগ্রী। এ ভাবে তিনি সমাজের মানুষের কল্যাণের জন্য অবিরাম কাজ করছেন। শিক্ষা বিস্তারের জন্য বাবুল চৌং এর অবদান সর্বজন স্বীকৃত ও প্রশংসনীয়। নিজ মায়ের নামে প্রতিষ্টা করেন এতিমখানা। নুরজাহান বেগম এতিমখানার মাধ্যমে এতিম ও সমাজের দরিদ্র মানুষের সন্তানদের পড়ালেখা চলছে এ প্রতিষ্টান থেকে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এ সব প্রতিষ্টানের জন্য অনুদান দিয়ে থাকেন। সুত্র জানায়, গত বুধবার (১৩ অক্টোবর) পেকুয়ায় হিন্দুদের শারদীয় দুর্গোৎসবে ভাংচুর ও হামলার ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। পেকুয়া থানার এস,আই খায়ের উদ্দিন ভূইয়া বাদী হয়ে হেনাউল ইসলাম চৌং বাবুলসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫ শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে। মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশ টহল জোরদার করেছিলেন। এ সময় আসামীসহ উচ্ছৃংখল লোকজন দুর্গোৎসবের গেইট ভাংচুর চালায়। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসবে সহিংসতাসহ নাশকতা চালায়। এ সময় পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন আনার চেষ্টা করে। কিন্তু হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা ও তান্ডব চালায়। এ সময় পুলিশকে সরকারী কাজে বাধা দেয়। মামলায় উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও সদরের চেয়ারম্যান এম, বাহাদুর শাহসহ সংগঠনের জৈষ্ট্যনেতাদেরও আসামী করা হয়েছে। এ ব্যাপারে শেখেরকিল্লাঘোনার অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হেনাউল ইসলাম চৌং বাবুল ঘটনার দিন পেকুয়ার বাইরে অবস্থান করছিলেন। এ ব্যাপারে হেনাউল ইসলাম চৌং বাবুলের স্ত্রী আনজানা সোলতানা জানান, আমার স্বামী অসুস্থ। তিনি অনেক দিন ধরে হার্টের রোগী। ১৫/২০ দিন ধরে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আছেন। তিনি একটি ক্লিনিকে নিয়মিত চিকিৎসার জন্য যাওয়া আসা করেন। সেখানকার চিকিৎসকের তত্তাবধানে চলছে আমার স্বামীর চিকিৎসা। এটি একজন দুর্বল অসুস্থ মানুষের উপর নিপীড়ন। আইন সৃষ্টের লালন করে, আর দুষ্টকে দমন করে। আমরা ন্যায় বিচার চাই। নিরপেক্ষ তদন্ত কামনা করছি। আসলে যারা অপরাধী ওরাই আইনের আওতায় আসুক। আমি মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আহবান করছি এ মামলার বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য। হেনাউল ইসলাম বাবুল এর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, আসলে আমিও বিষয়টি শুনেছি। আমিতো পেকুয়াতে নেই। পুলিশ তদন্ত করুক। আর আপনারা মিডিয়াকর্মীরাও আসল বিষয়টি উদঘাটন করুন। আমি এলাকায় ছিলাম কিনা। আমার উপর প্রতিহিংসা। পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) কানন সরকার জানান, মামলায় নিরাপরাধ ব্যক্তি থেকে থাকলে অবশ্যই তদন্তের পর বাদ যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com