August 9, 2026, 8:38 am
সাইফুল ইসলাম বাবুল
কক্সবাজার জেলায় নব্য বসনিয়া এখন পেকুয়া উপজেলা। প্রতিনিয়ত অত্যচার নির্যাতনে অতিষ্ট পেকুয়াবাসী। জাতিগত নিধনের ন্যায় নিদৃষ্ট বলয়ের বাইরের লোকদের দলবর্জনের ব্যাবস্থা, অরাজনীতিকরণ, অর্থনৈক ক্ষতি, বিনাদোষে মামলা, পথে ঘাটে সম্মান হানি, দখল, যত্রতত্র বিচার সভার নামে মানুষকে মানষিক চাপে রাখা, অন্যের ব্যাবসা বন্ধকরণ, চাঁদাবাজী, পুলিশী হরানী (তদন্ত ওসি’র) নিত্য নৈমিতিক ব্যাপার। সভা-সমাবেশে লাগামহীন গালীগালাজ মানুষের হৃদয় ভঙ্গের কারন হয়ে দাড়িয়েছে।
একদিন ছিলো পেকুয়ার ছেলেরা কক্সবাজার চালাতো। কিন্তু আজ পেকুয়া নিষ্পেষিতো। আমাদের অভিভাবক সম নেতা এডভোকেট আমজাদ হোসেন আমাদের ছেড়ে পরপারে চলে গেছেন। এডভোকেট জহিরুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী সালাউদ্দিন তারাও থেকে না থাকার মতো। প্রথম জন বাধক্য জনিত কারণে অনেকটা ঝিমেয়ে পড়েছে অন্যজন অনেক দূরে।
অভিভাবকহীন পেকুয়ায় যারা অভিভাবকত্বে আছেন তারাও ” মা ছাড়া বাপ তালই”র মতো। মনে মনে অনেক বৈষম্য লালন করেন।অপাত্রে ঘি ঢালেন। যেমন
কোন দুঃখে এতো আইন শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য, কোন যোগ্যতায়? নাকি থানায় দালালী করার লাইসেন্স। একজন সাংবাদিক বানিজ্য, একজন গ্রাম্য টাউট, একজন জবর দখলকারী। একজন সাংবাদিকের বৈধ বানিজ্য ছাড়া কোন জায়গা থেকে এতো টাকা আসে এবং আইন শৃঙ্খলা বুঝার মতো তাদের কি যোগ্যতা আছে ? একজন নিরীহ পত্রিকা বিক্রেতা (হকারের) জায়গা এবং মস্ত বড় সাংবাদিক পরিচয়ে সাইনবোর্ড লাগিয়ে সরকারি জায়গায় দখল কারী। এদের থেকে পেকুয়াবাসী কি আশা করতে পারে?
আরেকজন সরকারি পানি চলাচলের খাল চাকখালী আট লক্ষ টাকায় চিংড়ি চাষের জন্য ইজারা দেয়। উজানটিয়া ঘাটে কয়লা বিদ্যুতের মালবাহী ট্রাবিস থেকে দৈনিক চাঁদা আদায় করে।থানায় আনার হুমকি দিয়ে নিরীহ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায়। ঘরে ঘরে মামলা ঝগড়া বাধানোতে ওস্তাদ। পেকুয়ার চর স্কুল থেকে কবিরা বাপের বাড়ি পর্যন্ত ওয়াফাদার জমি ফ্লাটে বিক্রি করে কোটি টাকার বাণিজ্য করেছে। তাদের কি আলাদিনের প্রদীপ আছে? উৎস ছাড়া চকরিয়ায় দুটি দালানের মালিক যার মূল্য কোটি টাকা। আর ক্ষমতার দূরত্বে মানুষ অতিষ্ঠ বড় সাহেব ছোট সাহেব অবস্থা। ভিতরে বড় ভাই আইন শৃঙ্খলা মিটিংয়ে আর ছোট ভাই উপজেলার বারান্দায় মানুষকে গালি দেয়।
মাযুয বাহিনীর প্রধান জেলে যাওয়ায় যেনো এক মেরু বিশ্ব। মোড়লীপনার শেষ নেই। শেষ প্রশ্ন এসব লোক দিয়ে কি আইন শৃঙ্খলার বারোটা বাজবে না? স্বশিক্ষিত লোক দিয়ে কি ততটুকু আগানো যাবে?
এবার একটু রাজনীতি করি, এখন পেকুয়ায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিল। নিজদলের ভিতর ভোট ডাকাতির চেয়ে অনেক ভয়াবহ কান্ড হচ্ছে। দলের ত্যাগী কর্মীদের বাদ দিয়ে হাইব্রিড ও অন্য দল সমর্থিত লোকজন দিয়ে কাউন্সিল হচ্ছে। অনেক ওয়ার্ডে নাকি কাউন্সিল হচ্ছে তবে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে নয়। সরাসরি পার্টি অফিসের চার দেওয়ালের মধ্যে। ইচ্ছামত কমিটি হচ্ছে দলের ত্যাগী কর্মীদের বাদ দিয়ে। হাইব্রিড ও অন্য দল সমর্থিত লোকজন কাউন্সিলর হচ্ছেন । অন্যতায় আহ্বায়ক কমিটি দেওয়ার হুমকি। এমনকি দায়িত্বশীলদের এড়িয়ে ভারপ্রাপ্ত নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে। মামলার হুমকি ফোনে হুমকি দিয়ে মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। গায়ে মানেনা আপনি মোড়ল এর মতে। সেই মড়লকে রক্ষা করতে যা প্রয়োজন তাই করতে হবে। দল, দেশ, সমাজ এগুলোর দরকার নেই।ত্যাগির তকমা দেয়া হয় কিসের ত্যাগ? ডাকাতি চাঁদাবাজি বেয়াদবি সবই করেছেন অন্যগুলো বললাম না। এত আস্ফালন কখনো শুভ হবে না। আপনারা মসনদ পাবেন হৃদয় পাবেন না। যেদিন হৃদয়ের দরকার হবে সেদিন হৃদয় পাষাণ হবে। অতএব সাধু সাবধান।
আমরা কখনও টইটং এর পাহাড় নিধনের কথা বলি নাই। একজন চেয়ারম্যান এর নেতৃত্বে তার ভাই এবং সাঙ্গ-পাঙ্গরা পাহাড়ি জমি দখল সন্ত্রাসী লালন করে এবং রাজস্ব ছাড়াই দেশের মূল্যবান খনিজ সম্পদ বালি উত্তোলনের সংবাদ কমবেশি সবাই জানেন। কিন্তু যমের নাম ধরতে মানা। জোর দিয়ে ক্ষমতায় থাকলে অতীতের জমিদারগণ টিকে থাকতো। সাময়িক ক্ষমতার মোহে ধরাকে সরাজ্ঞান করা উচিত নয়।
পেকুয়া উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উম্মে কুলসুম মিনু, পেকুয়ার সাহসী নারীর প্রতীক,আপনার নিজ যোগ্যতায় নির্বাচিত হয়েছেন,দল বা ব্যক্তি আপনাকে নির্বাচিত করে নাই। তাই আপনি আাপামর জনতার। চাটুকারিতায় ভূলবেন না। দালাল থেকে সাবধান। আপনার সাধ্যে যা ভালো তাই করুণ। আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন।
ভোটার তালিকা হালনাগাদ চলছে। ফর্ম অপ্রতুলতা এবং হাজার তথ্যের বিভ্রাটে মানুষ অতিষ্ঠ। তাই গণনাকারী প্রতিনিয়ত বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়ছেন। বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছি।