August 9, 2026, 8:39 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় বৃদ্ধ মা ও বোনকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। বসতবাড়ি থেকে বিতাড়িত করতে চলাচল রাস্তা কেটে সাবাড় করা হয়েছে। স্থানীয়রা মা ও বোনকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এর জের ধরে দু’দফা মারপিট সংঘটিত হয়েছে। ৫ জুলাই (সোমবার) সকালে ও ৩১ জুন বিকেলে উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড পেকুয়ারচরে এ ঘটনা ঘটে। আহত দু’নারীর নাম রওশন জামাল (৬৫) ও মেয়ে ইউনুছ খাতুন (৪০)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পৈত্রিক অংশের প্রাপ্ত জমি নিয়ে পেকুয়ারচরে মৃত জাফর আলমের মেয়ে ইউনুছ খাতুন গং ও তার ভাই কামাল হোসেনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। জায়গা মালিক সরকারের উপকুলীয় বনবিভাগ। তবে প্রায় ৬০-৭০ বছর ধরে ওই জায়গা স্থানীয়ভাবে রক্ষনাবেক্ষন হয়েছে। সুত্র জানায়, মৃত জাফর আলমের নিয়ন্ত্রনে থাকা নাল জমি ও বসতবাড়ির অংশসহ ১ একর ৮০ শতক জমি পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। জাফর আলম মৃত্যুবরণ করার পর ওই অংশ ওয়ারিশদের মধ্যে হারাহারি মতে ভাগবন্টনও হয়েছে। সম্প্রতি ওই জায়গা নিয়ে ছেলে কামাল হোসেন দ্বন্ধে জড়ান। জাফর আলমের ৫ মেয়ে ৩ সন্তান স্ত্রীসহ ওয়ারিশদের বঞ্চিত করে একাই কামাল হোসেন সম্পত্তির আধিপত্য নিতে চায়। মূলত এ নিয়ে বিরোধের সুত্রপাত। ৩১ জুন বিকেলে কামাল হোসেনসহ দুবৃর্ত্তরা জাফর আলমের স্ত্রী রওশন জামাল ও দুই ছেলে ওসমান ও মোস্তাকের চলাচল রাস্তা কেটে ফেলে। এ নিয়ে মা রওশন জামাল ও ছেলে কামাল হোসেনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এ সময় কামাল হোসেন ও তার স্ত্রী নাসিমা বেগম মিলে বৃদ্ধ মাকে পিটিয়ে আহত করে। খবর পেয়ে বড় বোন ইউনুছ খাতুন বৃদ্ধ মাকে উদ্ধার করতে ওই স্থানে যান। এ সময় হামলাকারীরা তাকেও পিটিয়ে আহত করে। ৫ জুলাই সোমবার রওশন জামাল ও তার ৫ মেয়ের প্রাপ্ত জমিতে ফসল রোপণের কাজ করছিলেন। এ সময় উত্তেজিত কামাল হোসেন দা নিয়ে ধেয়ে আসে। এক পর্যায়ে ভীতি ও আতংক ছড়িয়ে ফসল রোপণ কাজে বাধা দেয়। কামলারা দ্রæত জমি থেকে সটকে পড়ে। এ ব্যাপারে হামলার শিকার রওশন জামাল জানান, আমি ও আমার ৫ মেয়ে ২ ছেলের উপর জুলুম অত্যাচার চলছে। পরিষদে বৈঠক হয়েছে। জায়গা বন্টনও হয়ে গেছে। কিন্তু কামাল ও তার স্ত্রী সন্ত্রাসী কায়দায় আমাদের উপর মারধর করছে। ইউপি সদস্য শাহ জামাল বলেন, মা ও ছেলের বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। দুপুরের দিকে এসিল্যান্ড এসেছিল। থানায় বৈঠক হয়েছে। তবে তাদের চলাচল রাস্তাটি কেটে দেয়া খুবই অযৌক্তিক হয়েছে।