August 9, 2026, 7:46 am
পেকুয়া প্রতিনিধি: পেকুয়া গোঁয়াখালী মাতবরপাড়া গ্রামে সন্ধ্যা নামলেই বসে জুঁয়া ও মদের আসর। এতে স্থানীয় পরিবেশ মারাত্মক বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে। ওই এলাকায় মাদকের আসর থেকে ২ নারীকে হেনস্থা করার ঘটনা ঘটেছে। এর জের ধরে মাদক বিক্রেতা ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক হট্টগোল হয়েছে। স্থানীয়রা জড়ো হয়ে মাদক সেবী দুই সহোদরকে পাকড়াও করার চেষ্টা চালায়। অবস্থার বেগতিক দেখতে পেয়ে মাদক বিক্রেতা ২ সহোদর সটকে পড়ে।
৩ জুলাই (শনিবার) সকাল ৮ টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোঁয়াখালী মাতবরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার জের ধরে মাতবরপাড়ায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সুত্র জানায়, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের গোঁয়াখালী মাতবরপাড়ায় মৃত মো: কালুর দুই পুত্র মোহাম্মদ চান্দু ও ইদ্রিসের বাড়িতে বসছে মাদকের আসর। দিনে মাদক সেবীরা ওই বাড়িতে বসে পান করছে বিভিন্ন নেশাজাত দ্রব্য। এ ছাড়াও একই বাড়িতে রাতে বসে জুয়ার আড্ডা। প্রতিদিন ওই বাড়িতে মাদকের আসর ও জুয়ার আড্ডা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিরুপ ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। নেশা সেবনকারীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে ওই বাড়িতে বসে গাঁজা, বাংলামদ, ইয়াবাসহ নেশাজাত দ্রব্য সেবন করে। আবার রাতে বসে জুয়ার আসর।
গত কয়েকমাস ধরে ইদ্রিস ও চান্দুর বাড়িতে এ সব অনৈতিক কাজ চলমান থাকায় স্থানীয়রা এর প্রতিবাদ করে। স্থানীয়রা জানান, মাদকসেবীরা নেশাজাত দ্রব্য পান করে মহিলাদের প্রায় সময় উত্যক্ত করছিলেন। বিশেষ করে স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের অধ্যয়নরত ছাত্রীরা ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছে। মাদকসেবীরা নেশা পান করে মাতাল অবস্থায় মহিলাদের যৌন হয়রানির চেষ্টাও করেছে একাধিকবার।
সর্বশেষ গত ১ সপ্তাহের ব্যবধানে ৪ জন নারী চরম হেনস্থার শিকার হয়েছে। সুত্র জানায়, মো: ইদ্রিস ও চান্দু নেশাজাত দ্রব্য বিক্রি করেন আবার তারা নিজেরা সেবনও করেন। নেশাগ্রস্ত দুই ভাই মিলে ছাত্র-ছাত্রী ও গৃহবধূদের গালিগালাজ করে। এমনকি তারা দুই ভাই প্রতিনিয়ত নেশা পান করে গৃহবধূদের হেনস্থা করে। শনিবার সকাল ৮ টার দিকে চান্দু ও ইদ্রিস একজন মহিলাকে গালি দেন। তিনি বিস্মিত হয়ে এর প্রতিবাদ করে। এ সময় তারা দুই ভাই মিলে ওই নারীকে টানা হ্যাঁচড়া করে। ভীতি ও আতংক অবস্থায় ইজ্জত বাঁচাতে ওই নারী দ্রæত সটকে পড়ে। গোঁয়াখালী মাতবরপাড়া সমাজ কমিটির সর্দার জেব্রিছ চৌং জানান, আসলে বিষয়টি সঠিক। আমি কয়েকবার গিয়েছি। একজন নারী হেনস্থা হয়েছিল। আমাকে অভিযোগ দেয়। আমি গিয়ে সতর্ক করেছি।
কহিনুর আক্তার জানান, আমরা অতিষ্ট হয়ে গেছি। ওদের মুখের ভাষা শুনলে বুঝতে পারবেন কত নিকৃষ্ট। গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রি করে তারা সেবনও করে। মহিলাদের দেখলে কুৎসিত মন্তব্য করে। মনজিলা বেগম, রিপু আক্তার, ময়ুরা বেগম জানান, চান্দু ও ইদ্রিস গাঁজা বিক্রি করে। রাতে জুয়ার আসর বসায়। বাহির থেকে অপরাধীরা এসে ওদের বাড়িতে আড্ডা দেয়। আমরা নিজেরাই হেনস্থা হয়েছি। মহিলারা যৌন হয়রানির শিকার হয়। ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছে ছাত্রীরা। তছলিমা খানম, তানমুনসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, আমরা ভয় ও আতংকে আছি। ওরা এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে। পথে ঘাটে শুধু টিটকারী মারে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকসেবী ও জুয়াড়ীরা এসে সেখানে অবস্থান করে। এলাকার মানুষ এর বাধা দিলে তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে যান।
ব্যবসায়ী সাজিম, বদিউল আলম, টমটম চালক নেজাম উদ্দিন জানান, আমরা অনেকবার বাধা দিয়েছি। চান্দু ও ইদ্রিস প্রতিদিন বাড়িতে গাঁজা ও জুয়ার আসর বসায়। অনেক মহিলা লাঞ্চিত হয়েছে। মান সম্মানের ভয়ে অনেকে ওদের কাছে পরাভূত। জিএমসির ৯ম শ্রেনীর ছাত্র মেহেদী হাসানসহ অনেক শিক্ষার্থী জানান, আমাদের সমাজকে এরা ২ ভাই মিলে ধ্বংস করছে। সন্ধ্যা নামলেই বসে জুয়া ও মদের আড্ডা বসে।
গন্যমান্য ব্যক্তি নুরুল ইসলাম মনু, খালেদ নেওয়াজ চৌং ও আবু বক্কর জানান, আসলে এ অপতৎপরতা দ্রæত বন্ধ করতে হবে। না হয় যুব সমাজের জন্য এটি অশনি সংকেত। গৃহবধূ রোজিনা বেগম জানান, আমাকে তারা হেনস্থা করেছে। প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমি অনেকবার অপমান হয়েছি। ইউপি সদস্য নুরুল হক সাদ্দাম জানান, আসলে তারা ২ ভাই গাঁজা সেবন করে। বিষয়টি আমি দেখব।
পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) কানন সরকার জানান, জুয়া ও মদের আড্ডায় অবশ্যই পুলিশ অভিযান পরিচালনা করবে।