August 9, 2026, 7:47 am
সাইফুল ইসলাম বাবুলঃ
# পেকুয়া উপজেলার সরকারি বড় কর্তার কাজ কি হর্ণ দিয়ে গাড়ি দৌড়ানো?
বিশ্বব্যাপী করোণা পরিস্থিতিতে যে দুর্ভোগ তাতে চরম ভাবে ভুগছে স্বদেশ। প্রত্যেক দেশ যে যার মতো করে উত্তরণের চেষ্টায় ব্যস্ত।পৃথিবীর কোনো অংশে দূর্যোগ হলে অন্যরা এগিয়ে আসতো। মানবতার সে সুযোগ এখন নেই বললেই চলে। মিডিয়ার কল্যাণে যতদূর দেখা যায় শুধু হাহাকার। তাহলে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবস্থা অভাবনীয়।
অদৃশ্য শত্রু করোনা, তাকে নিয়ে অদৃশ্য যুদ্ধই চলছে। ঘনবসতি দেশে অবস্থা খুবই অবনতিশীল।সরকারের উদ্যেগ প্রসংশনীয়।আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা চোখে পড়ার মতো। চিকিৎসা কর্মীরা রীতিমতো উৎসর্গ প্রান। তবে জালের ছিদ্র দিয়ে যদি সাফল্য বেরিয়ে যায় তখন আমাদের কপাল খারাপ।
যথাযথ ভাবে চিকিৎসা ও নিরাপত্তা সরান্জাম সরবরাহ চাই। কথায় বলে ক্ষুধায় মানবতার বিপর্যয় ঘঠে। তাই সবচেয়ে বড়ো প্রয়োজন ক্ষুধা নিবারন। গরিব – নিম্ম আয়-আর মধ্যবিত্ত এখন ক্ষুধার জ্বালায় চটপট করছে। তাই তারা মানছেনা লক ডাউনে বেরিয়ে পড়ছে ঘর থেকে। তারা আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর মার খাচ্ছে, খালি হাতে ঘুরছে কিংবা উপোস করছে। ত্রাণ যা পাচ্ছে হাতেগোনা।
বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে যাচ্ছে বলে মনে হয়না। যা যাচ্ছে তাও নয় ছয় তালিকাতে অনেক ভূল ভ্রান্তি। তাই এখন দরকার চুলা কিংবা দরোজা গননা।চুলা প্রতি কিংবা দরোজা প্রতি ত্রাণ চাই।
পেকুয়া উপজেলায় গেলাম দেখলাম নিরন্ন মানুষ বসে আছে। সকাল সন্ধ্যা তাদের ধমক দিয়ে বের করে দেওয়া হচ্ছে। ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে ফিরে যাচ্ছে। সামান্য ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থাপনায়। পাচ্ছেন কিছু চেনা মুখ তাহলে প্রশ্ন চেনা মুখগুলোই কি মানুষ?
আবার দেখলাম অভিনন্দনের ঝড় ত্রাণ কমিটির বড় কর্তা বনেছেন। দেখেই বুঝা যাচ্ছে গ্রপনিং লবিং এর স্বঘোষিত কমিটি। কাজ হবে নাকি ফটোসেশান হবে। ভালো হলেই ভালো। অথীতে দেখেছি গরিবের রিলিপ, খেজুর,দূব্বার মাংস এরা কি ভাবে নিয়েছে। ৯১, ৯৭ বন্যার সময় রিলিপ নিয়ে নয় ছয় কারির তালিকা। এরা পরীক্ষিত নয় ছয় কারি। এখন দেখছি সরকারি ত্রাণ নিজের নামে চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রবাসীদের কাছে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে টাকা পাঠানোর যেনো এলাকার সেবা করা যায়! নাকি সেবার নামে নিজের পকেট স্বাস্থ্য মোটা করার বুঝিনা। পদ বকরা হিসেবে অনেকের কাছে অনেক টাকা জমা আছে। না হয় বিনা ব্যাবসায় গাড়ী বাড়ী মার্কেট হয় কি ভাবে। তাহলে তারাতো স্বচ্ছ্বল এলাকায় তাদের দেখছিনা।অন্তত মানুষের জন্য সামান্য কিছু করুক। আবার দূর্যোগ অনেকের জন্য সুযোগ। এক লোক নাকি সব জাগায় দুর্নীতি করতো। শেষে কতৃপক্ষ তাকে নদীর ঢেউ গননার দায়িত্ব দিলো শেষে নৌকা চলতে দেয় না গননার বিঘ্ন হবে অজুহাতে। শেষে নৌকার মাঝি তাকে বকরা দিয়ে পার পায়। তাই দূর্নীতির খেজুর গুড় যে একবার খেয়েছে সেতো গুড়ের নেশায় থাকবে। দলীয় পদ বিক্রি, ফোন বিক্রি, সুপারিশ বিক্রি সব দেখলাম। ক্ষমতা বিক্রির বাজারে আবার মানবতা কিংবা সেবা বিক্রি হয় কিনা? অনেক বেশি পদ-পদবির সুবিধা নিয়েছেন এখন অন্তত নিজ পাড়ার দায়িত্ব নিন।তারা খেয়েছে কিনা, আছে কিনা তাদের খবর রাখুন। শুধু শুকনো কথায় চিড়া ভিজিয়ে লাভ কি?
আসিতেছে মহা অভিনন্দনের পালা। সফল কাম হলে গলায় ফুলের মালা ঝুলবে আগামীত। চেয়ারম্যান মেম্বার তো হবেন ই। তবে বর্তমান যারা আছেন তাদের হাল হকিকত কি বোধগম্য নয়। কেউ লবণের বোর্ড দৌড়াচ্ছেন, কেউ রিক্শার পাম ছেড়ে দিচ্ছেন, কেউ উচ্ছেদের টাকার উচ্ছ্বিষ্ট দিয়ে নাম জোড়াচ্ছেন। আবার কেউ রিলিপ নয় ছয়।

পেকুয়া উপজেলার সরকারি বড়কর্তার কাজ কি শুধু হর্ণ দিয়ে গাড়ি দৌড়ানো? কই পেটের খবর জরুরী! একটু খবর নেন। আপনাদের ফেসবুক আইডিতে যা প্রচার হচ্ছে তা তো বিশ্বাস হচ্ছে না। কারণ এখানে যার ছিটেফোঁটাও দেখছিনা। মহামান্যদের বলছি দুই একটা ফটোসেশন করলে হবে না যেকোনো মূল্যে মানুষের মুখে একটু খাবার… সারা জীবনের জন্য নয় দুর্যোগ কালের জন্য। স্বাভাবিক হলে গতর ফেটে ঠিকই তারা তাদের অন্ন জোগাড় করবে।
কি হলো আপনাদের নাম নিশানাও দেখছি না। নাকি জমানো কেড়ে নেয়া, প্রজেক্ট এর টাকা, বিচারের জমা টাকা, নিজের কর্তৃত্ব দেখার জন্য উপরে দিয়ে দিয়েছেন। দেখছি তো নলখাগড়ার চাষ করছেন ইক্ষু ভেবে। এখন বস আসেনা আসবে কেমনে চাষ যে ভুল হলো। আবার আপনার তিউরিও ঠিক ঠক চাষ করবেন যেনো চারা না হয়। চারা হবে শুধু আপনাদের মহামান্যের। আপনাদের আঙ্গুল হেলানে বাঘে মোষে এক ঘাটে পানি খায়। তবে কেনো আপনারা নিরব।
বিরোধী দল বিএনপিকে দেখলাম রাতের আধারে ত্রান দিতে। তারা অন্তত নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের বাঁচিয়ে রাখছে। আর বাকিরা! এক দুর্ভিক্ষের শত বছরের বদনাম হলো শুধু ব্যবস্থাপনার ত্রুটির জন্য। এ ব্যবস্থাপনার সাথে আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব জড়িত। তাই সবার সাবধান হওয়া দরকার।
রাজনৈতিক পরিবারে কিছু রাজপুত্র আছে। সেই পরিবারের নেতা ছাড়া ত্রাণ বিতরনে যেনো রাজপুত্ররা না আসে। তারা কর্মের চেয়ে আকাম বেশি করে। আমার কথাগুলো সবার জন্য বলি নাই। যারা অতীতে এরকম করেছেন তাদের দেখছি তাই বলছি।
আমার ইঙ্গিতবাহী কথাগুলো মনে গ্রহণ না করে ঐক্যবদ্ধভাবে বিপদ প্রতিরোধের আহ্বান জানাচ্ছি। সবাই ভালো থাকুন সবাইকে ঘরে রাখার চেষ্টা করুন। নেতৃত্ব আল্লাহর দান তাই আল্লাহ দেবেন প্রচারনায় পাবেন না। আর নেতৃত্ব পোষে যারা কুকাম করছেন তাদের জীবন অভিশপ্ত। প্রজন্মান্তরে তার ফল আসবে। খোদা হাফেজ।