August 9, 2026, 8:36 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় প্রয়াত শিক্ষকের বসতবাড়ি ও ওষধের ফার্মেসীতে ব্যাপক লুটপাট সংঘটিত হয়েছে। এ সময় ১০/১৫ জনের অস্ত্রধারী দুবৃর্ত্তরা অবসরপ্রাপ্ত প্রয়াত শিক্ষকের বাড়িতে গভীর রাতে হানা দেয়। এক পর্যায়ে ওই বাড়ি থেকে মূল্যবান দ্রব্যাদি লুট করে নিয়ে যায়। দ্বিতীয় দফায় একই অস্ত্রধারী ওই চক্র প্রয়াত শিক্ষকের ছেলেদের মালিকানাধীন একটি ফার্মেসীতেও লুটপাট চালায়। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ও সোমবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ফুলতলা ষ্টেশনে বসতবাড়ি ও ওষধের ফার্মেসীতে লুটপাট সংঘটিত হয়েছে। স্থানীয় সুত্র জানায়, ৩১ মে (সোমবার) ও পরের দিন ১ জুন দিবাগত গভীর রাতে একদল অস্ত্রধারী দুবৃর্ত্তৃরা উত্তর মগনামা ফুলতলা ষ্টেশনে মগনামা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রয়াত আবদুল মালেকের বসতবাড়িতে হানা দেয়। এ সময় ওই দুবৃর্ত্তরা বাড়ির ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। আবদুল মালেকের স্ত্রী ও ১ মেয়েসহ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। দুবৃর্ত্তরা অস্ত্র ঠেকিয়ে বাড়ির ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। তবে মহিলাদের আর্তচিৎকারে সন্ত্রাসীরা বাড়িতে ঢুকতে পারেননি। পরের দিন ১ জুন মঙ্গলবার গভীর রাতে অস্ত্রধারী ওই চক্র ফের ফুলতলা ষ্টেশনে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুল মালেকের ছেলে মো: সায়েমের মালিকানাধীন এস,এস মেডিকেল হক নামক ওষধের ফার্মেসীতে হানা দেয়। এ সময় অস্ত্রের ভয় ও ভীতি ছড়িয়ে দুবৃর্ত্তরা ফার্মেসীর প্রধান ফটকের তালা ভেঙ্গে দোকানে প্রবেশ করে। ওই দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ ওষধ ও নগদ ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ দিকে বসতবাড়ি ও ফার্মেসীর লুটপাট থামাতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুল মালেকের ১ মেয়ে পুলিশের জাতীয় সেবা ফোর্টাল “৯৯৯” এ কল করে। লুটপাটের বিষয়টি ভূক্তভোগীরা মুঠোফোনে অবহিত করে। ৯৯৯ থেকে বিষয়টি পেকুয়া থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে খোদ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। ফুলতলা ষ্টেশনের ব্যবসায়ীরা জানান, জয়নাল আবেদীন হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে মগনামায় আইন শৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। হত্যাকান্ডকে পুঁজি করে অস্ত্রধারী একটি চক্র প্রতিনিয়ত লুটপাটে মেতেছে। একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় ২০/৩০ জনের দাগী ও ফেরারী অপরাধীরা জোটবদ্ধ হয়েছে। তারা অস্ত্র স্বস্ত্র নিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে লুটপাট অব্যাহত রাখে। গত ১ মাসের ব্যবধানে মগনামায় অন্তত ২০/৩০ টি বসতবাড়িতে তান্ডব ও মালামাল লুটপাট করা হয়েছে। জয়নাল হত্যাকান্ডের রেশ ধরে ওই চক্র আসামী ও নিরীহ মানুষের বাড়ি থেকে ৩০ টিরও অধিক গবাদিপশু, অর্ধশতাধিক ছাগল লুট করেছে। আক্রান্ত বাড়িসমূহ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল, আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স পণ্য এমনকি স্বর্ণালংকার ও কয়েকলক্ষাধিক টাকাও লুট করে নিয়ে গেছে। আসামীদের বাড়ি থেকে ধান, চালসহ প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদিও লুট করা হয়েছে। সে দিন ফুলতলা ষ্টেশনে মালেক মাষ্টারের বাড়ি ও তার ছেলে মো: সায়েমের মালিকানাধীন ফার্মেসীতে হানা দিয়েছিল। তারা ভীতি ছড়িয়ে ফার্মেসী থেকে ১০ লক্ষ টাকার ওষধ নিয়ে যায়। নগদ আড়াইলক্ষ টাকাও নিয়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, হত্যাকান্ডের ঘটনার পর থেকে ফুলতলা ষ্টেশনে নিয়মিত পুলিশ অবস্থান করছে। বাড়িও ফার্মেসী আক্রমণের সময়ও পুলিশ সেখানে অবস্থান নিয়েছিল। তবে অস্ত্রধারীরা এত ভয়ংকর ও তান্ডব অব্যাহত রাখলেও পুলিশ উপস্থিত থেকেও এসব হচ্ছে। পুলিশের উপস্থিতিতে এ সব হওয়ার পরেও মালেক মাষ্টারের পরিবার ত্রিপল নাইনে ফোন দেন। মেসেজ পেয়ে অবস্থানরত থানা পুলিশ দেখেও না দেখার ভান করে। এ ব্যাপারে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুল মালেকের স্ত্রী দিলরুবা খানম জানান, আমি ও আমার পরিবার চরম শংকিত। আমার স্বামী একজন শিক্ষক ছিলেন। আমার ছেলে মেয়েরাও সবাই শিক্ষিত। সম্ভ্রান্ত পরিবারের সদস্য হিসেবে আমি বলতে চাই আমাদের বসবাসের অধিকার কি থাকবেনা। মগনামায় যে জুলুম অত্যাচার ও নির্যাতন হচ্ছে সেটি ফিলিস্তিনকেও হার মানাবে। আমার একজন নিরাপরাধ ছেলেকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। আরেক ছেলে ওষধের দোকান করে। এখন ২ ছেলেকে এলাকাছাড়া করা হয়েছে। এরপর চলছে পরিকল্পিত লুটপাট ও নির্যাতন। আমি চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েছিলাম। চেয়ারম্যানকে বলেছি আমার পরিবারকে নিরাপত্তা দিতে। আমি বলেছি চেয়ারম্যান সাহেব তুমি আমার ছেলের সমতুল্য। তবে আমার ছেলে সন্তানরা বাঁচতে চান। আমিও এখানে বসবাস করতে চাই। পুলিশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তারা শিষ্টকে লালন করবেন। আর দুষ্টকে দমন করবেন। পুলিশের সাথে অপরাধীদের কোন সম্পর্ক থাকতে পারেনা। আমি জানমালের নিরাপত্তা চাই। সরকার ও রাষ্ট্রকে আহবান করছি, আপনারা আমাদের মত মানুষের উপর নজর দিন। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা হউক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আহবান করছি আপনারা মগনামার দিকে দৃষ্টি দিন। নিরীহ নাগরিকের উপর জুলুম থামানোর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। গুটি কয়েক অপরাধীর কাছে হাজার হাজার মানুষ জিম্মী থাকতে পারেনা। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জয়নাল হত্যাকান্ডের প্রকৃত ক্লু উদঘাটন করুন। জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিন। আর নিরীহদের দায়ী মুক্তি দিন।