August 9, 2026, 7:38 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
প্রেমের সম্পর্কের পূর্ণতা দিতে প্রেমিকের হাত ধরে অজানার উদ্দ্যেশে পাড়ি দিয়েছেন প্রেমিক যুগল। এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে থানায় অপহরণ করা হয়েছে মর্মে এজাহার দিয়েছেন মেয়ের মা। এনিয়ে এলাকায় জনমনে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের সবজীবন পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, গত রবিবার (২৩মে) সকালে সবজীবনপাড়ার সৌদি প্রবাসি মো.মহসিনের মেয়ে মিফতাহুল জান্নাত পুষ্পা (১৫) তার প্রেমিক একই ইউনিয়নের দক্ষিন সবজীবনপাড়া গ্রামের মো. জানে আলমের ছেলে মিজানুর রহমানের (২৫) হাত ধরে উধাও হয়। পুষ্পা পেকুয়া আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থী। এ দিন বিকেলে পুষ্পার মা ফাতেমা বেগম বাদি হয়ে পেকুয়া থানায় মেয়ে অপহরণের একটি লিখিত এজাহার দিয়েছেন। এজাহারে মিজানুর রহমান, তার দুই বন্ধু সবজীবন পাড়ার রেজাউল করিম ও মো.রিয়াদকেও অভিযুক্ত করা হয়। রাতে পেকুয়া থানার পুলিশ মিজানুর রহমানের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন। এদিকে অপহরণ নাটকের বিষয়টি চাউর হলে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা কৌতুহল সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসীরা জানায়, প্রেমের ঘটনাটি এখন অপহরণ নাটকে পরিনত হয়েছে। একটা সত্য ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুষ্পার মা ফাতেমা বেগম। হয়রানির উদ্দেশ্যে অপহরন নাটক সাজিয়েছে। প্রশাসন সুষ্ট তদন্ত করলে আসল রহস্য বের হয়ে যাবে। স্থানীয় সিএনজি চালক সোহেল জানায়, রবিবার সকালে মিজানুর রহমান আমাকে ফোন করে গাড়ি নিয়ে তার বাড়িতে যেতে বলে। আমার অটোরিক্সা নিয়ে তাকে নিয়ে চৌমুহনীতে নামিয়ে দিই। তখন সকাল ৭টা। মেহমান আছে বলে রিজার্ভ ভাড়া নিয়ে কক্সবাজার যেতে বলে। আমি যাইনি। এখন শুনেছি মেয়ে অপহরনের কথা। পুষ্পার সাথে মিজানের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। মিজান ওই মেয়েকে নিয়ে আমার সিএনজি করে অনেকবার ঘুরতেও গেছে। স্থানীয় যুবলীগ নেতা মাহবুল আলমসহ অনেকে জানায়, সবাই জানে দুইজনের প্রেমের কথা। রাতদিন মিজান পুষ্পার বাড়িতে থাকে। পুষ্পার বাড়িতে পাকাঘর নির্মান কাজে তদারকি মিজান করে থাকে। পুষ্পার কোন ভাই নেই। ছোট একটা বোন আছে। তাদের পরিবারের সবকিছু দেখভাল করে মিজান। এছাড়া মিজান -পুষ্পা মামাতো ফুফাতো ভাইবোন। প্রেম করে তারা পালিয়ে গেছে। এজাহারে অভিযুক্ত রিয়াদ ও রেজাউল এলাকার শান্ত ছেলে। রিয়াদ একজন সফল ব্যবসায়ীও। এসব হয়রানি ছাড়া কিছু নয়। ইউপি সদস্য নাছির উদ্দিন মিয়া জানায়, প্রেম করে পালিয়ে গেছে তারা। এখন বলে অপহরণ। রাতে পুলিশ এসেছিল। বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত রিয়াদ জানায়, আমি ব্যবসা করি। তাদের প্রেমের সম্পর্ক এলাকায় সবাই জানে। তারা পালিয়ে গেছে এটাও জানতাম না। এখন আমাকেও আসামি করা হয়েছে। সোমবার সকালে এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে এলাকাবাসির সাথে কথা বলে জানাজায়,মিজান ও পুষ্পা মামাতো ফুফাতো ভাইবোন। গত এক বছর ধরে দুইজনের মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। দুইপরিবারের মধ্যে বিষয়টি জানাশুনা আছে। মিজান প্রায় সময় পুষ্পার বাড়িতে থাকত। তাদের বাড়ির সবকাজ দেখভাল করতেন মিজান। মিজান বিয়ের প্রস্তাবও দেন। তবে পুষ্পার পিতা প্রবাসি মহসিন প্রস্তাবে রাজি ছিলেন না। এদিকে পুষ্পার মা থানায় এজাহার জমা দিয়ে ওইদিন রাতে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বাপের বাড়িতে চলে যায়। বাড়িতে কেউ না থাকায় ও মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বাদির বক্তব্য নেয়া যায়নি। পেকুয়া থানার ওসি সাইফুর রহমান মজুমদার জানায়,একটি লিখিত এজাহার পেয়েছি। পুলিশ তদন্ত করছে।