August 9, 2026, 7:36 am
করোনা সংক্রমণ রোধে দুই সপ্তাহ ধরে সর্বাত্মক লকডাউন চলছে বাংলাদেশে। প্রথম দিন থেকে আজ অবধি লকডাউন বাস্তবায়ন করার জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট স্হাপন করেছেন কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ মনিরুজ্জামান।
কড়া নজরদারির মাধ্যমে প্রতিদিন ভোর থেকে মহাসড়কের বিভিন্ন চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছে হাইওয়ে পুলিশ সদস্যরা।
কেউ যেন মুভমেন্ট পাস ছাড়া শহর থেকে বের হতে এবং শহরে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য নেওয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ এর প্রবেশদ্বার কাঁচপুর ,মদনপুর এবং মেঘনা টোল প্লাজার সামনে এসব চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ এবং কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের উদ্যোগে এই লকডাউন বাস্তবায়ন করতে প্রয়োজনে আরও কঠোর ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন বলে জানান কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ মনিরুজ্জামান।
তিনি বলেন, গত বছর করোনার কারণে ৬৬ দিন দেশে লকডাউনের সময় অনেক পুলিশকে দেখেছি ব্যক্তিগতভাবে অসহায় গরীব মানুষকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করতে। মানুষের সেবা করতে গিয়ে বিভিন্ন পেশাজীবীর মতো বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। পুলিশ সদস্যরা দিন রাত মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতন্দ্রপ্রহরীর মতো কাজ করে। জনগনের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান, অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকেন। তারা আমাদের সেবা দিচ্ছেন বলেই আমরা নিশ্চিন্তে থাকতে পারছি, চলতে পারছি, কর্মজীবনে , ব্যবসা বাণিজ্যে সবকিছুতেই বলতে গেলে স্বাধীনভাবে চলছি। শুধু আইন পালন আর অপরাধ প্রতিরোধ বা দমনই নয় দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। পুলিশ সদস্যরা তাদের পেশাদারিত্ব দিয়ে অপরাধ মোকাবিলায় প্রতিনিয়ত সৃজনশীলতার পরিচয় দিচ্ছে। মানুষের শেষ ভরসাস্থলও হচ্ছে পুলিশ। আবার কোন কোন মানুষের ব্যক্তি স্বার্থহানি হলে পুলিশ নিয়ে বিরুপ মন্তব্যও করে থাকেন হরহামেশা, হয়তো না বুঝে না শুনে নিজের স্বার্থ না পেয়ে এটা করে থাকেন যা মোটেই সমীচিন নয়। পুলিশের হাতে গোনা দু একজন সদস্যের কোন অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য পুরো পুলিশ বাহিনীর বদনাম কোনভাবেই হতে পারেনা। একটু চোখ মেলে খুঁজলেই দেখতে পারি পুলিশের অসংখ্য সুনাম খ্যাতি এবং অবদান রয়েছে যা লিখে শেষ করা যাবেনা।
ন্যায়-নিষ্ঠাবান, কর্তব্যপরায়ণ পুলিশ অফিসার মনিরুজ্জামান। গত ৪ মাস পূর্বে গাজীপুর রিজিয়ন পুলিশের কাঁচপুর হাইওয়ে থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদেন তিনি।
মহাসড়কে ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি নিত্যদিনের সঙ্গী ছিল। কিন্তু যোগদানের পরপরই তিনি নিজ উদ্যোগে অনেক কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। তার মধ্যে মহাসড়কে চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই ইত্যাদি প্রতিরোধ এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মহাসড়কের পাশে নির্মিত অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে মহাসড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা প্রচেষ্টায় সফলতা অর্জন করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, আমরা যে যেখানেই থাকি না কেন নিজের দায়িত্ব যদি সত্যিকার অর্থে পালন করতে পারি তবে এত সমস্যা আমাদের মাঝে আর থাকবেনা। মহাসড়ক সকলের সম্পদ এবং রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সকলের। রাষ্ট্রের এই সম্পদ কেউ যেন বিকৃত করতে না পারে সেজন্য আমরা হাইওয়ে পুলিশ সর্বদা সজাগ আছি এবং থাকব।
লকডাউন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকার যে সর্বাত্মক লকডাউনের ঘোষণা করেছেন এই লকডাউন বাস্তবায়নে আমরা সার্বক্ষণিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ পর্যন্ত তিনশত মামলা বিভিন্ন পরিবহনকে দেওয়া হয়েছে। যদি সরকারের সিদ্ধান্ত অমান্য করে তবে আমরা আরও কঠোর ভূমিকায় যেতে বাধ্য হব।