August 9, 2026, 8:41 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় ছাত্রদল নেতার হামলায় শ্রমিকলীগ নেতাসহ ক্ষমতাসীন দল আ’লীগের সহযোগী সংগঠনের ২ জন নেতা আহত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সরকার বিরোধী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল পেকুয়া উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি মো: ইকবাল ও জাতীয় শ্রমিকলীগ পেকুয়া উপজেলা শাখার শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শাহীনুর কবির আপেল এর মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এর সুত্র ধরে ইকবাল ও শাহীনুর কবির আপেলের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। এক পর্যায়ে ছাত্রদলের ওই নেতাসহ তার অনুগতরা শ্রমিকলীগ নেতা আপেলকে মারধর করে। খবর পেয়ে শাহীনুর কবির আপেলের চাচাতো ভাই তাঁতীলীগ পেকুয়া উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক মো: ইসমাইল এসে আপেলকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। এ সময় তাকেও হামলা চালিয়ে আহত করে। খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় উত্তেজনা প্রশমিত করতে পুলিশ চৌমুহনী মসজিদ মার্কেটের সামনে সড়কে প্রায় আধাঘন্টা অবস্থান নেন। পেকুয়ার সহকারী কমিশন ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মীকি মারমা সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্সসহ ছাত্রদল নেতা ও সদর ইউনিয়নের হরিণাফাঁড়ির আবদু জব্বারের ছেলে ইকবালকে একটি দোকান থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। ২১ এপ্রিল (বুধবার) বিকেল ৪ টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কলেজ গেইট চৌমুহনীতে এ ঘটনা ঘটে। আহত শাহীনুর কবির আপেল সদর ইউনিয়নের আন্নর আলী মাতবরপাড়ার মৃত জহিরুল ইসলাম মেম্বারের ছেলে। স্থানীয় সুত্র জানায়, ওই দিন বিকেলে শাহীনুর কবির আপেল ও মো: ইকবালের মধ্যে মারপিট হয়েছে। এর সুত্র ধরে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। সুত্র জানায়, মো: ইকবাল ছাত্রদল পেকুয়া উপজেলা শাখার সহসভাপতি। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ইকবাল সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করছিলেন। এমনকি সরকার প্রধান ও বাংলাদেশ আ’লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ওই দিন ইকবাল অযাচিত ও কুরুচিপূর্ন মন্তব্য করছিলেন। শাহীনুর কবির আপেল এ বিষয়ে তর্কে জড়ান ইকবালের সঙ্গে। এ সময় এ ২ জনের মধ্যে মারপিটের সুত্রপাত হয়। তাতীলীগ পেকুয়া উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক মো: ইসমাইল জানান, ইকবাল নামক ওই যুবক ছাত্রদলের ক্যাডার। সে রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী প্রচার প্রচারনায় লিপ্ত রয়েছে। রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির ওই অনুচর প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে প্রায় সময় আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এ নিয়ে আমার ভাই আপেল প্রতিবাদ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার উপর হামলা চালায়। আমি আপেলকে উদ্ধার করতে গিয়েছিলাম। তারা আমাকেও হামলা চালায়। শাহীনুর কবির আপেল জানান, আমি প্রতিবাদ করায় ছাত্রদলের ক্যাডার ইকবাল আমাকে প্রাণনাশ চেষ্টা চালায়। সে একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী। স্বেচ্ছাসেবকলীগ পেকুয়া সদর ইউনিয়ন সভাপতি ফোরকান জানান, আমরা গিয়ে ইকবালকে ধরার চেস্টা করেছিলাম। তবে পুলিশের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। তাকে গ্রেপ্তার না করে পুলিশ আ’লীগের নেতা-কর্মীদের উপর চড়াও হন। জাতীয় শ্রমিকলীগ পেকুয়া উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক এস,এম শাহাদাত হোসাইন জানান, আপেল আমার আপন ছোট ভাই। ইকবাল প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্য করবে ফেইসবুকে সার্বক্ষণিক রাষ্ট্র ও সরকার বিরোধী প্রচার চালাবে সেখানে আমরা প্রতিবাদ না করে বসে থাকতে পারিনা। মূলত এর সুত্র ধরে এ কান্ড হয়েছে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার না করে আমাদের উপর ক্ষেপে যান। পুলিশের আচরণ অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ। পেকুয়া থানার এস,আই সাইফুল ইসলাম জানান, আমিসহ সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছি। ঘটনার বিবরণ লিপিবদ্ধ করেছি। ওসি স্যারকে বিষয়টি অবহিত করেছি।