August 9, 2026, 10:31 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় এক ইউপি সদস্যকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে। বিরোধ মিটমাটের কথা বলে ইউপির অপর সদস্য তাকে ডেকে আনেন। অত:পর কমান্ডো স্টাইলে ইউপির ওই সদস্যকে নিষ্টুর হামলা চালিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতির ছেলেসহ একদল দুবৃর্ত্তরা গভীর রাতে ওই ইউপি সদস্যের উপর হামলে পড়ে। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। স্থানীয়রা জখমী ইউপি সদস্যকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চমেক হাসপাতালে রেফার করে। ১৩ এপ্রিল সোমবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের ফেরাসিঙ্গাপাড়া ষ্টেশনে হামলার এ ঘটনা ঘটে। পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনার জের ধরে ফেরাসিঙ্গাপাড়াসহ পশ্চিম উজানটিয়া করিমদাদ মিয়ার জেটিঘাট ষ্টেশনে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল। ইউপি সদস্যের হামলার প্রতিবাদে পশ্চিম উজানটিয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অপরদিকে এলাকার আধিপত্য নিতে ফেরাসিঙ্গাপাড়ার লোকজন পশ্চিম উজানটিয়ার দুটি মোকামে অবস্থান নিয়েছে। তারা সাইফুল মেম্বারের অনুসারীদের যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতাও তৈরী করেছে। সড়কে জড়ো হয়ে জালিয়াপাড়া ও ফেরাসিঙ্গাপাড়াসহ দুটি ষ্টেশনে সিএনজি ও গাড়ীতে গাড়ীতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পশ্চিম উজানটিয়ার পথচারীদের দেখা মাত্র শারীরিক লাঞ্চিত ও হেনস্থাও করা হচ্ছে। স্থানীয় সুত্র জানায়, সোমবার বিকেলের দিকে পশ্চিম উজানটিয়া করিমদাদ মিয়া জেটিঘাটে উজানটিয়া ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি এম, তোফাজ্জল করিমের বড় ছেলে তারেকুল ইসলাম ও পশ্চিম উজানটিয়া এলাকার কয়েকজন লোকজনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এর আধাঘণ্টা পর দ্বিতীয় দফায় ফেরাসিঙ্গাপাড়া থেকে ২০/৩০ জন উত্তেজিত লোকজন এসে জেটিঘাটে হাকাবকা করে। এ সময় মিয়াপাড়া ও ফেরাসিঙ্গাপাড়ার লোকজনের মধ্যে মারপিটের আশংকা দেখা দিয়েছিল। তবে গন্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে দু’পক্ষের উত্তেজনা প্রশমিত হয়। রাত ১১ টার দিকে উজানটিয়া ইউপির ২ নং ওয়ার্ড সদস্য সাইফুল ইসলাম ফেরাসিঙ্গাপাড়ায় যান। ৩ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা আবদু রহিম মেম্বার বিরোধ নিস্পত্তির কথা বলে মুঠোফোনে সাইফুল মেম্বারকে সেখানে নিয়ে যান। এরপর ২০/৩০ জন উত্তেজিত লোকজন সাইফুল মেম্বারকে হামলা চালিয়ে আহত করে। প্রত্যক্ষদর্শী জেটিঘাটের ব্যবসায়ী সাকিব জানান, এমবি মোছানুর ও এমবি নিপা শাকেরা নামক বালু বোঝাই দুটি জাহাজ জেটিঘাটে নোঙ্গর করে। সভাপতির ছেলে তারেক দুটি জাহাজ থেকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। ১০ এপ্রিল ২০ হাজার টাকা তারেককে দিয়েছে। বাকী ১০ হাজার টাকার জন্য জাহাজের মাঝিকে জেটিঘাটে মারধর করে। আমরা প্রতিবাদ করেছি। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মেম্বারকে মেরেছে। এমবি মুছানুর জাহাজের মাঝি লক্ষীপুরের রামগতির চরপোড়া গাছার মৃত মোস্তফা মেম্বারের ছেলে জাবের হোসেন জানান, আমি ২০ হাজার টাকা সভাপতির ছেলেকে দিয়েছি। ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। আর ১০ হাজার টাকার জন্য অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে আমাকে ধরে নিয়ে আসতে যায়। লোকজন বারণ করে। এরপর ক্ষিপ্ত হয়ে তারা মেম্বারকে মেরেছে এলাকায় এসে শক্তি প্রদর্শন করে। মেম্বারের ছোট ভাই রুহুল কাদের জানান, আমার ভাইকে নিষ্টুরভাবে পেঠানো হয়েছে। ১৮ ঘন্টা পর্যন্ত রক্ত বন্ধ হয়নি। মূলত চাঁদার জন্য সভাপতির ছেলে তারেক এ ঘটনার উৎপত্তি করে। পেকুয়া থানার ওসি সাইফুর রহমান মজুমদার জানান, ঘটনা সম্পর্কে অবগত। তদন্তপূর্বক আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।