August 9, 2026, 8:39 am
পেকুয়া প্রতিনিধি
কক্সবাজারের পেকুয়ায় কুতুবদিয়া চ্যানেলে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সাগর থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের দায়ে ১ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় মজুদকৃত প্রায় ৮০ হাজার ঘনফুট লবণাক্ত বালি ও বালি তোলার সরঞ্জমাদি জব্দ করা হয়েছে। ৩ এপ্রিল (শনিবার) বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের জেটিঘাট সংলগ্ন সাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলের তীরবর্তী স্থানে অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানের নেতৃত্বে দেন পেকুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোতাছেম বিল্যাহ। পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), বান্দরবান, উপকুলীয় বনবিভাগ মগনামা বনবিট, কোস্ট গার্ডের যৌথ সমন্বয়ে ওই অভিযান পরিচালনা হয়েছে। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজারের উপপরিচালক শেখ নাজমুল হুদা, পরিদর্শক মাহাবুবুল আলম, কোস্ট গার্ডের পিটি অফিসার কুতুবদিয়ার মো: সাইফুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বান্দরবানের শাখা কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন, মাঠ কর্মকর্তা হুমায়ুন, উপকুলীয় বনবিভাগ মগনামার বনবিট কর্মকর্তা হোসনে মোবারক ও পেকুয়া থানার পুলিশ জোয়ানরাও অভিযানে সমন্বয় করেন। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে প্রশাসনের একটি যৌথ টীম মগনামা জেটিঘাটে পৌছেন। এ সময় স্পিডবোট নিয়ে সাগরের ড্রেজার মেশিন বন্ধ করতে যান। সেখান থেকে অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালি উত্তোলন কাজে জড়িত থাকায় একজনকে আটক করে। আটককৃত ব্যক্তির নাম ইয়াসিন (৩০)। তার বাড়ি ফিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া এলাকায়। তার পিতার নাম আবদুল জলিল। আটককৃত ব্যক্তিকে পেকুয়া থানার পুলিশকে সোপর্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত সরঞ্জমাদি ও প্রায় ৮০ হাজার ঘনফুট সামুদ্রিক বালি জব্দ করে পাউবো এরিয়া কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিনের নিকট জিম্মা দেয়া হয়েছে। এ দিকে সাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেল থেকে অবৈধ বালি উত্তোলন নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন ও সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। বস্তুনিষ্ট ও তথ্য বহুল ওই সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় পেকুয়ার কর্মরত সাংবাদিকদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন পেকুয়ার সচেতন মহল। মগনামার জনগন বালি উত্তোলনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। বিএনপি থেকে নির্বাচিত ধানের শীষের চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌং ওয়াসিমসহ তার অনুগত কয়েকজন ক্যাডার বালি উত্তোলন করছিলেন। ছাত্রদলের সাবেক নেতা জয়নাল আবেদীন ও আলী আকবর পেশী শক্তির বলয় তৈরী করে প্রশাসন ও সাংসদের নাম ভাঙ্গিয়ে বালি উত্তোলন করে। এ সব বালি মজুদ করে বিক্রি করছিলেন। সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে লবণাক্ত বালি বিকিকিনিতে জড়িত রয়েছে। মেসার্স জামিল ইকবাল ট্রেডার্স নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্টানও এ অবৈধ বালি উত্তোলনে সম্পৃক্ত ছিল। এ ব্যাপারে পাউবোর এরিয়া কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন জানান, আজকে যৌথ সমন্বয়ে অভিযান পরিচালিত হয়। ইউএনও স্যার ও পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার অঞ্চলের সমন্বয়ে এখানে অবৈধ বালি মহালে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। গত কয়েক দিন আগে আমরা পাউবোর পক্ষ থেকে থানায় সাধারন ডায়েরী লিপিবদ্ধ করেছি। বেড়িবাঁধ কেটে ও বেড়িবাঁধে বসানো আরসিসি বøকের ক্ষতি সাধন করে একটি সিন্ডিকেট পাইপ সঞ্চালন করে। সাগর থেকে অবৈধ বালি উত্তোলন করে তারা মজুদ করছিল। উপকুলীয় বনবিভাগ মগনামার বনবিট কর্মকর্তা হোসনে মোবারক জানান, ২০ দিন আগে থেকে বালি তোলা শুরু করে। আমরা নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু তারা স্থানীয় চেয়ারম্যান ও এমপি স্যারের কথা বলে আমাদেরকে হুমকি ধমকি দিয়ে এ বেআইনী কাজ অব্যাহত রাখে। প্রথমে ছিল একটি পয়েন্ট। এখন আরেকটি নতুন পয়েন্ট চালু করতে পাইপ সঞ্চালন করে। কোস্ট গার্ড কুতুবদিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত সাইফুল ইসলাম জানান, এ বালি মহালটি সম্পূর্ণ অবৈধ। আমরা যোগাযোগ করে যৌথ সমন্বয়ে আজকে অভিযান পরিচালনা করেছি। এখানকার জনগন এ অবৈধ কাজ বন্ধের পক্ষে সোচ্চার ছিল। পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক শেখ নাজমুল হুদা জানান, বেআইনী কাজ আমরা করতে দেবনা। একজনকে আটক করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন। পেকুয়ার ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোতাছেম বিল্যাহ জানান, সাগর থেকে অবৈধভাবে বালি তোলা হচ্ছে। আমরা বালিগুলি জব্দ করেছি। সরঞ্জমাদি জব্দ করা হয়েছে। উপকুলীয় বনবিভাগ ও পাউবোর সমন্বয়ে জব্দকৃত বালি জিম্মায় দেয়া হয়েছে।