August 9, 2026, 8:39 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় এক সৌদি প্রবাসীর বসতবাড়ি ও এর আশপাশের ২০ শতক জায়গার জবর দখল ঠেকাতে রাতেই দেয়া হচ্ছে পাহারা। বসতবাড়ির স্থিতিবস্থা ও সুরক্ষিত রাখতে ওই প্রবাসী আদালতে স্বরণাপন্ন হন। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারা বলবৎ রাখতে পৃথক দুটি এম,আর মামলাও রুজু হয়েছে। পেকুয়া থানা পুলিশ ২০১৯ সালের জানুয়ারী থেকে চলতি বছরের জানুয়ারী পর্যন্ত একাধিকবার বিরোধীয় স্থানে পরিদর্শন করেছেন। তবে জবর দখল প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে। দখলবাজ চক্র প্রবাসীকে নিজ বসতবাড়ি থেকে হঠিয়ে দিতে লাঠিসোটা ও দেশীয় তৈরী ধারালো অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে শক্তির মহড়াও জোরদার করেছে। প্রবাসীর পরিবারকে ভয় ও আতংকগ্রস্ত করতে ভাড়াটে লোকজন জড়ো করেছে। এর আগে কয়েকদফা বসতবাড়ি জবর দখল চেষ্টা চালানো হয়। গভীর রাতেও কয়েক দফা বাড়িতে হানা দেয়া হয়েছে। তবে প্রবাসীর স্ত্রী সন্তানদের আর্ত চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে কয়েক দফা জবর দখল প্রতিহত করা হয়েছে। গত ১ সপ্তাহ আগে থেকে বসতবাড়ি ও ২০ শতক জায়গার আধিপত্য নিতে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র দু’দফা রাতে প্রবাসীর বাড়িতে হানা দেয়া হয়েছে। তবে সেটি প্রতিহত করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জায়গা ও বসতবাড়ি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। আদালতের আদেশ থাকার পরেও পুলিশের অসহযোগিতারও অভিযোগ তুলেছেন প্রবাসীর পরিবার। তারা জানান, স্থিতি অবস্থা ও জায়গাটি সুরক্ষিত রাখতে পুলিশকে আদালত আদেশ দিয়েছেন। কিন্তু পুলিশের নমনীয়তা ভাবের কারনে জবর কারীরা আরও অধিক উৎসাহিত হচ্ছে। তারা এখন আমাদেরকে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের চুড়ান্ত প্রক্রিয়ায় মেতেছে। প্রবাসীর স্ত্রী কাজল আক্তার জানান, আমি ছেলে সন্তান নিয়ে অত্যন্ত শংকার মধ্যে রয়েছি। রাতে বসতবাড়ি পাহারা দিচ্ছি। কিছু পরিচিত ও অজ্ঞাত লোকজনের সমন্বয়ে এখানে রাতেই হুমকি ধমকি দেয়া হচ্ছে। সুত্র জানায়, মগনামা ইউনিয়নের চেরাংঘোনায় ২০ শতক জায়গা নিয়ে কবির আহমদের ছেলে প্রবাসী আলমগীর ও মৃত বাদশাহ মিয়ার পুত্র মৌলভী আক্তারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। জায়গাটির রেকর্ডীয় মালিক চট্টগ্রামের রাউজান থানার মৃত আবুল খাইর। মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশগন ওই জায়গা প্রবাসী আলমগীরকে বিক্রি করেন। জায়গায় আলমগীর একটি ঘরও তৈরী করেছেন। খামার বাড়ি হিসেবে সেটি আলমগীর রক্ষনাবেক্ষন করছিলেন। এ দিকে আবুল খাইরের খামার ভিটাসহ পাশর্^বর্তী অংশের কিছু নাল জায়গায়ও আক্তার হোসেন জবর দখলের চেষ্টায় মেতেছে। আলমগীর জায়গার জবর দখল ঠেকাতে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এমআর ৩১৪/২১ ও এম,আর ২৫৬/১৯ সহ দুটি মামলা রুজু করে। কাগজপত্র ও স্থিতিবস্থায় পর্যালোচনায় এসিল্যান্ড পেকুয়া বিচারিক আদালতে তদন্তীয় প্রতিবেদন পৌছান। সেখানে আক্তার হোসেনকে নি:স্বার্থবান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জায়গার মালিক প্রবাসী আলমগীর এ প্রতিবেদককে মুঠোফোনে জানান, আমি অসহায় হয়ে গেছি। স্থানীয় কয়েকজন মাস্তানকে নিয়ে মৌলভী আক্তার আমার জায়গা ও খামার বাড়ি জবর দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। রাতে আমার ছেলে সন্তানরা সেখানে পাহারা দিচ্ছে। এরপরেও আমি আশংকা করছি যে কোন মুহুর্তে আমার খামার ও জায়গাটি তারা জবর দখল করতে পারে। আলমগীরের ছেলে সাজ্জাদ জানান, আমি ও আমার মাকে অনেক নির্যাতন করা হয়েছে। হুমকি ধমকি দেয়া হচ্ছে। এখন আমরা রাতে পাহারা দিচ্ছি। পেকুয়া থানার এস,আই হেফজুর রহমান জানান, আমি আক্তারকে শান্তি শৃংখলা বিঘিœত না করতে নিষেধ করেছি। সাজ্জাদ নামক প্রবাসীর ছেলেটি আমাকে রাত দিন শুধু এ বিষয়ে ফোন দিতে থাকে। এরপরও পুলিশ সেখানে সার্বক্ষণিক থাকতে পারেনা।