August 9, 2026, 7:51 am

চকরিয়ায় দুই ছিনতাইকারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ

চকরিয়ায় দুই ছিনতাইকারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ

চকরিয়া প্রতিনিধি

কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক দোকান কর্মচারীর কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় দুই ছিনতাইকারীকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে চকরিয়া পৌরশহরের চিরিংগা হিন্দুপাড়ায় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে এ ঘটনায় দোকান কর্মচারী মো.আমজাদ হোসেন বাদি হয়ে চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ আরো বেশ কয়েকজনকে আসামী করা হয়েছে। মামলার এজাহারনামীয় আসামীরা হলেন চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবদিয়া পাড়া এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে মোস্তফা কামাল মনির (১৯), চকরিয়া পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সোসাইটি পাড়ার রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. রাফিজুল ইসলাম রাতুল (১৯), একই এলাকার জাফর আলমের ছেলে আরিফ (১৯) ও মনু ড্রাইভারের ছেলে ফাহিম (১৯)।

থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে বাদি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে চকরিয়া পৌর শহরের বালিকা বিদ্যালয় সড়কের দত্ত এন্ড হার্ডওয়ারে চাকুরী করে আসছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময় ছিনছাইকারীরা আমাকে পথরোধ করে মারধর করতে থাকে। পরে তারা আমার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও পকেটে থাকা পাঁচ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় আমি চিৎকার করে উঠলে পার্শ্ববর্তী লোকজন এগিয়ে এসে ছিনতাইকারীদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে চকরিয়া পৌর শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ছিনতাইকারী সিন্ডিকেট। এসব ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে অনেক নগদ টাকা, মোবাইলসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র হারালেও তেমন কোন প্রতিকার মেলেনি। ফলে একর পর এক ছিনতাইয়ের কারণে প্রায় সময়ই পৌর শহরের ব্যবসায়ীদের আতংকের মধ্যে থাকতে হয়। বর্তমানেও পৌর শহরের বালিকা বিদ্যালয় সড়ক, ওয়াপদা সড়ক, বিমান সড়কগুলো এখন ছিনতাইকারীদের দখলে রয়েছে। এই সড়কের কুলিং কর্ণারগুলো ছিনতাইকারীদের আড্ডার স্থান হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুযোগ বুঝে তারা প্রায় সময় বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে মোবাইল, নগদ টাকাসহ নানা জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। তবে কোন ছিনতাইকারী ধরা পড়লে তাদের ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যরা হাজির হয়ে যায়। এ সময় তারা নানা ধরনের হুমকি-ধুমকি দিতে থাকে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের বলেন, এক দোকান কর্মচারীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন ছিনতাই ও মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম মাঠে কাজ করছে। ওসি আরও বলেন, পৌরশহরসহ পুরো উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ কাজ করছে। সুতরাং কেউ অপরাধ করে পার পাবার সুযোগ নেই।###

চকরিয়ায় তিনদিন ধরে ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িতে চলছে কিশোরী ধর্ষনের বিচার!

এ কে এম ইকবাল ফারুক,চকরিয়া

দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে কক্সবাজারের চকরিয়ায় থানার তিনশত গজ অদুরে কোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি দিদারুল হক সিকদারের বাড়ীতে চলছে ধর্ষণের বিচার। গত ৩দিন ধরে কিশোরীকে আটক রেখে ইউপি চেয়ারম্যান এ বিচারকার্য চলছে বলে অভিযোগ করেছেন ধর্ষনের শিকার কিশোরীর পিতা সাহাব উদ্দীন। এমনকি ধর্ষনের শিকার কিশোরীর বাবাকে উল্টো ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ঘোষণা করে আগামী সোমবারের মধ্যে পরিশোধ করার নির্দেশ দেন ওই চেয়ারম্যান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে সমগ্র কক্সবাজার জেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। তারপরও অভিযুক্ত ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নিতে আগ্রহ দেখায়নি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।

ধর্ষণের শিকার কিশোরীর পিতা সাহাব উদ্দিন কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, কোনাখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শহর আলী পাড়াস্থ বাড়ি থেকে এক সপ্তাহ পূর্বে তার মেয়ে রামপুরস্থ খালার বাসায় বেড়াতে আসে। প্রতিমধ্যে সাহারবিল ইউনিয়নের বাজারের দক্ষিণ পাশের বাসিন্দা লালু নামে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক যুবক তার মেয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়। খবর নিয়ে জানতে পারেন, চকরিয়া পৌর শহরের চিরিংগা ষ্টেশনে একটি বাসায় ৪ দিন ধরে আটকে রেখে ইচ্ছার বিরুদ্ধে শাররীক সম্পর্কে (ধর্ষণ) জড়িয়ে পড়েন। সাহাব উদ্দিন আরো জানান, মেয়ে অপহরণ ও ধর্ষণের বিষয়ে গত ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় থানায় একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগের কিছুক্ষণের মধ্যে কোনাখালী ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল হকের মাধ্যমে ধর্ষণের শিকার কিশোরী ও ধর্ষককে থানায় হাজির করা হয়। পরে তার (চেয়ারম্যান দিদার) জিম্মায় থানা এরিয়াস্থ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে গত ৩দিন ধরে আটক রেখে ধর্ষনের বিচার করে। তিনি বলেন, এলাকার চেয়ারম্যান আমার মেয়ে ও আমাকে তিন দিন ধরে আটকে রেখে বিচারের আশ^াস দিয়ে মেয়েকে বিয়ে দেয়ার চাপ প্রয়োগসহ উল্টো ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ঘোষণা করেন। স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে চেয়ারম্যানের বাড়ি যেন নিজস্ব আদালত।

এ বিষয়ে কোনাখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শামশুল আলম বলেন, দিদার চেয়ারম্যান জোর করে ছেলে-মেয়ে দুইজনকে ধরে এনে চকরিয়া থানার উত্তর পাশের্^র বাড়ীতে আটকে রেখে ধর্ষণের শালিস বিচার বসিয়েছে। এমনকি আইনীভাবে কোন সহায়তাও পেতে দিচ্ছেনা বলে অভিভাবকের কাছ থেকে শুনেছেন। অভিযুক্ত কোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দিদারুল হককে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ধর্ষণের শিকার কিশোরীকে আটক রেখে স্থানীয় চেয়ারম্যান দিদারুল হকের বিচারের বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের বলেন, তিনি আমার থানায় ভিকটিম সহ অভিযুক্ত ছেলেকে এনেছিল। পরে স্থানীয় ভাবে মিমাংসার কথা বলে থানা থেকে নিয়ে যায়। ধর্ষণের বিচার চেয়ারম্যান করতে পারে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিচার তিনি করতে পারেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশনা (নিষেধ) থাকার পরও কিভাবে ধর্ষনের বিচার করেন সে ব্যাপারে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। #####

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com