May 20, 2022, 5:45 pm

পেকুয়ায় পল্লী চিকিৎসক ও স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম, বাসায় পুলিশের তালা

পেকুয়ায় পল্লী চিকিৎসক ও স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম, বাসায় পুলিশের তালা

পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় হামলায় পল্লী চিকিৎসক ও তার স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম করেছে দুবৃর্ত্তরা। স্থানীয়রা ওই স্বামী-স্ত্রীকে দম্পতিকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। জায়গার বিরোধকে কেন্দ্র করে ১৯ জানুয়ারী (বুধবার) রাত ৮ টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব বাইম্যাখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার জের ধরে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভোগ দখলীয় পক্ষকে জায়গা ও বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে প্রতিপক্ষের ভাড়াটে দুবৃর্ত্তরা রাতেই তিন রাউন্ড গুলি ছোঁড়ছে বলে ভূক্তভোগীসহ স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন। এ সময় বসতবাড়ি থেকে মালিককে হটিয়ে দ্বিতীয় পক্ষ ওই বাড়িতে ঢুকে পড়ে। খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। এ সময় পুলিশ জবর দখলকারীদেরকে ওই বাসা থেকে বের করে দেন। উত্তেজনা প্রশমিত করতে পুলিশ বাড়িতে তালা লাগিয়ে দেন। স্থানীয় ইউপি সদস্যকে বাড়িটির তালার চাবি সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। আহতরা হলেন পূর্ব বাইম্যাখালীর মৃত ছৈয়দ নুর সিকদারের পুত্র পল্লী চিকিৎসক মমতাজুল ইসলাম (৬৮) ও স্ত্রী আলম আরা বেগম (৫৫)। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সুত্র জানান, ৮ শতক জায়গা নিয়ে পল্লী চিকিৎসক মমতাজুল ইসলাম ও পেকুয়া সদর ইউনিয়নের জালিয়াখালী গ্রামের মৃত দিলশা মিয়ার পুত্র কৃষকলীগ পেকুয়া উপজেলার আহবায়ক মেহের আলীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত কক্সবাজারে এম.আর মামলা রুজু আছে। যার নং ১০১৫/২০। দ্বিতীয় পক্ষকে জায়গায় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ফৌজধারী কার্যবিধির ১৪৪ ধারা বিধানমতে প্রসিডিং ড্্র করাতে ডা: মমতাজুল ইসলামের স্ত্রী আলম আরা বেগম ওই মামলা রুজু করান। সহকারী কমিশন ভূমি, পেকুয়া ওই জায়গার সরেজমিন তদন্তসহ স্থিতিবস্থা নিরুপন ও জায়গার দলিল দস্তাবেজ পর্যালোচনাসহ আদালতে তদন্তীয় প্রতিবেদন পৌছান। গেল ২০২১ সালের ১০ অক্টোবর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা,পেকুয়া সদর এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সংশ্লিস্ট দপ্তরে প্রেরণ করেন। সেখানে বলা হয়েছে, এ জমি ও বসতবাড়ি আলম আরা গংদের ভোগ দখলে রয়েছে। বসতবাড়ি ও তৎস্থানে বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ গাছালিসহ জায়গাটির স্থিতি অবস্থানে আছে আলম আরা গং। এ দিকে ঘটনার দিন রাত ৮ টার দিকে কৃষকলীগ নেতা মেহের আলীসহ ২০/২৫ জনের দুবৃর্ত্তরা পূর্ব বাইম্যাখালীতে বিরোধীয় জায়গায় হানা দেয়। এ সময় ডা: মমতাজুল ইসলাম গংদের ওই জায়গা থেকে উচ্ছেদ করতে তারা ব্যাপক তান্ডবসহ ভাংচুর চালান। পল্লী চিকিৎসক মমতাজুল ইসলাম বলেন, মেহের আলী কৃষকলীগের আহবায়কের প্রভাব দেখিয়ে আমার জায়গা জবর দখল চেষ্টা করছে। রাত ৮.১০ মিনিটের দিকে মেহের আলীসহ ২০/২৫ জনের ভাড়াটে দুবৃর্ত্তরা আমার বাড়িতে ডুকে পড়ে। তারা ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। আমি ও আমার স্ত্রী এর প্রতিবাদ করি। এ সময় তারা আমাকে ও আমার স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম করে। স্ত্রীকে কাপড় ধরে টানা হ্যাঁচড়া করেছে। আমি ওসি তদন্তকে বিষয়টি অবহিত করি। সাথে সাথে পুলিশ এসে আমাদেরকে সহযোগিতা করেছে। পুলিশের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। আমার আগে এ জমির তিনটি ভায়া দলিল ছিল। শামশুল হক এর স্বত্ব দখলীয় জমি। ১৯৮১ সনে ২০ শতক জমি মৃত খুইল্যা মিয়ার পুত্র জাফর আহমদকে শামশুল হক বিক্রি করেন। যার দলিল নং ৪২৫২। পরবর্তীতে একই জমি ৩১ জানুয়ারী ১৯৯৪ সনে জাফর আহমদ আবুল কালাম মেম্বারকে বিক্রি করে। যার দলিল নং ৪৯৪। ২৪ মে ২০০৫ সালে ওই ২০ শতক জমি আবুল কালাম মেম্বার আমাকে বিক্রি করে। যার দলিল নং ২৩০৭। ওই ২০ শতক জমি ১৪ জানুয়ারী ২০১৬ ইং সনে ৮৭ নং হেবা দলিল মূলে আমার স্ত্রী আলম আরা বেগমকে হস্তান্তর করি। সেই সময় থেকে এ জায়গা আমার দখলে রয়েছে। তারা অস্ত্র ঠেকিয়ে আমার কাছ থেকে ৩শ টাকার মূল্যের অলিখিত ননজুড়িসিয়াল স্ট্যাম্প ছিনিয়ে নেয়। মমতাজুল ইসলামের স্ত্রী আলম আরা বেগম জানান, আমরা খুবই আতংকিত ও নিরাপত্তায় শংকিত। সাজ্জাদকে বাসা ভাড়া দিয়েছি। সাজ্জাদ জানান, আমরা এখানে ভাড়া বাসা নিয়ে থাকি। মাসে দেড় হাজার ভাড়া দিই। এক সপ্তাহ আগে আমার মা মারা গেছে। সাজ্জাদের বোন জিএমসির নবম শ্রেনীর ছাত্রী মর্জিনা বেগম জানান, কালকে রাত থেকে আমাদেরকে বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। সারা রাত ছিলাম কুয়াশার মধ্যে। জিনিসপত্র সব কিছু এখন ভিতরে আছে। তালা দিয়েছে পুলিশে। রান্না বান্নাও করা হয়নি। ছিলাম উপোস। তবে এ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কৃষকলীগ পেকুয়ার আহবায়ক জালিয়াখালীর মৃত দিলশা মিয়ার পুত্র মেহেরআলী। মমতাজুল ইসলামের ছোট ভাই পেকুয়া সদর ৪ নং ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি দিদারুল ইসলাম সিকদার জানান, হাইব্রীডরা এসে আমার পরিবারের উপর জুলুম নির্যাতন করছে। ২০১৭ সালে সন্ত্রাসীরা আমার বড় ভাই বিডিআর হেলাল উদ্দিনকে হত্যা করেছে। বিএনপির আমলেও আমরা নির্যাতিত। বর্তমান সময়েও আমিসহ আমার পরিবার নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছি। এ ব্যাপারে তিনি জানান, সব কিছু মিথ্যা ও রং ছিটানো। এ জায়গা আমার। ঘরটিও আমি করেছিলাম। মমতাজুল ইসলাম কোন ধরনের মানুষ আমি ছাড়াও এখানকার সবাই ভাল করে জানে। আমি জীবনে কারও জায়গা জমি অন্যায়ভাবে দখল করেনি। হজ্ব করেছি। আল্লাহর পাক জায়গায় ছিলাম। রাষ্ট্র ও সমাজ বিরোধী কোন কাজে জড়িত ছিলাম না ও ভবিষ্যতেও থাকবনা। কেউ যদি মিথ্যা বললে এখানে আমার করার কিছুই নেই। মমতাজ গং রাতেই জায়গাটি জবর দখল চেষ্টা করেছে। আমি সরাসরি বলছি কাগজ নিয়ে বসতে বলুন। কাগজে যদি সমর্থন না করে আমি ওই জায়গার দিকে চোখও রাখবো না। এটা আমার হলফ। পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) কানন সরকার জানান, গন্ডগোলের খবর শুনে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। আপাতত দু’পক্ষকে বাসায় না ডুকতে বলা হয়েছে। যেহেতু কোন এক পক্ষ ডুকলে মারপিট হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সন্ধ্যায় দু’পক্ষকে বসে মিটমাট করতে বলেছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com