July 27, 2021, 1:20 am

শিরোনাম :
পেকুয়ায় গৃহবধূকে কুপিয়ে জখম সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫১তম জন্মদিনে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন শাহাদাত হোসেন রনি সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫১তম জন্মদিনে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন সাইদুর রহমান বছরে পানিতে ডুবে মৃত্যু ১৯ হাজার স্কুল ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ৫০ বছরের বৃদ্ধ গ্রেফতার তেঁতুলিয়ায় ইউনিয়ন পর্যায়ে অক্সিজেন ব্যাংকের উদ্বোধন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতার গ্রেফতারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে নওগাঁ স্বেচ্ছাসেবক দলের বিবৃতি পেকুয়ায় এক জেলের লাশ উদ্ধার হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির রেকর্ড নতুন সংগঠন করে আওয়ামী লীগের পদ হারালেন হেলেনা জাহাঙ্গীর
পাওনা টাকা না দেয়ায় জাদু দেখানোর কথা বলে দুই সহকর্মীকে খুন!

পাওনা টাকা না দেয়ায় জাদু দেখানোর কথা বলে দুই সহকর্মীকে খুন!

গাজীপুর সংবাদদাতা

গাজীপুরে পাওনা আড়াই হাজার টাকা না পেয়ে জাদু দেখানের কথা বলে হাত-পা বেঁধে দু’সহকর্মীকে খুন করেছে এক বেকারি শ্রমিক। এ জোড়া খুনের ঘটনায় জড়িত মূল আসামিসহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।

লাশ উদ্ধারের চারদিন পর ক্লুলেস এ জোড়া খুনের রহস্য উন্মোচন এবং নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

রোববার গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ-উত্তর) মো: জাকির হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন।

নিহতরা হলেন, রংপুরের মিঠাপুকুর থানাধীন চাঁদপাড়া গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে মাহমুদুল হাসান (২০) এবং নীলফামারীর ডিমলা থানাধীন সাতনাই কলোনী এলাকার আলম মিয়ার ছেলে মো: রাকিব হোসেন (১৮)। তারা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ি থানাধীন আমবাগ এলাকার শাহানা বেকারীর কর্মচারী।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার কিসমত দূর্গাপুর মধ্যপাড়া এলাকার মুনসুর আলীর ছেলে রাসেল প্রধান (২৫) ও বগুড়ার ধুনট থানার শৈলমারী গ্রামের সাইদুর সরকারের ছেলে মো: সৈকত সরকার (২৪)।

তিনি প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, গত ৭ জুলাই রাতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ি থানাধীন আমবাগ নামাপাড়া বাঘিয়ারচরে আবুল কালামের পরিত্যাক্ত ইটভাটা এলাকায় কচুরীপানা দিয়ে ঢেকে রাখা পানিতে ভাসমান অজ্ঞাত পরিচয়ের দু’ব্যাক্তির অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার করে কোনাবাড়ী থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় ওই থানার এস আই তাপস কুমার ওঝা থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার পর ক্লুলেস ও চাঞ্চল্যকর এ জোড়া খুনের ঘটনায় আভিযানে নামে পুলিশ। অভিযানের একপর্যায়ে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ ঘটনায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে সৈকত সরকারকে (২৪) শনিবার কালিয়াকৈর থেকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে নিহত মাহমুদুল হাসানের মোবাইল জব্দ করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জোড়া খুনের প্রধান হোতা রাসেলকে (২৫) গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে একইদিন রাতে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় নিহতদের দু’টি মোবাইল ফোন গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত খুঁটি ও মাহমুদুলের প্যান্ট বিলের পানির নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। রোববার তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জিএমপি’র পুলিশের উপ-কমিশনার মো: জাকির হাসান আরো জানান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ি থানাধীন আমবাগ এলাকার শাহানা বেকারিতে কাজ করতো রাসেল প্রধান (২৫), মাহমুদুল হাসান (২০) ও মো: রাকিব হোসেন (১৮)। একসাথে কাজ করার কারণে তাদের মাঝে বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয়। প্রায় মাস খানেক আগে রাসেলের কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা ধার নেয় মাহমুদুল হাসান। পাওনা টাকা আদায়ের আগেই স্থানীয় এক প্রভাবশালীর বিবাহিত মেয়েকে নিয়ে এলাকা থেকে পালিয়ে যায় রাসেল। গত কিছু দিন ধরে মোবাইল ফোনে রাসেল পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিলে নানা টালবাহানা করতে থাকে মাহমুদুল হাসান। একপর্যায়ে রাসেলের মোবাইল নম্বরটি ব্লক করে রাখে মাহমুদুল। এতে ক্ষুব্ধ হয় রাসেল। গত ১ জুলাই রাসেল প্রধান পাওনা টাকা আদায়ের জন্য রাসেল গাইবান্ধা থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়িতে আসে। দু’দিন খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি রাসেল। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ রাসেল অপর সহকর্মী রাকিব হোসেনের (১৮) মাধ্যমে মাহমুদুলের সন্ধান পায়। ক্ষুব্ধ রাসেল পরিকল্পনা করে মাহমুদুল ও রাকিবের সাথে বন্ধুত্ব সম্পর্ক গভীর করে বলে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত রাসেল প্রধান জানিয়েছে।

তিনি জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৩ জুলাই সন্ধ্যায় আমবাগ নামাপাড়া বাঘিয়ারচরে বিলের পাড়ের আবুল কালামের পরিত্যাক্ত ইটভাটা এলাকায় মাহমুদুল ও রাকিবের সাথে রাসেল একত্রে আড্ডা দিতে থাকে। এ সময় জাদুর মাধ্যমে টাকা উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে রাসেল প্রথমে রাকিবের হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে মাহমুদুলের দু’হাত বাঁধার পর দু’পা বাঁধার সময় তার সন্দেহ হয়। এ সময় বাঁধা দিলে মাহমুদুলকে টেনে হেঁচড়ে বিলের পানিতে নিয়ে চুবিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে রাসেল। টানা হেঁচড়ার সময় মাহমুদুলের প্যান্ট খুলে গেলে তা বিলের পানিতে ফেলে দেয় রাসেল। হাত-পা বাঁধা রাকিবের সামনেই এ ঘটনা ঘটে। রাকিব এ ঘটনা তার কারখানার মালিকসহ সবাইকে বলে দেয়ার কথা জানায়। এ সময় পাশে পড়ে থাকা একটি সীমানা পিলার (খুঁটি) দিয়ে মাথায়, বুকে ও পিঠে আঘাত করে রাকিবকেও খুন করে রাসেল। পরে সেখানে পানিতে ডুবিয়ে লাশের উপর কচুরীপানা, ঘাস ও লতাপাতা দিয়ে ঢেকে রাখে এবং নিহতদের পকেট থেকে দু’টি মোবাইল ফোন ও ২০০ টাকা নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় রাসেল। পর দিন সকালে তিনি কালিয়াকৈরের চন্দ্রা মোড় এলাকার একটি ভাতের হোটেলের মালিকের ছেলে সৈকতের কাছে এক হাজার ৪০০ টাকায় একটি মোবাইল ফোন (মাহমুদুল হাসানের) বিক্রি করে গাইবান্ধায় গ্রামের বাড়ি চলে যায় রাসেল। গ্রেফতার কৃত রাসেলের কাছ থেকে নিহত রাকিবের এবং সৈকতের কাছ থেকে নিহত মাহমুদুলের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দফতরে এ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠাণে জিএমপি’র উপ-কমিশনার রেজওয়ান আহমেদ, সহকারী কমিশনার সুভাশীষ ধর ও রিপন চন্দ্র সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com