March 6, 2021, 1:24 pm

শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও বুখারি শরিফের শেষ সবক গ্রহণ করলেন কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে ৭ মার্চ এক অবিস্মরণীয় দিন: হান্নান হোসাইন বাবু ঠাকুরগাঁওয়ে লিচুর মুকুলে ছেয়ে গেছে লিচু বাগান টইটং ইউপি নির্বাচনে সাবেক ছাত্রনেতা লিটনকে নিয়ে উন্নয়ন চান আ’লীগ চকরিয়ায় সাংবাদিকের বসতঘরে সন্ত্রাসীদের হামলা ও ভাংচুর, আহত-৩ সিনেটে বিপর্যস্তের পর আস্থাভোটের ডাক ইমরান খানের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের নিয়ে এত বিতর্ক কেন? প্রতিবেশীদের মধ্যে সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত : প্রধানমন্ত্রী খুটাখালীতে আবারও খুন আতঙ্ক, যুবলীগ নেতাসহ আহত ৫ চকরিয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ৩ টি ড্রেজার ও ৫ টি শ্যালো মেশিন জব্ধ
দক্ষিণ সুনামগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আরশ আলীর পরিবার ভিটে বাড়িহীন

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আরশ আলীর পরিবার ভিটে বাড়িহীন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: ১৯৭১ সালের ৭ ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের নাইন্দা নদীর তীরবর্তী আস্তমা গ্রামের ওকোতভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ আরশ আলী। আর তিনি সেদিন ত্যাগ করতে পেরেছিলেন জীবনের মায়া; অংশগ্রহণ করতে পেরেছিলেন আমাদের জাতীয় এই মুক্তিসংগ্রাম আর স্বাধীনতা যুদ্ধে। দুঃখ জনক হল তিনি স্বাধীন বাংলাদেশ দেখে যেতে পারেননি; ১৫ সেপ্টেম্বর, বাবনিয়া যুদ্ধে শহীদ হন। বাবনিয়া গ্রামে আখরা লাগোয়া এই যুদ্ধে সময়টা ছিল তখন আনুমানিক ৫ টা। বলাবাহুল্য আরশ আলী শেষ নিঃশ্বাস টুকু থাকা পর্যন্ত খুব দক্ষতার সাথে সেদিন যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিলেন।

শাহাদাৎ বরনের পর আরশ আলীকে দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া নামক গ্রামে’র দক্ষিণের হাওর তথা আহমদপুর মৌজা নামক টিলাতে সমাহিত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ বছর চলে গেলেও সুনামগঞ্জ জেলার প্রথম শহিদ এই আরশ আলীর পরিবার এখনো রাস্থায়! এখনো অভাব অনটনে দিনাতিপাত করছে এই শহীদ আরশ আলীর পরিবার।

কোন জায়গা জমি না থাকায় এই শহীদ পরিবারের বাস এখন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ হ্যাচারীর পাশে জরাজীর্ণ এক কূড়ে ঘরে। দেশ থেকে সাঁকো বিলীন হলেও তাদের ওখানে আছে একটি।অবহেলা অনাদরে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন তারা। সরকারি অনেক খাস জায়গা প্রভাবশালী রাগব বোয়ালদের অধীনে থাকলেও এই অসহায় শহীদ পরিবারের জন্য এখনো জুটেনি একটুকরো জমি। রাস্থায় রাস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন এই শহিদ পরিবার। তাদের দেখার যেন কেউ নেই! ভিক্ষুকের মত ঘুরছেন মানুষের দুয়ারে দুয়ারে। প্রশাসনের পক্ষথেকেও আজ পর্যন্ত নেয়া হয়নি কোন প্রদক্ষেপ। যে আরশ তার বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এদেশ স্বাধীন করে গেলেন তার পরিবারের এমন অবস্থা বড়ই বেমানান!

শহীদ আরশ আলীর ভাই অসহায় হাশিম আলী জানান, ১৯৭১ সালে আমার ভাই তার তাজা রক্ত দিয়ে এদেশ স্বাধীন করেছে। আর এ দেশে আমরা না খেয়ে, শত কষ্টে দারিদ্রের মধ্যে মরে যাচ্ছি, আমাদের দেখার কেউ নাই।আমরা সবকিছু থেকে বঞ্চিত, সরকারি বেসরকারি কোন প্রকার সাহায্য আমরা পাইনা। দুবেলা দু’মুঠো ভাত ও আমাদের কপালে জুটেনা। আমি বৃদ্ধ মানুষ, কোন কাজ করতে পারিনা। আমার সহজ-সরল ছেলেটা এখন মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে পরিবার চালায়। পরিবারে আমরা ৬ জন মানুষ কি করুন জীবন যাপন করছি কেউই তা কখনো জানতেও চায়নি। তিনি আরও বলেন দেশ তো পেয়েছি, কিন্তু আগে যে কষ্ট করতাম এখনও তাই করি। অভাব তো ছাড়ে নাই। দেশে এখন অনেক ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সরকারী অনেক সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে। কিন্তু আমরা সঠিক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য হয়েও কোন সুযোগ সুবিধা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। ১৯৭১ সালে সম্মুখযুদ্ধে আমার ভাই শহীদ হওয়ার পর গ্রামের কিছু সংখ্যক কুচক্রী মহল আমাদের ঘরবাড়ী ভেঙে ভিটা উচ্ছেদ দেয়। বর্তমানে আমি পরিবারের লোকজনকে নিয়ে রাস্তার পাশে ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। একটি ঘর ও খাসজমি পাওয়ার জন্য বছরের পর বছর উপজেলা নির্বাহী অফিসার থেকে শুরু করে কত জায়গায় যে গিয়েছি কিন্তু কোন কাজ হয়নি। এই বিজয়ের মাসে প্রধানমন্ত্রী সহ দেশবাসীর কাছে একটু খাসজমি সহ একটি বসতঘর পাওয়ার জন্য জোর দাবী জানান আরশ আলীর ভাই আব্দুল হাশিম।

এ ব্যাপারে কথা হলে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মো.ফারুক আহমদ বলেন,উপজেলার মাসিক সমন্বয় মিটিংয়ে এই বিষয়ে আলোচনা করে শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধা আরশ আলীর পরিবারের জন্য খাসজমি সহ একটি ঘরের ব্যবস্থা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com