January 26, 2021, 2:37 am

শিরোনাম :
ঝিনাইদহ জেলা রিপোর্টাস ইউনিটের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি মেডিসিন এবং জেনারেল প্র‍্যাকটিসকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ না দিলে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন সম্ভব নয় ঠাকুরগাঁও গড়েয়ার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহায়তায় রিক্সা ও ভ্যান শ্রমিকদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ রাণীনগরে সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় সাইকেল আরোহী নিহত বোনের কান্না থামাতে দা দিয়ে কোপ মারে বড বোন, ছোট বোনের মৃত্যু! ঠাকুরগাঁওয়ে কে এম বি ব্রিক ভাটায় মোবাইল কোর্ট,১ লাখ টাকা জরিমানা ঠাকুরগাঁওয়ে বাস্কেটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন ও শীতবস্ত্র বিতরণ আলীকদমে ভূমিহীন ও গৃহহীন ৫০ পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান নওগাঁয় পিসরেটের অস্থায়ী কর্মচারীদের চাকুরী স্থায়ী করণের দাবিতে কর্ম বিরতী ও স্মারকলিপি প্রদান ঠাকুরগাঁওয়ে ঘর পেল গৃহহীনরা
ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার তৎপর অবৈধ ক্লিনিক মালিক

ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার তৎপর অবৈধ ক্লিনিক মালিক

আতাউর শাহ্, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর পত্নীতলায় অনুমোদনহীন নজিপুর ইসলামিয়া ক্লিনিক এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার রিসিপসনিস্ট পদে কর্মরত তানিয়া আকতার মিমকে (২০) ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে ক্লিনিকের মালিক এসএম নাজিম উদ্দিন বাবুর বিরুদ্ধে। এ হত্যার ঘটনাটি আত্নহত্যা বলে থানা ওসি শামছুল আলমের সহযোগিতায় জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে নিহতের পরিবার অভিযোগ করেন। ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনাটি সুষ্ঠ তদন্ত ও এর সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ ঘটনায় ক্লিনিকের মালিক এসএম নাজিম উদ্দিন বাবু (৫০), তার স্ত্রী মোমেনা বেগম(৪০) ও ভাতিজা রকিকে (২৮) আসামী করে বুধবার নওগাঁ মোকাম বিজ্ঞ ৪নং আমলী আদালতে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া করেছেন মিমের বাবা মিজানুর রহমান। এসএম নাজিম উদ্দিন পত্নীতলা উপজেলার কাঞ্চন দক্ষিণপাড়ার গ্রামের মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে।

গত ১৮ নভেম্বর বুধবার সকালে তানিয়া আকতার মিমের অনুমোদনহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একটি ঘর থেকে শরীরে শুধুমাত্র একটি কালো ওর্ণা মোড়ানো অবস্থায় বিবস্ত্র অবস্থায় অর্ধ-ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত মিম জেলার ধামইরহাট উপজেলার মইশড় গ্রামের ভ্যান চালক দরিদ্র মিজানুর রহমানের মেয়ে। তিনি ধামইরহাট সরকারি এমএম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাবার পাশাপাশি সংসারের হাল ধরতে তানিয়া গত এক বছর আগে নজিপুর ইসলামিয়া ক্লিনিক এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার রিসিপসনিস্ট পদে যোগদান করেন। মিম সুন্দরী হওয়ায় ক্লিনিকের মালিক এসএম নাজিম উদ্দিন বাবুর কুদৃষ্টি পরে। নাজিমের কুদৃষ্টি থেকে নিজকে বাঁচাতে চাইলে তাকে চাকুরি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। কয়েকবার মিম তার নিজ বাড়িতে চলে গেলেও মালিক নাজিম মোবাইল ফোনে চাপ দিয়ে জোর করে ক্লিনিকে আসতে বাধ্য করেন। ক্লিনিকের নীচ তলার একটি ঘরে মিম তার সহকর্মী মাকসুরার সাথে থাকতেন। তবে ঘটনার দিন মঙ্গলবার তাঁর সহকর্মী ছুটিতে থাকায় রাতে মিম একাই ছিলেন। ওই রাতেই নাজিমের লালসার শিকার হন মিম।

মিমের মা সম্পা বেগম জানান, মিম গ্রামের বাড়ি এলেই ক্লিনিকের মালিক নাজিম উদ্দিন বাবু বারবার মোবাইল করে জোর করে ক্লিনিকে নিয়ে যেতেন। মিমের সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরী করে নাজিম উদ্দিন ধর্ষণ করে তাকে শ্বাস রোধে হত্যা করেছে। এরপর নাজিমের স্ত্রী মোমেনা বেগমসহ তার লোকজন ফ্যানের সাথে ওর্ণা দিয়ে ঝুলিয়ে রেখে পুলিশের সহযোগিতায় আত্নহত্যা বলে প্রচার করে। মিমের গলাসহ একাধিক স্থানে আঘাতের কালো দাগ রয়েছে।

নিহত মিমের বাবা মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার রাতে ক্লিনিকে মিম একাই থাকার সুযোগে ক্লিনিকের মালিক নাজিম উদ্দিন ধর্ষণের পর তার লোকজন হত্যা করে ফ্যানের সাথে অর্ধ-ঝুলিয়ে রাখে। ধর্ষণের পর হত্যার মামলা করতে গেলেও থানার ওসি শামছুল আলমসহ পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের সাথে র্দুব্যবহার করে হত্যা মামলা বলে জোর করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করে নিয়েছেন।

তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, মিম ঘরের মধ্যে মারা যাওয়ার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থালে গেলেও পুলিশ কর্তরা তাদের মেয়ের মৃতদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে দেয়নি। নিহতের ছবিতে দেখা যাচ্ছে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় রাখা হলেও মিমের দুই পা ঘরের মেঝের সাথে দেড় ফিট ঠেকে ছিল। তাহলে কিভাবে মারা যায়? তিনি আরো অভিযোগ করেন, মিমকে হত্যারপর ক্লিনিকের মালিক নাজিম উদ্দিন বাবু মঙ্গলবার রাতেই থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেন। এরপর মোটা অংকের টাকা ঘুষের বিনিময়ে থানা পুলিশের কর্তারা ঘটনাস্থলে নিহত মিমের কাছে তাকে যেতে দেয়নি। এরপর আত্মহত্যা বলে প্রচারণা শুরু করেন।

এদিকে মিমকে ধর্ষণ করে হত্যার প্রতিবাদ ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শনিবার দুপূরে ধামইরহাট উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধামইরহাট সরকারি এমএম কলেজ শিক্ষার্থী রাজু ইসলামের নেতৃত্বে শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক-অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুব লীগের সভাপতি জাবিদ হোসেন মৃদু, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন, তানিয়া আকতার মিমের মা শম্পা বেগম, চাচাতো বোন সাদিয়া সুলতানা, উপজেলা ছাত্র লীগের সভাপতি আবু সুফিয়ান হোসাইন, কলেজ ছাত্র লীগের সভাপতি মাসুদ রানা ফারুক, ছাত্রনেতা মাহবুব আলম রাজ প্রমুখ।#

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com