December 12, 2019, 9:40 pm

গুজব: ১০ কেজি লবণ কিনে তিন ঘণ্টা পরই ফেরত দিলেন গৃহবধূ

গুজব: ১০ কেজি লবণ কিনে তিন ঘণ্টা পরই ফেরত দিলেন গৃহবধূ

বরিশাল প্রতিনিধি: মঙ্গলবার সকাল থেকেই লবণের দাম বৃদ্ধির গুজবে কান দিয়েছিলেন অনেকেই। গুজবকে বিশ্বাস করে একসঙ্গে ১০ কেজি লবণ কিনেছিলেন সাহিদা বেগম নামের বরগুনার এক বাসিন্দা।

তবে বিষয়টি যে গুজব তা জানার পরপরই সেসব লবন দোকানে গিয়ে ফেরত দিয়ে আসেন।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বরগুনার বেতাগী উপজেলার গলাচিপা বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শুধু তিনিই নন আরও অনেককেই লবণ ফেরত দিতে বাজারের বিভিন্ন দোকানে ভিড় জমিয়েছেন বলে জানা গেছে।

লবণের দাম ২০০ টাকা ছাড়িয়ে যাবে এমন গুজব শুনে মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে গৃহবধূ সাহিদা বেগম দৌড়ে গিয়ে গলাচিপা বাজারে আবদুল মজিদের দোকান থেকে ১০ কেজি লবণ কিনে বাড়ি নিয়ে যান।

পরে লবণের সংকট এবং দাম বৃদ্ধির বিষয়টি গুজব বুঝতে পেরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মজিদের দোকানে এসে লবণের সব প্যাকেটই ফেরত দিয়ে যান। ব্যবসায়ী মজিদও তাকে নিরাশ করেনি। ১০ কেজি লবণ ফেরত নেন ওই দোকানি।

গৃহবধূ সাহিদা বেগম বলেন, পেঁয়াজের মতো লবণের দামও বেড়ে যাবে প্রতিবেশীদের কাছে এমন কথা শুনে তড়িঘড়ি করে ৩০০ টাকা দিয়ে ১০ কেজি লবণ কিনি। কিন্তু আমার ছেলে শাহিদ জানায়, এটা নিছক গুজব। এভাবে লবণ কিনে ঘরে মজুত করে ফেলা উচিত নয়। তখনই আমি দোকানে সব লবন ফেরত দিয়ে আসি। দোকানি মজিদও লবণ ফেরত নিয়েছেন।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ী আবদুল মজিদ বলেন, আজ হঠাৎ করেই গলাচিপা বাজারে লবণের চাহিদা বেড়ে যায়। অনেক মানুষ বেশি পরিমাণে লবণ কিনে নিয়ে যান। তাদের মধ্যে সাহিদা বেগমও ছিলেন। বিকেলে ১০ কেজি লবণ কেনার পর সন্ধ্যায় আবার ফেরত দিয়ে গেছেন। তবে এভাবে যদি সবাই লবণ ফেরত নিয়ে আসেন তাহলে আমি ব্যাবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হব। আমি কারও কাছে বেশি দাম রাখিনি।

এদিকে লবণের দাম বৃদ্ধির গুজব প্রতিহত করতে জেলা ও উপজেলায় মাঠে নেমেছে পুলিশ সদস্যরাসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। এ বিষয়ে মাইকে প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা।

গুজব রটানোর সঙ্গে জড়িতদের পাকড়াও করছেন।

এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মস্তাইন বিল্লাহ বলেন, গুজব প্রতিরোধ করে সঠিক বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য আমরা মাঠে নেমেছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকায় প্রচারণা চালাতে বলেছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2019 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com