December 10, 2019, 9:31 pm

শিরোনাম :
আজগর আলী মানিক “সেভ দ্য ফিউচার ফাউন্ডেশনের” উপদেষ্টা মনোনীত ‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে অসত্য সংবাদ দিচ্ছে বিএসএমএমইউ’ পঞ্চগড়ে দুই মোটরবাইক সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত সিংড়ায় পানিতে ডুবে দুই শিশু মূত্যু চকরিয়ায় আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরােধী দিবস উদযাপন উপলক্ষে র‌্যালি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত পাবনা চাটমোহরে মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত যশোরে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাত এক ছাত্রলীগ কর্মী খুন জঙ্গিরা গ্রেফতার হচ্ছে, সংশোধন হচ্ছে না: আইজিপি ‘জাতিগত নিধনে’ মিয়ানমারের বিচার শুরু আজ ডিসেম্বরেও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে না ৩১ বীমা কোম্পানি
৫ দফা দাবি মেনে বুয়েটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আন্দোলন আপাতত স্থগিত

৫ দফা দাবি মেনে বুয়েটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আন্দোলন আপাতত স্থগিত

ডিএন২৪ ডেস্কঃ শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে শনিবার নোটিশ জারি করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীরা তাদের চলমান আন্দোলন আপাতত স্থগিত ঘোষণা করেছেন। শনিবার (১২ অক্টোবর)  বুয়েটের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত পাঁচটি পৃথক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. মো. সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত পাঁচ নোটিশে সাংগঠনিক রাজনীতি নিষিদ্ধ, আবাসিক হলের অবৈধ বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা ও ক্যাম্পাসে ছাত্র সংগঠনগুলোর কার্যালয় সিলগালা করে দেয়ার ঘোষণা দেয় বুয়েট। সেই সাথে শিক্ষার্থীরা যাতে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ জানাতে পারে সে জন্য ওয়েবসাইট চালুর ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

বুয়েট কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার অভিযোগপত্র জমা দেয়ার পরই এতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে।

এছাড়া, মামলা পরিচালনার ব্যয় বহন ও হলগুলোর প্রতিটি তলায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি মেনে নিয়ে এ ঘোষণাগুলো আসার পর বেলা পৌনে ৩টার দিকে আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি স্থগিত করেন।

তবে পাঁচদফা দাবি মেনে নিলেও এখনো ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে সমঝোতা হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘১৪ অক্টোবরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে আমরা পুনরায় আন্দোলনে যাব।’

গত ৬ অক্টোবর দিবাগত মধ্যরাতে বুয়েটের সাধারণ ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবরার ফাহাদকে শেরে-ই বাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান।

৭ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন ছিল।

আবরার ফাহাদ বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (ইইই) বিভাগের লেভেল-২ এর টার্ম ১ এর ছাত্র ছিলেন। তিনি শেরে বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। তার বাড়ি কুষ্টিয়া শহরে। কুষ্টিয়া জেলা স্কুলে তিনি স্কুলজীবন শেষ করে নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।

দাবিগুলো হলো-

১. আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে এখনই সাময়িক বহিষ্কার করতে হবে। যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট হবে, তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে মর্মে বুয়েট প্রশাসন থেকে নোটিস জারি করতে হবে।

২. আবরার হত্যা মামলার সব খরচ বুয়েট প্রশাসন বহন করবে এবং তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাধ্য থাকবে, সেটাও নোটিসে লেখা থাকবে।

৩. বুয়েটে সাংগঠনিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করে সকল হল থেকে অবৈধ ছাত্র উৎখাত করতে হবে। অবৈধভাবে হলের সিট দখলকারীদের উৎখাত করতে হবে। সাংগঠনিক ছাত্র সংগঠনগুলোর অফিস রুম সিলগালা করতে হবে।

সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের পর ভবিষ্যতে কেউ যদি এ রকম সাংগঠনিক কার্যক্রমে জড়িত হয় কিংবা কোনো রকম ছাত্র নির্যাতনে জড়িত হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেবে- তা বিস্তারিত জানিয়ে নোটিস জারি করতে হবে। পরবর্তীতে এটি যে অর্ডিন্যান্সে অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তা নোটিসে উল্লেখ থাকতে হবে। পাশাপাশি, এধরনের কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি কমিটি করতে হবে এবং কমিটি গঠনের বিষয়টিও নোটিসে উল্লেখ করতে হবে।

৪. বুয়েটে পূর্বে ঘটে যাওয়া সকল ছাত্র নির্যাতন, হয়রানি, র‌্যাগিংয়ের ঘটনা এবং ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা প্রকাশের জন্য বিআইআইএস অ্যাকাউন্টে একটি কমন প্ল্যাটফর্ম থাকতে হবে। বিষয়টি মনিটরিংয়ের মাধ্যমে শাস্তি বিধানের জন্য একটি কমিটি থাকতে হবে। বিষয়টি নোটিসের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।

৫. প্রত্যেক হলের সকল ফ্লোরের দুই পাশে সিসি ক্যামেরা যুক্ত করতে হবে এবং এই সিসিটিভি ফুটেজ সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে- এই মর্মে নোটিস আসতে হবে।

ছাত্রলীগের নৃশংসতার শিকার হয়ে গত ৬ অক্টোবর দিবাগত মধ্যরাতে বুয়েটের ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ (২১) নিহত হন। এ ঘটনায় আবরারের বাবা বরকতউল্লাহ ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় এ পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2019 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com